বছর ঘুরলেই রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন (Panchayat Election)। ইতিমধ্যে নিজেদের ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে প্রতিটি রাজনৈতিক দলই। তবে নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে ততই প্রকট হচ্ছে রাজ্য বিজেপির (BJP) দৈন্যদশা। ৬ নম্বর মুরলী ধর সেন লেনে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে রাজ্যের সবকটি বুথে প্রার্থী দেওয়া এখন রীতিমতো চ্যালেঞ্জ গেরুয়া শিবিরের কাছে। আর এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের আগে মানুষের মন পেতে ১২ দফা সংকল্পপত্র প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিল বিজেপি।

‘স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত’ পঞ্চায়েতের পাশাপাশি প্রতিটি পঞ্চায়েতে চিকিৎসাকেন্দ্র (Health Centre) গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে বলেও রাজ্য বিজেপি সূত্রে খবর। যদিও শুক্রবার দিল্লিতে এসে সংকল্পপত্র প্রকাশের কথা স্বীকার করেন দলের রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumder)। তিনি জানান খুব শীঘ্রই সংকল্পপত্র বাংলার প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে। এদিকে বিধানসভা নির্বাচনে লজ্জাজনক হারের পর থেকেই দলের রাজ্যে সংগঠনে চির ধরেছে। আর সময় যত গড়াচ্ছে সেই চিড় ততই প্রকট হচ্ছে। দিল্লি থেকে কেন্দ্রীয় নেতারা (Central Ministers) ছুটে গিয়েও সেই ক্ষতপূরণ করতে পারেনি। একাধিক পরিবর্তন করেও লাভের লাভ কিছুই হয়নি। সংগঠন সেই তিমিরেই পড়ে রয়েছে। একে একে বহু নেতাকর্মী হয় দল ছেড়েছে, নয় বসে গিয়েছে। অনেকে আবার ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর একতরফা সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পার্টি অফিসমুখো হন না।

তবে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে সমস্ত শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রস্তুত বিজেপি। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার সেকথা জানালেও বিরোধী দলনেতা যতটা গর্জাচ্ছেন ততটা কী বর্ষাবেন? তা নিয়ে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পঞ্চায়েত ভোটে সব বুথ ও আসনে প্রার্থী দিতে গেলে প্রায় এক লক্ষ প্রার্থীর প্রয়োজন হয়। তার উপর থাকে সংরক্ষণ। অন্যদিকে অর্ধেকের বেশি বুথে প্রার্থী দেওয়া কার্যত অসম্ভব বলে জানিয়েছেন এক রাজ্য নেতা। যদিও তা মানতে নারাজ দলের রাজ্য সভাপতি।
