Monday, January 12, 2026

রাজ্যের করোনা-যুদ্ধে কোনও গঠনমূলক পরামর্শ ছাড়াই ফের টুইট যুদ্ধে রাজ্যপাল

Date:

Share post:

শুক্রবারই মুখ্যমন্ত্রী দলের জেলার নেতাদের বলেছেন, ‘রেশন নিয়ে ‘বেয়াদপি’ বরদাস্ত করা হবে না৷’ বিরোধীদের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রচারে নামতে জেলা সভাপতিদের নির্দেশও দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷

ওদিকে, শুক্রবারই রাজ্য বিজেপি’র নেতারা ফের রাজ্যপালের কাছে গিয়ে অনেক নালিশ জানিয়ে এসেছেন৷

বিজেপি’র দেওয়া ‘তথ্য’ হাতে পেয়ে তাই আর দেরি না করে শনিবার সকাল সকালই ফের টুইট-যুদ্ধে নেমে পড়লেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়৷

এদিন টুইট করে ফের রাজ্যের রেশন ব্যবস্থা নিয়ে সরব হলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। রাজ্যের রেশন ব্যবস্থাকে রাজনীতি মুক্ত করার আবেদন জানিয়ে টুইট করেছেন তিনি৷ বাংলাতেই পরপর দুটি টুইট করেন রাজ্যপাল৷

প্রথমটিতে বলেছেন,
“আপনার রাজ্যপাল
আপনার সেবক
প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনার মাধ্যমে 4,78,000 মেট্রিক টন চাল বিনামূল্যে কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গকে দিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় সরকার বিনামূল্যে রেশন দিচ্ছেন: জনপ্রতি মাসিক 5 কেজি চাল এবং পরিবারপ্রতি মাসিক 1 কেজি ডাল৷”

দ্বিতীয় টুইটে বলেছেন,

“আপনার রাজ্যপাল
আপনার সেবক
পিডিএসকে রাজনীতির বন্ধন থেকে মুক্ত করতে হবে;আধিকারিকদের অরাজনৈতিকভাবে কাজ করতে হবে; অবৈধ মজুতদারদের আটকাতে এবং কালোবাজারি হাঙ্গরদের তাড়াতে হবে;
গরিব মানুষ যাতে সঠিক মাত্রায় সঠিক গুনমানের রেশন বিনামূল্যে ন্যায্যভাবে পান তা নিশ্চিত করুন৷”

রাজ্যের রেশন ব্যবস্থা নিয়ে গত সপ্তাহ থেকেই একের পর এক এক টুইট করে চলেছেন রাজ্যপাল৷
রেশন ব্যবস্থা নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি৷ মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতেও রেশন ব্যবস্থাকে রাজনীতিমুক্ত করার কথা বলেছিলেন রাজ্যপাল।

প্রশাসনের তরফে এ সব টুইটের উত্তর দেওয়া হয়নি৷ বরং রাজ্যপাল তথা বিজেপিকে কার্যত সতর্ক করে শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের জেলার নেতাদের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ ধরনের প্রচারের প্রতিবাদে পাল্টা পথে নামার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন,”রেশন নিয়ে বিজেপি পরিকল্পিতভাবে ‘ভুল’ বোঝাচ্ছে৷ ঠিক বোঝানোর জন্য এখনই দলীয় নেতাদের সক্রিয় হতে হবে৷ করোনা- সংকটকালে বিজেপি নেতারা রাজ্যের মানুষের জন্য কিছুই করতে পারেননি এবং তাঁরা জনসাধারণের থেকে অনেক দূরে সরে গিয়েছেন৷ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলেই বিজেপি এখন রেশন নিয়ে ‘মিথ্যা প্রচার’ চালিয়ে সরকারকে হেয় করতে চাইছে, সে চেষ্টা সফল হতে দিলে চলবে না৷ জোরদার প্রচারে নেমে বলতে হবে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারই সবচেয়ে ভাল মানের চাল দিচ্ছে৷ রাজ্য সরকারই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষকে রেশন দিচ্ছে এবং কেন্দ্র কিছুই দেয়নি৷”

রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী দলীয় নেতাদের এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এখনই প্রচারে নামার নির্দেশ দেওয়ায় বিজেপি এবং রাজ্যপাল কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছে৷ তাই ‘চাপ’ কাটাতে রাত কাটতেই রাজ্যপালের এই টুইট যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ৷ রাজ্যপাল ফের টুইট অথবা পত্রযুদ্ধের পথেই নামতে পারেন বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারনা৷

spot_img

Related articles

আইন রক্ষায় নিহত বাবা, তাঁরই ছেলে প্রতারণায় জেলে!

দু’দশক আগে এক বর্ষবরণের রাতে তিলোত্তমার বিবেক জাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এক অপরিচিতা তরুণীর সম্মান বাঁচাতে মদ্যপ সহকর্মীদের সামনে...

IND vs NZ: নতুন বছরে বিরাটের ব্যাটিং বিক্রম, জয়ের মধ্যেও থাকল উদ্বেগের ছায়া

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম একদিনের ম্যাচে ৪ উইকেটে জিতল ভারত। ২০২৫ সালেযেখানে শেষ করেছিলেন ২০২৬ সাল সেখান থেকেই শুরু...

সোমে মিলনমেলায় ডিজিটাল যোদ্ধাদের সঙ্গে বৈঠকে অভিষেক

বাংলা বহিরাগত জমিদারদের হাতে অপমানিত, লাঞ্ছিত। সেই বাংলাবিরোধীদের মিথ্যা ও অপপ্রচারের মোকাবিলায় তৃণমূল ময়দানে নামিয়েছে ডিজিটাল যোদ্ধাদের। ডিজিটাল...

অনুপ্রবেশকারী খুঁজবে AI! নির্বাচনে নতুন গ্যাঁড়াকল শিণ্ডে-ফড়নবিশ জোটের

ভোটের আগে ফের মাথা চাড়া দিচ্ছে মানুষের উপর নজরদারি আর হয়রানির রাজনীতি। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নতুন অ্যাপ ব্যবহার...