Wednesday, June 10, 2026

মুকুল চ্যাপ্টার ক্লোজড করেও স্বস্তি নেই, দিল্লিতে উত্তপ্ত বঙ্গ বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠক

Date:

Share post:

অনেক জল্পনা-কল্পনার মধ্যে দিয়ে বিজেপিতে মুকুল রায় চ্যাপ্টার আপাতত ক্লোজড। তাঁর “বিজেপিতে ছিলাম-আছি-থাকবো”, এখন হিমঘরে। ২০১৭ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার কয়েক ঘন্টা আগেও মুকুলবাবু মিডিয়ার সামনে এই একই কথা আউড়ে ছিলেন। তখনও বলেছিলেন, “তৃণমূলে ছিলাম-আছি-থাকবো”! সুতরাং, রাজনৈতিক মহলে তাঁর এই দ্বিচারিতাকে কেউই বিশেষ পাত্তা দিচ্ছেন না। যেমন তাঁর পুত্র শুভ্রাংশু রায় বিজেপি যোগ দেওয়ার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত বলেছিলেন, “জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমার নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রয়োজনে রাজনীতি ছেড়ে দেবো, কিন্তু অন্য কোনও দলে যোগ দেব না।” বাবা-ছেলের সেই দ্বিচারিতার স্মৃতি এখনও রাজ্য রাজনৈতিক মহলে টাটকা। খুব স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য রাজনীতিতে পিতা-পুত্রের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হয়েছে। এ নিয়ে কেউই আর বেশি মাথা ঘামাচ্ছেন না।

তবে এরই মাঝে দিল্লিতে রাজ্যের নির্বাচনী কৌশলী বৈঠক নিয়ে ফের বিজেপির অন্তর্কলহ প্রকাশ্যে এলো। সংশ্লিষ্ট মহল থেকে পাওয়া একাধিক সূত্র বলছে, রাজধানী শহরে বঙ্গ বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ ওই বৈঠকে একাধিক নেতা দলের মধ্যেকার কলহের অভিযোগ তুলে নাকি ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন দিল্লির জাতীয় নেতাদের সামনে। শুধু তাই নয়, বাংলায় বিভিন্ন উপনির্বাচন-সহ স্থানীয় ভোটে বিজেপির খারাপ ফলের পেছনে দলের অন্তদ্বন্দ্বকেই দায়ী করেন। এ নিয়ে বিজেপি নেতাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় বলেও খবর মিলছে বিভিন্ন সূত্র মারফৎ।

এদিকে আজ, মঙ্গলবার দিল্লির বৈঠক শেষে শহরে ফেরেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। দমদম বিমান বন্দরে দিল্লির বৈঠক নিয়ে রাজ্য বিজেপির সভাপতি বলেন, দলের অভ্যন্তরীণ একাধিক বিষয় নিয়ে বৈঠক ছিল। সাংগঠনিক বিষয়ের ওপরে ১৪০টি বিধানসভা ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অগাস্ট-এ পরের রাউন্ডে বাকিটা আলোচনা ও বিশ্লেষণ হবে। এরপর রিভিউ মিটিং হবে।

শহরে ফিরে রাজ্য বিজেপির আরেক শীর্ষ নেতা জানান, ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে তাঁরা ১৪০টি আসন নিয়ে আলোচনা করেছেন দিল্লির নেতাদের সঙ্গে। বাকি আসনের আলোচনা আগামী মাসের ১১ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত হবে। আসনের বিচারে যা অর্ধেকেরও কম। তা নিয়েই যদি সিদ্ধান্তে পৌঁছতে হিমশিম খেতে হয় বঙ্গ বিজেপিকে, তাহলে আগামীর পর্যালোচনায় যে তাঁরা ডাহা ফেল করবেন, তা অনুমান করার জন্য কোনও রাজনৈতিক বোদ্ধা হওয়ার প্রয়োজন হয় না।

তবে বঙ্গ বিজেপির ম্যানেজাররা কলকাতায় ফিরে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে যাই বলুন না কেন, তাঁদের শরীরী ভাষায় স্পষ্ট হয়েছে আত্মবিশ্বাসের অভাব। একইসঙ্গে দিল্লির বৈঠকে দলীয় কোন্দলের কথা চাপা দেওয়ার একটা প্রবল প্রচেষ্টা লক্ষণীয় ছিল তাঁদের মধ্যে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই ঘটনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

Related articles

বাড়ি ঢুকে হেনস্থা: ত্রাণ দুর্নীতিতে গ্রেফতার প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস

সাম্প্রতিক সময়ে একে পর এক তৃণমূল নেতৃত্বের গ্রেফতারি। তার মধ্যে এবার আরও এক প্রাক্তন মন্ত্রীকে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার।...

প্রস্তুতি ২০২৯-এর: দীর্ঘ বৈঠকে সোনিয়া-মমতা

ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের পরে জোটের দুই গুরুত্বপূর্ণ শরিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। দিল্লিতে সোনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi)...

বেলডাঙার অশান্তি: এনআইএ তদন্ত নিয়ে রাজ্যের অবস্থান জানতে চাইল হাইকোর্ট 

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় পরিযায়ী শ্রমিকের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যে অশান্তির বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল, সেই ঘটনার তদন্তভার কি কেন্দ্রীয়...

এবার নবান্ন! ক্ষমতায় এসেই শুরু গৈরিকীকরণ

বাংলায় তৃণমূল সরকারের সময়ে একের পর এক কেন্দ্রীয় প্রকল্প রং রাজনীতির শিকার হয়েছিল। যার ফলে বঞ্চিত হয়েছেন বাংলার...