Hope 24: “লিডার নই, ক্যাডার”, জোটবার্তায় বললেন মমতা

এবার তাঁর দিল্লি সফরের দিকে তাকিয়ে আছে সারা দেশ। জাতীয় রাজনীতিতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল (Tmc) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Bandopadhyay) দিল্লি সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী থেকে কংগ্রেস সভানেত্রী, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী থেকে দেশের তাবড় রাজনৈতিক নেতৃত্ব- সবার সঙ্গে দেখা করেছেন মমতা। একই সঙ্গে বার্তা দিচ্ছে নিজের দলের সাংসদদের। আগামী লোকসভা নির্বাচন এতদিন যেটা ছিল ‘মিশন 2024’ বুধবার তার নতুন নামকরণ করেছেন মমতা বলেছেন- “Hope 24’। আর এই আশা দিল্লি থেকে বিজেপি সরকারকে সরানোর। তার জন্য বিরোধী ঐক্যের ডাক দিয়েছেন মমতা। বারবার উঠে আসছে একটাই প্রশ্ন, বিরোধী জোটের পক্ষে মুখ কি তিনি? তিনিই প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী? যেদিন থেকে দিল্লিতে পা রেখেছেন সেদিন থেকে এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তৃণমূল সুপ্রিমোকে। মমতা জানিয়েছেন, “আমি লিডার নই, ক্যাডার। জোটে অনেকেই আছেন যাঁরা নেতৃত্ব দিতে পারেন”।

এদিন দুপুরে রাজ্যসভার (Rajyasabha) সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের (Sukhendu Sekhar Roy) বাড়িতে দলীয় সাংসদদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মমতা। পেগাসাস (Pegasus) এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ইস্যুকে সামনে রেখে সংসদের ভিতরে ও বাইরে সংসদের সক্রিয় উপস্থিত উপস্থিতির নির্দেশ দেন তিনি। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে ছিল তাঁর চা-চক্র। সেখানেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন মমতা। স্পষ্ট জানান, এবার দেশ চালাবে আঞ্চলিক দলগুলির। কংগ্রেসের (Congress) যদি আঞ্চলিক দলগুলির উপর ভরসা থাকে, তাহলে ওরা একসাথে কাজ করবে বলে আশাবাদী মমতা।

আজকের বাংলার পরিস্থিতির জন্য সিপিআইএমকে (Cpim) দায়ী করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ওদের ঠিক করতে হবে ওদের বিরোধী কারা- তৃণমূল না বিজেপি?”

এদিন সংসদে আওয়াজ উঠেছে “খেলা হবে”। মমতা বলেন, “বাংলায় খেলা হয়েছে, এবার দেশজুড়ে খেলা হবে”।

পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং জিডিপি নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারকে কটাক্ষ করেন মমতা। ত্রিপুরায় আইপ্যাকের টিমকে আটক করে রাখার তীব্র নিন্দা করেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি জানান, “ত্রিপুরায় আমাদের আইটি টিমকে আটকে রেখেছে। ব্রাত্যরা গিয়েছে। এরপর অভিষেক-ডেরেকরাও যাবে”

আরও পড়ুন:শিল্পার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার লেনদেন, টাকার উৎস জানতে তদন্তে মুম্বই পুলিশ

মোদি সরকারকে ঠুকে মমতা বলেন, সেন্ট্রাল ভিস্টা নয়, দেশে ভ্যাকসিন অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

২০২৪-এর জোটের সলতে পাকাতে এবার দিল্লি সফর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সুকৌশলে সে কাজটা করছেন তিনি এবং বারবার এই বার্তায় তিনি দিচ্ছেন যে নিজেকে নেত্রী হিসেবে প্রোমোট করতে তিনি যাননি বরং সবাইকে একজোট করে বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্য মঞ্চ তৈরি করার লক্ষ্য তাঁর। আর সেই কারণেই বিজেপি বিরোধী সব নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করে ঐক্যের বার্তা দেওয়ার কাজটাই সুনিপুণভাবে করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।