প্রয়াত হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য । আর তার স্মৃতি রোমন্থনে রীতিমতো নস্টালজিক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, কাজের জন্য কলকাতার বাইরে থাকলেও, ঘটনা শোনার পর নানান কথা মনে পড়ছে। তিনি বলেন, লর্ডস থেকে অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করে কলকাতায় সবে ফিরেছি। বিকেলে মহাকরণ থেকে আমাদের বাড়ির ল্যান্ডলাইনে ফোন এল। আমি হ্যালো বলতেই ওপাশ থেকে তার গুরুগম্ভীর কন্ঠস্বর, সৌরভ বলছেন, আমি আপনার লর্ডসের ইনিংস দেখেছি। খুব ভাল খেলেছেন। আপনাকে পরে আবার ফোন করব, সরকার থেকে আপনাকে সংবর্ধনা দেবে, সেটা জানিয়ে দেওয়া হবে।সাহারা কাপে পাঁচটি ম্যাচের সেরা হয়ে ফিরেছি, সেবারও আমাকে ফোন করেছিলেন। আমাকে পুত্রস্নেহে ভালবাসতেন। আমি ওঁর বাড়িতে হয়তো যেতে পারিনি, কিন্তু আমিও নিয়মিত যোগাযোগ রাখতাম।
সৌরভ স্মৃতি রোমন্থন করেন, আমার সম্পর্কে অসম্ভব একটা ভালবাসা ছিল বুদ্ধবাবুর। উনি নিজেও ক্রিকেট খুব ভালবাসতেন। আমি যখন সিএবি-র সভাপতি হয়ে চেষ্টা করেছিলাম ওঁকে ইডেনে নিয়ে আসতে। পারিনি, কারণ অনেকদিন ধরে উনি অসুস্থ ছিলেন। তিনি ছিলেন সংস্কৃতিমনস্ক মানুষ। প্রায়ই তিনি বলতেন, সময় পেলে বই পড়বেন। বই মানুষকে দিশা দেখায়, পথ বলে দেয়। তাঁর কথাতেই অশোক ভট্টাচার্য এখনও নিয়মিত আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।গ্রেগ চ্যাপেল ইস্যু নিয়েও তিনি রীতিমতো চিন্তাভাবনা করতেন। এগুলিই তো আমার জীবনের বড় প্রাপ্তি। আমাকে পরামর্শ দেওয়ার, ভাল চাওয়ার একজন গুনী মানুষকে আমি হারালাম।

রাজ্যের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রসচিব প্রসাদরঞ্জন রায় বলেন, যতদিন কাজ করেছি সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম পর্বের সময়টা বাদ দিলে আমার কাজ করতে কোনও অসুবিধা হয়নি। আমি যা দেখেছি, যা রিপোর্ট পেয়েছি সেই রকমই বলা হয়েছে। কিন্তু এই যে প্রায় তিন বছর আমরা কাজ করেছি, তখন ওঁকে অনেক অন্য ভাবে আমি দেখতে পেয়েছি। এবং খুব কাছাকাছি থেকে দেখেছি। একটা সময় মনে হত প্রায় বন্ধুর মতোই। সাহিত্য এবং নাটক, সিনেমা নিয়ে এবং কলেজের বন্ধু-বান্ধবদের কথা নিয়ে উনি আলোচনা করতেন আমার সঙ্গে। কিন্তু একটা আশ্চর্য জিনিস, সেটা হচ্ছে ক্রিকেট নিয়ে ওঁর এবং আমার আগ্রহও প্রায় পাগলামির পর্যায়েই গিয়েছিল একটা সময়। এইটা নিয়ে আমাদের খুব যোগাযোগ ছিল। এমনকী, আমরা একসঙ্গে ঘরে বসে কিছু কিছু খেলা দেখেছি।
সাধারণভাবে ওঁর সঙ্গে যখন আমার কথা হত, উনি আমাদের বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে কথা বলতেন। অথবা, কোনও বই নিয়ে কথা হত, ক্রিকেট নিয়ে কথা হত। আমার বেশ মনে পড়ে, স্টিভ ওয়া রিটায়ারমেন্টের পর ওঁর এনজিও নিয়ে রাজ্যে একটা বাচ্চাদের হোমে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসেন। তখন প্রায়ই আসতেন। তার মধ্যে স্টিভ আমার সঙ্গে একবার দেখা করেছিলেন। একবার বুদ্ধদেববাবুর সঙ্গেও দেখা করলেন। সেবার একটা বড় অটোবায়োগ্রাফিক্যাল বই অটোগ্রাফ-সহ ওঁকে দিয়েছিলেন স্টিভ ওয়া। উনি বইটা অফিসেই রেখেছিলেন। বইটা পড়েও ছিলেন। নন্দীগ্রামের সময় উনি আমাকে যতটা সম্ভব প্রোটেক্ট করার চেষ্টাই করেছিলেন। আমাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কে কোনও দাগ পড়েনি। এবং শেষ দিনেও। আগের দিন কয়েকটা কাজ নিয়ে ওঁর সঙ্গে কথা বলতে যাই। এরকম একজন ভদ্র শিক্ষিত মানুষ আমি সরকারি চাকরিতে খুব কমই দেখেছি। আর এই কথাটাই বার বার আমার মনে পড়ছে।










