Sunday, June 14, 2026

পিবিআইয়ের পরিদর্শক মাসুদকে নি.র্মমভাবে কো.পানো হয়েছিল,অভিযোগ পরিবারের

Date:

Share post:

বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালীন তিনি ছুটিতে ছিলেন। সেই পরিস্থিতিতেই সাদা পোশাকে রাজধানীর রামপুরায় তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল হামলাকারীরা। নিজেকে বাঁচাতে পারেননি তিনি। তাদের হাতে নির্মমভাবে খুন হন পিবিআইয়ের পরিদর্শক মাসুদ পারভেজ ভুঁইয়া। তার পরিবারের দাবি, মাসুদের সারা শরীর জুড়ে ছিল অস্ত্রের কোপ আর রড দিয়ে পেটানোর ক্ষতচিহ্ন। ঘটনার সূত্রপাত ১৮ জুলাই। কয়েক হাজার মানুষ গিয়ে তালা ভেঙে মাসুদের কর্মক্ষেত্র নারায়ণগঞ্জের পিবিআই কার্যালয়ে হামলা চালায়। সেদিন ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। সেদিন অবশ্য তিনি কার্যালয়ে ছিলেন না। ছুটিতে রামপুরার বনশ্রী এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাড়িতে ছিলেন। পরের দিন ১৯ জুলাই বাড়ি থেকে বের হতেই তিনি হামলার শিকার হন। প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও রড দিয়ে পিটিয়ে রাস্তায় ফেলে রাখে। পরে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তার মৃত্যু হয়।

পরিজনরা ‘পরিকল্পিত হত্যার’ অভিযোগ করেছেন। ১৯৯৬ সালে উপ-পরিদর্শক হিসেবে পুলিশে যোগদান করেন মাসুদ। পরে পদোন্নতি পেয়ে পরিদর্শক হন। কর্মক্ষেত্র নারায়ণগঞ্জ হলেও স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে ঢাকার রামপুরা বনশ্রী এলাকায় দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে বসবাস করতেন মাসুদ পারভেজ-মেরিনা আক্তার বীনা দম্পতি। তার বাড়িতে নেমে এসেছে শ্মশানের নীরবতা। পরিবারের সদস্যরা জানান, ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই বাকরুদ্ধ, স্তব্ধ হয়ে গিয়েছেন গুলজান বেগম। কাঁদতে কাঁদতে বারবার মূর্চ্ছা যাচ্ছেন তিনি।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মাসুদ পারভেজ পরিবারের পাশাপাশি গ্রামের মানুষদেরও সাহায্য-সহযোগিতা করতেন। তাই মাসুদের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে গ্রামের শোকের ছায়া। তারএমন মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না। তার ছোট ভাই সোহেল ভুঁইয়া বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারের সব দায়-দায়িত্ব ভাইয়ের কাঁধে ছিল। আমাদের খোঁজ-খবর নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন তিন বেলা মায়ের খবর নিতেন। তার অভিযোগ, ভাইকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে কর্মরত থাকলেও অফিস করতেন ঢাকার বাড়ি থেকে। ঘটনার দিন বাড়ি থেকে চা খেতে সন্ধ্যার পর বের হন। পরে অপরিচিত নাম্বার থেকে বাড়িতে ফোন করে জানানো হয়, ভাইকে কুপিয়ে রাস্তার মধ্যে ফেলা রাখা হয়েছে। তাকে নির্মমভাবে মারা হয়েছে। কোটা আন্দোলনের মধ্যে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তিন সদস্য মাসুদ পারভেজ ভূঁইয়া, ট্যুরিস্ট পুলিশের এএসআই মোহাম্মদ মোক্তাদির এবং ডিএমপির প্রোটেকশন বিভাগের নায়েক গিয়াসউদ্দিন। তাদের পরিবারকে আইজিপির এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে অনুদান দেওয়া হয়।

 

 

 

Related articles

ওষুধের বদলে ফরমালিন! মধ্যপ্রদেশে শিশু মৃত্যুতে প্রশ্নে AIIMS ভোপাল

দেশজুড়ে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা, বিশ্বমানের চিকিৎসা পরিকাঠামো আর সবার জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষার দাবি নিয়ে বারবার প্রচার চালাচ্ছে কেন্দ্রের...

FIFA World Cup: VAR প্রযুক্তিকে নিয়ে বিতর্ক, মিশরের সাত তারা জার্সিতে আপত্তি ফিফার

বিশ্বকাপ (FIFA World Cup) হবে কিন্তু বিতর্ক হবে না, তাই হয় নাকি। বিশ্বকাপ শুরু হতে না হতেই বিতর্কের...

বিমানবন্দরে মাথা গোনা! দিল্লির বৈঠকে দলনেতা ঠিক করার পালা ‘রেবেল’দের

লোকসভার ১৯ তৃণমূল সাংসদ এনডিএ-কে সমর্থন জানানোর দাবি করে সোমবার চিঠি দিয়েছেন। তারপরে সেই তালিকায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ...

জেনে নিন রবিবারের বাজারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আজ রবিবার (১৪ জুন) দেশের মেট্রো শহরগুলোতে পেট্রোল ও ডিজেলের নতুন দাম জারি...