Saturday, November 29, 2025

উপাচার্য নিয়োগ বিতর্কে ফের টুইট রাজ্যপালের, পাল্টা ধনকড়কে তোপ কুণালের

Date:

উপাচার্য নিয়োগ ইস্যুতে রাজ্যপাল(Govornor) ও রাজ্য সরকারের সংঘাত ফের চরম আকার ধারণ করল। শনিবার একের পর এক টুইট ও দীর্ঘ প্রেস বিবৃতি প্রকাশ করে উপাচার্য নিয়োগ ইস্যুতে নিজের অবস্থান জানালেন জগদীপ ধনকড়(Jagdeep Dhankar)। সরাসরি তৃণমূল মুখপাত্রের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে তিনি বলেন, উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে মুখপাত্ররা প্রকাশ্যে যে বিবৃতি দিচ্ছেন তা দুর্ভাগ্যজনক। যদিও রাজ্যপালের বক্তব্যের পাল্টা তোপ দাগতে ছাড়েননি কুণাল ঘোষ(Kunal Ghosh)। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানান, তিনি নিজের বক্তব্যে অবিচল এবং রাজ্যপাল একতরফাভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। বিধানসভায়(Assembly) পাশ হয়ে যাওয়া একটি বিল সই না করে ফেলে রেখেছেন উনি।

সম্প্রতি রাজ্যের সরকারি সব বিশ্ববিদ্যালয়েরই আচার্য পদে মুখ্যমন্ত্রীকে বসাতে বিল পাশ করেছে রাজ্য সরকার। তবে এখনও ওই বিলে রাজ্যপালের স্বাক্ষর হয়নি। ফলে নিয়ম অনুয়াযী বিলটি এখনও আইনে রূপান্তরিত হয়নি। সেই আবহেই বৃহস্পতিবার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য নিয়োগের কথা ঘোষণা করেন রাজ্যপাল। বিবাদ মূলত সেই বিষয়টিকেই নিয়ে। তিনি বলেছেন, ‘রাজ্যপাল তথা আচার্যের পদাধিকার বলে রবীন্দ্র ভারতীর বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি যে উপাচার্য নিয়োগ করেছেন, সেই নিয়ে তৃণমূল মুখপাত্ররা প্রকাশ্যে যে বিবৃতি দিচ্ছেন তা দুর্ভাগ্যজনক।’

বিবৃতিতে ধনখড় বলেন, “বলা হল রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রী বা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা না বলেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু ২৪ জুন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু রাজ্যপাল তথা আচার্যের কাছে এ বিষয়ে নোট পাঠিয়েছিলেন।” শুধু তাই নয় রাজ্যপালের দাবি পদাধিকার বলে এখনো তিনি সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য। আর সেই অধিকারেই রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্য বিভাগের অধ্যাপিকা মহুয়া মুখোপাধ্যায়কে উপাচার্য পদে নিয়োগ করেছেন তিনি। ১৯৮১ সালের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় আইনের (১)(বি) ধারা মেনে।’

তবে রাজ্যপালের এই বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে ছাড়েননি তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “মাননীয় রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় যা বলছেন তা অত্যন্ত আপত্তিকর। উপাচার্য সংক্রান্ত বিল বিধানসভায় পাস হয়েছে। অথচ তা পাস হওয়ার পরও রাজ্যপাল যা করছেন তা বিধানসভার নির্বাচিত বিধায়কদের পরিপন্থী। ফলে আমি তখন যা বলেছিলাম আজও সেই অবস্থানেই দাঁড়িয়ে আছি। খোদ শিক্ষামন্ত্রী যেখানে নিজের বিবৃতিতে বলেছেন তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন, সেখানে রাজ্যপাল যে বক্তব্য পেশ করেছেন তার বিরোধিতা করছি।”

 

পাশাপাশি রাজ্যপালকে তোপ দেগে কুণাল ঘোষ আরও বলেন, “এত উত্তর দিচ্ছেন, এত কথা আসছে, তাহলে রাজ্যপাল সরাসরি যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে আসুন। রাজ্যপাল একতরফা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। যৌথ সাংবাদিক বৈঠক নিয়ে আপনি কেন নীরব? আমরা পশ্চিমবঙ্গের জন্য নিরপেক্ষ রাজ্যপাল আশা করি।”


Related articles

মহিলাদের প্রিমিয়ার লিগের প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হরমন বনাম স্মৃতি, ঘোষিত WPL সূচি

বিশ্বকাপের মাঠে একে অপরের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করার লড়াই শেষে এবার একে অন্যের প্রতিপক্ষ হয়ে...

‘বিকৃত’ তথ্যে GDP বৃদ্ধি দেখানো: ভারতকে ‘C’ গ্রেড দিলো আইএমএফ!

শেষ তিন মাসে রেকর্ড জিডিপি বৃদ্ধি। আর তাই নিয়ে বিরাট লাফালাফি কেন্দ্রের অর্থ মন্ত্রককে ঘিরে। শুক্রবার কেন্দ্রের এই...

গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরমে, দলীয় সভায় দলীয় কর্মীর মুখে গরম চা ছুড়লেন বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি

বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই তুঙ্গে বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল। এবার দলের সভার মাঝেই বিজেপি (BJP) কর্মীর মুখে গরম...

রাজ্যকে না জানিয়েই আজ থেকে বদলে গেল রাজভবনের নাম!

দীর্ঘদিন ধরেই রাজভবন থেকে সমান্তরাল শাসন চালানোর অভিযোগ উঠছে বাংলার রাজ্যপালদের বিরুদ্ধে। রাজ্যের শাসকদল প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়...
Exit mobile version