Monday, April 6, 2026

কোভিডে পুত্রহারা ইয়েচুরিকে ব্যঙ্গ এই বিজেপি বিধায়কের! নিন্দার ঝড়

Date:

Share post:

এই নাকি পার্টি উইথ ডিফারেন্স! কোভিডে (covid) অকালমৃত পুত্রের শোকে স্তব্ধ এক বাবাকে যে রুচিহীন আক্রমণে বিদ্ধ করলেন বিহারের এই বিজেপি নেতা (bjp leader), তা থেকে মোদির দলের নেতাদের রাজনৈতিক শিক্ষা, রুচি, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ সম্পর্কে ধারণা করা যায়। আশ্চর্যের হল, নেটমাধ্যমে ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড়ের মুখে তথাকথিত বীরপুঙ্গবটি নিজের টুইটটি মুছে ফেললেও বিজেপি নেতাদের মুখে এই আচরণের নিন্দা শোনা যায়নি। এই বিজেপিই নাকি আবার সোনার বাংলা গড়বে!

বৃহস্পতিবার ভোরে কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মারা যান সিপিএম সাধারণ সম্পাদক ও প্রাক্তন সাংসদ সীতারাম ইয়েচুরির (sitaram yechury) ৩৫ বছরের ছেলে আশিস ইয়েচুরি। মৃত্যুর খবর জানিয়ে সংক্ষিপ্ত টুইটে সিপিএম নেতা লিখেছিলেন, যেসব ডাক্তার-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মী তাঁর পুত্রের প্রাণ বাঁচাতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে গিয়েছেন তাঁদের আন্তরিক ধন্যবাদ। অতিমারিতে প্রিয় সন্তানকে অকালে হারিয়েও কারুর প্রতি বিদ্বেষ, সমালোচনা পোষণ করেননি ইয়েচুরি। লিখেছেন, বিকুকে শেষ বিদায় জানিয়ে এলাম… কঠিন সময়ে যাঁরা পাশে ছিলেন তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ। চরম ব্যক্তিগত শোকের মুহূর্তেও এক রাজনৈতিক নেতার এই সৌজন্য, পরিমিতিবোধ, শিষ্টাচারের গভীরতা অনুধাবন করা কোনও বানরসেনার কম্ম নয় বলাই বাহুল্য!

তাই এই খবর জানার পর বিহারের এক বিজেপি নেতা যা করলেন তা নিয়ে দিনভর উত্তাল হল সমাজমাধ্যম। সীতারাম ইয়েচুরির পুত্রের মৃত্যুসংবাদ নিয়ে বিহারের সীতামারির বিধায়ক মিথিলেশ কুমার তেওয়ারি (mithilesh kumar tiwari) ব্যঙ্গের সুরে টুইট করেন,” চিনের এক সমর্থকের (supporter of china) ছেলে চিনা করোনায় (chinese corona) মারা গিয়েছে।” স্বঘোষিত হিন্দুত্ববাদী নেতার এই কদর্য, অপ্রাসঙ্গিক, ভারসাম্যহীন টুইট নিয়ে এরপর তোলপাড় হয় নেটদুনিয়া। ওমর অাবদুল্লা, শাকিল আহমেদ সহ দল নির্বিশেষে রাজনৈতিক ব্যক্তিরা বিজেপি বিধায়কের মন্তব্যের কড়া নিন্দা করে তাঁর মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। যদিও স্বভাবগত শিষ্টাচার ও সৌজন্যের জন্য পরিচিত ইয়েচুরি এনিয়ে কোনও পাল্টা মন্তব্য করেননি। হিন্দুত্ববাদী নেতার এধরনের নিকৃষ্ট ভাবনার প্রতিক্রিয়া দেওয়া নিরর্থক বুঝেই হয়তো। কিন্তু সীতারাম ইয়েচুরির হয়ে বিজেপির এই জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নেটিজেনরা। সেই ঝড়ের আঁচ পেয়েই কদর্য টুইটটি মুছে ফেলতে বাধ্য হন মিথিলেশ। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং যে বিষয়ে শোকজ্ঞাপন করছেন, একই সময়ে সেই বিষয়ে কীভাবে চরম হঠকারী মন্তব্য করছেন তাঁরই দলের জনপ্রতিনিধি? তার মানে কি ভদ্রতার মুখোশের আড়ালে এটাই হল চরম দক্ষিণপন্থী দলটির আসল মুখ?

Advt

 

Related articles

ভোট-বৈতরণী পার হতে ‘সহজপাঠ’ হাতিয়ার সিপিএমের, নিন্দা তৃণমূলের

বাংলায় ৩৫ বছর ক্ষমতায় ছিল সিপিএম (CPIM)। কিন্তু বর্তমান রাজনীতির ময়দানে কার্যত শূন্য তারা। এবার অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে...

উত্তরপ্রদেশ থেকে ২০০ গাড়ি সেনা, ইভিএম মেশিনে চিপ! সতর্ক করলেন মমতা

নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে যে পদ্ধতিতে কারচুপি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত কেন্দ্রের বিজেপি সরকার করে এসেছে, তার পর্দা...

বিয়ের প্রতিশ্রুতিতেও মুক্তি নয়, পকসো মামলায় কড়া বার্তা গুয়াহাটি আদালতের

প্রেমের সম্পর্কের কথা বলে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করা যায় না। পকসো মামলার শুনানিতে এই মন্তব্য করল গুয়াহাটি হাইকোর্ট...

মানুষের কাজ যে করবে সেই প্রার্থী: নাম না করে তপন চট্টোপাধ্যায়কে নিশানা তৃণমূল সুপ্রিমোর

“কেউ কেউ আছে কাজ করবে না, কিন্তু সারাজীবন তাঁকেই প্রার্থী করতে হবে। না দল সেটা কোনওদিনই করবে না“।...