Monday, January 12, 2026

পিবিআইয়ের পরিদর্শক মাসুদকে নি.র্মমভাবে কো.পানো হয়েছিল,অভিযোগ পরিবারের

Date:

Share post:

বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালীন তিনি ছুটিতে ছিলেন। সেই পরিস্থিতিতেই সাদা পোশাকে রাজধানীর রামপুরায় তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল হামলাকারীরা। নিজেকে বাঁচাতে পারেননি তিনি। তাদের হাতে নির্মমভাবে খুন হন পিবিআইয়ের পরিদর্শক মাসুদ পারভেজ ভুঁইয়া। তার পরিবারের দাবি, মাসুদের সারা শরীর জুড়ে ছিল অস্ত্রের কোপ আর রড দিয়ে পেটানোর ক্ষতচিহ্ন। ঘটনার সূত্রপাত ১৮ জুলাই। কয়েক হাজার মানুষ গিয়ে তালা ভেঙে মাসুদের কর্মক্ষেত্র নারায়ণগঞ্জের পিবিআই কার্যালয়ে হামলা চালায়। সেদিন ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। সেদিন অবশ্য তিনি কার্যালয়ে ছিলেন না। ছুটিতে রামপুরার বনশ্রী এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাড়িতে ছিলেন। পরের দিন ১৯ জুলাই বাড়ি থেকে বের হতেই তিনি হামলার শিকার হন। প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও রড দিয়ে পিটিয়ে রাস্তায় ফেলে রাখে। পরে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তার মৃত্যু হয়।

পরিজনরা ‘পরিকল্পিত হত্যার’ অভিযোগ করেছেন। ১৯৯৬ সালে উপ-পরিদর্শক হিসেবে পুলিশে যোগদান করেন মাসুদ। পরে পদোন্নতি পেয়ে পরিদর্শক হন। কর্মক্ষেত্র নারায়ণগঞ্জ হলেও স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে ঢাকার রামপুরা বনশ্রী এলাকায় দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে বসবাস করতেন মাসুদ পারভেজ-মেরিনা আক্তার বীনা দম্পতি। তার বাড়িতে নেমে এসেছে শ্মশানের নীরবতা। পরিবারের সদস্যরা জানান, ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই বাকরুদ্ধ, স্তব্ধ হয়ে গিয়েছেন গুলজান বেগম। কাঁদতে কাঁদতে বারবার মূর্চ্ছা যাচ্ছেন তিনি।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মাসুদ পারভেজ পরিবারের পাশাপাশি গ্রামের মানুষদেরও সাহায্য-সহযোগিতা করতেন। তাই মাসুদের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে গ্রামের শোকের ছায়া। তারএমন মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না। তার ছোট ভাই সোহেল ভুঁইয়া বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারের সব দায়-দায়িত্ব ভাইয়ের কাঁধে ছিল। আমাদের খোঁজ-খবর নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন তিন বেলা মায়ের খবর নিতেন। তার অভিযোগ, ভাইকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে কর্মরত থাকলেও অফিস করতেন ঢাকার বাড়ি থেকে। ঘটনার দিন বাড়ি থেকে চা খেতে সন্ধ্যার পর বের হন। পরে অপরিচিত নাম্বার থেকে বাড়িতে ফোন করে জানানো হয়, ভাইকে কুপিয়ে রাস্তার মধ্যে ফেলা রাখা হয়েছে। তাকে নির্মমভাবে মারা হয়েছে। কোটা আন্দোলনের মধ্যে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তিন সদস্য মাসুদ পারভেজ ভূঁইয়া, ট্যুরিস্ট পুলিশের এএসআই মোহাম্মদ মোক্তাদির এবং ডিএমপির প্রোটেকশন বিভাগের নায়েক গিয়াসউদ্দিন। তাদের পরিবারকে আইজিপির এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে অনুদান দেওয়া হয়।

 

 

 

spot_img

Related articles

আইন রক্ষায় নিহত বাবা, তাঁরই ছেলে প্রতারণায় জেলে!

দু’দশক আগে এক বর্ষবরণের রাতে তিলোত্তমার বিবেক জাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এক অপরিচিতা তরুণীর সম্মান বাঁচাতে মদ্যপ সহকর্মীদের সামনে...

IND vs NZ: নতুন বছরে বিরাটের ব্যাটিং বিক্রম, জয়ের মধ্যেও থাকল উদ্বেগের ছায়া

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম একদিনের ম্যাচে ৪ উইকেটে জিতল ভারত। ২০২৫ সালেযেখানে শেষ করেছিলেন ২০২৬ সাল সেখান থেকেই শুরু...

সোমে মিলনমেলায় ডিজিটাল যোদ্ধাদের সঙ্গে বৈঠকে অভিষেক

বাংলা বহিরাগত জমিদারদের হাতে অপমানিত, লাঞ্ছিত। সেই বাংলাবিরোধীদের মিথ্যা ও অপপ্রচারের মোকাবিলায় তৃণমূল ময়দানে নামিয়েছে ডিজিটাল যোদ্ধাদের। ডিজিটাল...

অনুপ্রবেশকারী খুঁজবে AI! নির্বাচনে নতুন গ্যাঁড়াকল শিণ্ডে-ফড়নবিশ জোটের

ভোটের আগে ফের মাথা চাড়া দিচ্ছে মানুষের উপর নজরদারি আর হয়রানির রাজনীতি। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নতুন অ্যাপ ব্যবহার...