সদ্য পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত শিশু সাহিত্যিক নারায়ণ দেবনাথ অসুস্থ। ভর্তি রয়েছেন বেলভিউ হাসপাতালে। সময় পেলেই হাসপাতালের বেডে বসেই তিনি এঁকেছেন ‘বাটুল’কে।

রেচনতন্ত্রের সমস্যা নিয়ে গত ২৯ জানুয়ারি মিন্টো পার্কের বেলভিউ নার্সিংহোমে ভর্তি হন নারায়ণ দেবনাথ। তাঁর শরীরে কমে গিয়েছিল সোডিয়াম পটাশিয়ামের মাত্রা। সেই থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। তাঁর চিকিৎসার জন্য গঠন করা হয় মেডিকেল বোর্ডও। ৬ বছর আগে পেসমেকার বসেছে তাঁর। ফুসফুসের কার্যক্ষমতাও আর আগের মতো নেই। ফলে যেকোনও ধরণের সংক্রমণে তিনি আরও কাবু হয়ে যাবেন, এটা ভেবে চিকিৎসকেরা নারায়ণ দেবনাথকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে না রেখে সাধারণ একটি কেবিনে রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

৯৭ বছর বয়সী শিশু সাহিত্যিক নারায়ণ দেবনাথের চিকিৎসার দায়িত্বে রয়েছেন ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ সমরজিৎ নস্কর। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ‘এই বয়সে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হতেই পারে, এটাই স্বভাবিক।’ তবে তাঁকে বাড়িতে পাঠানোর আগে চিকিৎসকরা তাঁর মস্তিষ্কের পরীক্ষা করেন। তাঁকে ডাক্তাররা কাগজ-কলম দিয়ে বলেন, তাঁর সৃষ্টি করা যেকোনও একটি চরিত্রের ছবি আঁকতে। শিশু সাহিত্যিক নারায়ণবাবু ১০ মিনিটের মধ্যে এঁকে ফেলেন হাসি হাসি মুখ ‘বাটুল দি গ্রেট’ -এর ছবি। এই দেখে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত চিকিৎসকেরা। চিকিৎসক সমরজিৎ নস্কর জানান, ‘পরীক্ষায় একশোতে একশো পেয়েছেন রোগী।’ হাতে আঁকা ছবিটি চিকিৎসক সমরজিৎ নস্করের মেয়েকে উপহার দিয়েছেন নারায়ণবাবু। চিকিৎসকেরা জানান, তাঁকে দু-তিনদিনের মধ্যেই হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন-ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী থাকল হায়দরাবাদ, মেট্রোতে ৩০ মিনিটে হৃদযন্ত্র পৌঁছল হাসপাতালে

