Monday, March 16, 2026

জীবন বদলে দেওয়া স্বামীজীকে ‘বাবা’ বলে ডাকতেন বিখ্যাত ফরাসি গায়িকা কাল্ভে

Date:

Share post:

স্বামী বিবেকানন্দ(Swami Vivekananda)। এ নাম শুধু ভারতবর্ষ(India) নয় সীমান্তের কাঁটাতার পেরিয়ে গোটা বিশ্বে তিনি এক মহান সন্ন্যাসী। সমস্ত সীমা অতিক্রম করে কট্টরপন্থার বাইরে বেরিয়ে হিন্দু ধর্মকে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন উদারতার অন্যতম নিদর্শন হিসেবে। দেশ তো বটেই পৃথিবীর বহু মানুষ মুগ্ধ হয়েছিল তাঁর জ্ঞান-দর্শনে। মাত্র ৩৯ বছরের জীবনে গোটা বিশ্ব মাঝে তিনি জ্বালিয়েছেন জ্ঞানের আলো। সেই আলোয় আলোকিত হতে তাঁর কাছে দেশ-বিদেশ থেকে ছুটে আসতেন বহু মানুষ। তেমনি একজন ছিলেন তৎকালীন ফরাসি গায়িকা মাদাম এমা কাল্ভে(madame emma calve)।

সালটা ১৮৯৪ সালের মার্চ মাস‌। খ্যাতির সর্বোচ্চ শিখরে থাকা এমা কাল্ভে একটি মেট্রোপলিটন অপেরা কোম্পানির সঙ্গে শিকাগো এসেছিলেন। খ্যাতি ছিল ঠিকই কিন্তু তাঁর বাস্তবিক জীবন ছিল পুরোমাত্রায় বিশৃংখল। অত্যন্ত বদমেজাজি, একগুঁয়ে এবং ভোগী ক্লাভের জীবনে শান্তি ছিল না। স্বামী বিচ্ছিন্ন এই গায়িকার জীবনে ঘটে যায় আরও একটি দুর্যোগ। শিকাগোতে আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় তার একমাত্র কন্যার। এরপর আত্মহত্যাপ্রবণ হয়ে পড়েন কাল্ভে। এই সময় শিকাগোতে ছিলেন স্বামীজি। কাল্ভের এক বন্ধু সেই সময় কাল্ভেকে স্বামী বিবেকানন্দের কাছে নিয়ে যেতে চাইলে তিনি যেতে রাজি হননি। বরং চারবার আত্মহত্যার চেষ্টা করে বিফল হন। এরপর দৈবাৎ তাঁর মতিভ্রম ঘটে একদিন ভোরে স্বামীজি যেখানে ছিলেন সেই বাড়িতে এসে উপস্থিত হন তিনি। ডাক আসে তাঁর।

আরও পড়ুন:‘আয়ুষ্মান’ নয়, ‘স্বাস্থ্যসাথী’-তেই আস্থা দিলীপ ঘোষের পরিবারের

যে ঘরে স্বামীজি বসে ধ্যান করছিলেন সেখানে প্রবেশ করেন তিনি। নিশ্চুপ এক প্রশান্তির পরিবেশ তখন সেই ঘরে। কিছুক্ষণ পর চোখ না তুলেই স্বামীজি বললেন, ‘বাছা, কী ঝোড়ো হাওয়াই না তুমি নিয়ে এলে। শান্ত হও।’ তারপর অতি শান্তস্বরে মাদামের জীবনের গোপন জটিলতা, উদ্বেগ সম্বন্ধে বহু কথা বলতে লাগলেন, যে সব কথা মাদামের ঘনিষ্টতম বন্ধুরাও কোনওদিন জানত না।’ কাল্ভের কাছে তখন যা ঘটছে তা সবটাই অলৌকিক। রীতিমত অবাক হয়ে তিনি প্রশ্ন করে বসেন, ‘আপনি এত কিছু জানলেন কি করে? কে আপনাকে এত সব বলেছে? স্বামীজি মৃদু হেসে তাঁর দিকে তাকালেন, যেন ছোট্ট শিশুর মত প্রশ্ন করেছে সে। তারপর বলেন, ‘কেউ আমাকে কিছু বলেনি। আমি খোলা বইয়ের মত তোমার ভেতরটা পড়তে পারি।’ স্বামীজি তাকে বলেছিলেন, ‘চুপ করে বসে শুধু দুঃখের কথা ভেবোনা। তোমার আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্যের জন্য এটা দরকার। তোমার শিল্পকলার জন্যও।’

সেদিন স্বামীজীর কথায়, তাঁর পরামর্শে, তাঁর ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়ে বিদায় নিয়েছিলেন মাদাম এমা কাল্ভে। পরবর্তীকালে স্বামীজীকে তিনি সম্বোধন করতেন ‘মঁ পেরে’ বলে। ফরাসি এই শব্দের বাংলা অর্থ আমার পিতা। এরপর থেকে স্বামীজীর সুস্থ হয়ে ওঠেন কাল্ভে। পরে স্বামীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ভারতের মাটিতেও পা রাখেন তিনি।

Advt

spot_img

Related articles

ঝুলে ৬০ লক্ষ নাম, দ্রুত ভোটার তথ্যের জট কাটাতে তৎপর কমিশন 

রাজ্যে এখনও বিবেচনাধীন তালিকায় ঝুলে রয়েছে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম। তবে সেই সংখ্যা দ্রুত কমানোর উদ্যোগ নেওয়া...

আরসিবির স্বস্তি, বিরাটদের জন্য চিন্নাস্বামীর দরজা খুলে দিল কর্নাটক সরকার

আইপিএল(IPL) শুরুর আগেই স্বস্তিতে আরসিবি (RCB)। অনিশ্চয়তার পর অবশেষে বিরাট কোহলিদের চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে আইপিএল(IPL) ম্যাচ আয়োজনের অনুমতি দিল...

হাইকোর্টে নওশাদ, SIR সম্পূর্ণ না হওয়ায় ভোট পিছোনোর দাবি বিধায়কের

রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন, এই অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই...

সর্বদলীয় বৈঠকে তৃণমূলের প্রশ্নের মুখে CEO! অনিশ্চিত ‘বিচারাধীন ভোটার’দের ভবিষ্যৎ

ভোটের দামামা বাজছে রাজ্যজুড়ে (West Bengal Election 2026)। ১৫ মার্চ ঘোষণা করা করা হয়ছে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের সূচি।...