Saturday, March 14, 2026

আবেগ নয়, পাহাড়ের উন্নতিতে বাস্তব পদক্ষেপ করতে হবে: GTA-র ভোটে জিতে বার্তা অনীত থাপার

Date:

Share post:

পাহাড়ের জিটিএ নির্বাচনে এবার ভালো ফল তৃণমূলের। তবে, সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে অনীত থাপার (Anit Thapa) ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা (BGPM)। আর জেতার পরেই আবেগ নয়, পাহাড়ে উন্নয়নকে প্রাধান্য দিলেন অনীত। গত কয়েক বছর ধরে ‘গোর্খাল্যান্ড’ ইস্যুকে যে কোনও ভোটের আগে উসকে দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলেছে বিজেপি (BJP)। কিন্তু পাহাড়ের উন্নয়নে তাদের টিকি খুঁজে পাওয়া যায়নি। উল্টে রাজ্য সরকার পাহাড়ের মানুষের পাশে থেকে কাজ করে গিয়েছে। এবার তাই বাংলা ভাগের ললিপপে ভোলেনি পাহাড়। ভোট দিয়েছে স্থানীয় দলগুলিকে, বাংলার শাসকদলকে। যাতে পাহাড়ে শান্তি বজায় থাকে, উন্নয়ন হয়।

ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার পরেই আসন পেয়েছে হামরো পার্টি। সদ্য আত্মপ্রকাশ করেছে এই দল। তবে, গোর্খাল্যান্ডের ইস্যু তাদেরও নেই। দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলায় GTA ভোট অনুষ্ঠিত হয় গত রবিবার। বুধবার ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হতেই দেখা গেল অনীত থাপার নেতৃত্বাধীন ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেয়েছে।

পাহাড়ের ভোটে মোট আসন সংখ্যা রয়েছে ৪৫ টি। এরমধ্যে দার্জিলিং এলাকায় ২২টি এবং কালিম্পং এলাকায় রয়েছে ২৩টি আসন। ফল প্রকাশের পর দেখা গেল গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা জয় পেয়েছে ২৬ টি আসনে। অজয় এডওয়ার্ডয়ের নেতৃত্বাধীন হামরো পার্টি জয় পেয়েছে ৮টি আসনে, তৃণমূল পেয়েছে ৫টি ও নির্দল প্রার্থীরা ৬ টি আসনে জয়লাভ করেছে।* ইতিমধ্যেই ৫ নম্বর সমষ্টি আসনে নির্দল প্রার্থী হিসাবে জিতে আসা রাজেশ চৌহান গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চায় যোগদানের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। এরফলে *গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার আসন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ টি।

জয়ের পর অনীত থাপা জানান, ২০১৭ সাল থেকে একটি লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করছেন তাঁরা। তাঁদের মূল লক্ষ্য শান্তির বাতাবরণ বজায় রাখা। শান্তির পথে পাহাড়ের উন্নতি ও সম্বৃদ্ধি ঘটানো। সবার কাছে অনুরোধ, শান্তি বজায় রাখুন।

হামরো পার্টির সভাপতি অজয় এডওয়ার্ড এই ফলাফল নিয়ে বলেন, “এতদিন লালকুঠিতে সেভাবে বিরোধী ছিল না। আমরা প্রধান বিরোধী হিসাবে রয়েছি। মানুষের রায় মেনে নিয়ে বলছি, যাঁরা আমাদের ভোট দিয়েছে এবং যাঁরা দেননি সবাইকে ধন্যবাদ। মানুষের সঙ্গে থেকেই কাজ করব।“

পাহাড়ের নির্বাচনে কোনও দিল্লির দল নয়, প্রাধান্য পেয়েছে আঞ্চলিক দল ও বাংলার শাসকদল। সবারই লক্ষ্য পাহাড়ের শান্তি ও সমৃদ্ধি। আর এই প্রবণতা থেকেই স্পষ্ট, বাইরের উস্কানিতেই পাহাড়ের বিভাজনের রাজনীতি, হিংসার আগুন ছড়িয়েছিল। কিন্তু অনীতের ভাষায়, পাহাড়ে উন্নয়নের স্বার্থে এবার আবেগ নয়, বাস্তব সম্মত রাজনীতিতে এগোবেন তাঁরা।

আরও পড়ুন- দুর্নীতির অভিযোগ, পদ খোয়ালেন শাসনের তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি

 

spot_img

Related articles

দিলীপকে কোন কথা বলতেই হেসে উঠলেন বিজেপি নেতারা

EXCLUSIVE অভিজিৎ ঘোষ ব্রিগেডে মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী। রয়েছেন বঙ্গ বিজেপির প্রথম সারির সমস্ত নেতৃত্ব। প্রত্যেকের সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবে কুশল বিনিময় করছিলেন...

মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে বাংলার সিনে টেকনিশিয়ানদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের রেজিস্ট্রেশন, ক্যাম্প পরিদর্শনে দেব-কোয়েল

একজন লোকসভার সাংসদ, অপরজন রাজ্যসভার। শনিবার দুপুরে দুজনেই হঠাৎ হাজির হলেন টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে (Technicians Studio)। দেব ও কোয়েল...

হিসাব নেবেন প্রধানমন্ত্রী! ব্রিগেডের সভার দিন খুন করে বাংলা দখলের বাস্তব প্রকাশ তৃণমূলের

বিজেপির ব্রিগেডে যাওয়ার পথে বাসে করে ইট, পাথর নিয়ে যাচ্ছে বিজেপির কর্মীরা। বিজেপির স্বরূপ প্রকাশ্যে এসে গিয়েছে। ব্রিগেডের...

নমন অ্যাওয়ার্ডসে সম্মানিত হবেন গিল, BCCI-র সর্বোচ্চ পুরস্কার পাচ্ছেন দ্রাবিড়

রবিবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে নমন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬ (Naman Awards 2026)। এবারে বর্ষসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পেতে চলেছেন ভারতীয়...