Wednesday, March 18, 2026

পাখির চোখ প্রধানমন্ত্রীর গদি! দলের নাম বদলালেন KCR

Date:

Share post:

লক্ষ্য ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচন। আর সেই মতোই ঘুঁটি সাজাচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব। বিজেপি বিরোধী জোটের অংশ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে চাওয়া তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও (K Chandrasekhar Rao) বদলে ফেললেন নিজের দলের নাম। তেলঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির (TRS) থেকে নাম হল ভারত রাষ্ট্র সমিতি (BRS)।

ঘড়ি ধরে নির্ঘণ্ট মেনে বুধবার দুপুর ১টা বেজে ১৯ মিনিটের দলের নতুন নাম দিলেন কেসিআর। এর আগে দলের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে দলের নতুন নামকরণের সিদ্ধান্ত নেন। নাম ঘোষণা হতেই আবির মেখে, বাজি ফাটিয়ে উৎসব পালন করেন দলের কর্মী-সদস্যরা। দলের নয়া নামকরণের বিষয়টি ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে।

এবার জাতীয় দলের স্বীকৃতি চাইছে BRS। জাতীয় দল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কিছু নিয়ম রয়েছে। যে কোনও রাজনৈতিক দলেরই কমপক্ষে চারটি রাজ্যে অস্তিত্ব থাকা বাধ্যতামূলক।
অথবা চার রাজ্যের যে কোনও একটিতে এবং চারটি লোকসভা আসনে ভোটের শেয়ার অন্তত ৪ শতাংশ হতে হবে।

লোকসভা নির্বাচনে অন্তত তিনটি রাজ্যে যদি কোনও দলের ভোট শেয়ার ২ শতাংশ থাকে, সে ক্ষেত্রেও জাতীয় স্বীকৃতি পাওয়ার নয়। কিন্তু কেসিআর-এর দলের শুধুমাত্র তেলঙ্গানাতেই অস্তিত্ব রয়েছে। সুতরাং অন্যান্য রাজ্যে সংগঠন বিস্তার করতে গেলে নামের মধ্যে প্রাদেশিকতার গন্ধ থাকলে সমস্যা হতে পারে। সেই জন্যেই ‘তেলেঙ্গানা’-র বদলে ‘ভারত’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের। এদিন, দলের নয়া নামকরণের অনুষ্ঠানে ছিলেন কর্নাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামী, ডিএমকে সহযোগী টি তিরুমাবালন।

২০২৪-এর বিজেপি হঠাৎ এ তিনি অবিজেপি দলগুলির সঙ্গে থাকবেন বলে অনেকবার জানিয়েছেন কেসিআর। মোদি-বিরোধিতা প্রমাণ করতে তেলঙ্গানা সফরে গেলেও তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতেও দেখা যায়নি কেসিআর-কে। কংগ্রেসের সঙ্গেও তিনি যেতে চান না। সে ক্ষেত্রে বিজেপি বিরোধীদলগুলির মুখ হওয়ার চেষ্টা করছেন চন্দ্রশেখর রাও। সেই কারণেই ‘তেলেঙ্গানা’ হয়েছে ‘ভারত’।

বিজেপি বিরোধী সব শক্তিকে একমঞ্চে আনতে গত কয়েক মাসে দফায় দফায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Bandopadhyay), দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার, ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন এবং কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের সঙ্গেও দেখা করেছেন কেসিআর। নভেম্বরে তেলঙ্গানায় উপনির্বাচন রয়েছে। সেখানেই নয়া নামে লড়তে চান তিনি। এ ছাড়াও মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, দিল্লি, গুজরাটের নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান কেসিআর। সেই সব পরিকল্পনা করেই নাম পরিবর্তন। তবে নাম বদলালেও, দলের প্রতীকচিহ্ন একই থাকছে।

আরও পড়ুন- ইছামতীর তীরে দুই বাংলা মিলেমিশে একাকার, ভৌগলিক বিভাজন ভুলে মাতল প্রতিমা বিসর্জনে


 

spot_img

Related articles

ভোটের আসরে সন্তান-স্ত্রী-ভাই: শহর থেকে জেলায় তৃণমূল প্রার্থী পরিবারের সদস্যরা

রাজনীতিতে পরিবারবাদ কোনও নতুন তত্ত্ব নয়। বিধানসভা কেন্দ্র তো বটেই, অন্য কেন্দ্র দখল করতেও অনেক সময় একই পরিবারের...

ক্রমশ পিছোচ্ছে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ! যাচাই শেষ ২১ লক্ষ

পূর্ণাঙ্গ তালিকা বলে যে ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন, প্রায় তত সংখ্যক রাজ্যের মানুষ এখনও বিচারাধীন।...

তালিকা প্রকাশ হতেই রাজ্যজুড়ে শুরু দেওয়াল লিখন, মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্র থেকে জেলায় প্রচারে তৃণমূল

প্রার্থীতালিকা ঘোষণার পরেই ঘাসফুল শিবিরের উৎসাহ এখন তুঙ্গে। প্রার্থী হতে পারেন এমন আঁচ পেয়ে অনেক জায়গায় আগেই দেওয়াল...

হুকো সাজানোর জন্য লোক নিয়োগ! ধোনির অজানা কীর্তি ফাঁস সিএসকে সতীর্থের

মহেন্দ্র সিং ধোনির (MS Dhoni) হুকো প্রীতি অনেকেরই জানা। ভারতীয় ক্রিকেটে হুঁকোপ্রীতির জন্য ধোনি কিন্তু বেশ পরিচিত। এই...