Friday, January 30, 2026

গণইস্তফার নাটক! সিনিয়র ডাক্তারদের রেজিস্ট্রেশন বাতিলের দাবি কুণালের

Date:

Share post:

একদিকে উৎসবের মরশুম। অন্যদিকে বন্যা পরিস্থিতি। এরই মধ্যে আর জি কর হাসপাতালের (R G Kar Hospital) সিনিয়র চিকিৎসকদের গণ ইস্তফা (mass resignation)। মেডিক্যাল কলেজের (Medical College) সিনিয়র চিকিৎসকরাও গণ ইস্তফার ঘোষণা করেছেন। রাজ্যের এই রকম পরিস্থিতিতে আচমকা গণইস্তফা আদতে সাধারণ মানুষকে বিপাকে ফেলার জন্যই, দাবি প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ কুণাল ঘোষের। ক্যামেরার সামনে দায়িত্বশীল চিকিৎসকদের এই আচরণের কড়া সমালোচনা রাজনৈতিক মহলে। আর জি করের সিনিয়রদের এই পদক্ষেপের পরেও পঞ্চমীর বিকালে রাস্তায় নামেন চিকিৎসকরা।

আর জি করের ঘটনার পরে লাগাতার কর্মবিরতিতে গিয়েছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। সেই সময় দায়িত্ব সামলেছেন সিনিয়র চিকিৎসকরা। এই পরিস্থিতিতে একের পর এক পদক্ষেপ নিয়ে রাজ্য সরকার হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মুখ্যসচিব (Chief Secretary) নিজে বারবার হাসপাতালের অধ্যক্ষদের সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠক করেছেন। তারপরেও মঙ্গলবার আচমকা সিনিয়র চিকিৎসকদের ইস্তফার ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। এর প্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে কুণাল ঘোষের দাবি, “সিবিআইয়ের (CBI) চার্জশিট (chargesheet) আপনাদের পছন্দ হচ্ছে না। আপনারা পুজোর সময় অরাজকতা চাইছেন। বিনা নোটিশে কোনও দায়িত্বশীল ডাক্তার ক্যামেরার সামনে ইস্তফা দিতে পারেন? হয় রাজনীতি করেন। নইলে পিছন থেকে অন্য কেউ সুতো টানছেন। সরকারি হাসপাতাল বন্ধ থাকলে রোগীরা সরকারি জায়গায় হয়রান হলে ভিড় বাড়ে বেসরকারি নার্সিং হোমে (private nursing home)।”

যে পদ্ধতিতে গণইস্তফা দিয়েছেন আর জি করের সিনিয়র চিকিৎসকরা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কুণালের দাবি, “নিয়ম মতো ইস্তফা দিন। ব্যক্তিগত ইস্তফা দিন। কর্মবিরতি করলে বেতন নেবেন না।” সেই সঙ্গে সরকারের কাছে তাঁর অনুরোধ, “সরকারকে বলব ইস্তফা (resignation) গ্রহণ করুন। যারা সিস্টেমে থেকে অন্তর্ঘাত করছে তাদের রাখবেন না।”

আদতে ধর্মতলায় অনশন চালানো জুনিয়র চিকিৎসকদের সিনিয়র চিকিৎসকরাই যে ইন্ধন দিচ্ছেন, দাবি কুণাল ঘোষের। তাঁদের রেজিস্ট্রেশন বাতিলের দাবি নিয়ে কুণাল বলেন, “যদি একটি ছেলেমেয়ে অসুস্থ হয় দায়ী থাকবেন সিনিয়ররা। সরকারকে অনুরোধ করব যদি কোনও ডাক্তাররা অসুস্থ হন অনশন করতে গিয়ে তাহলে যাঁরা সেখানে উপস্থিত থেকে উস্কানি দিচ্ছে আর যে সিনিয়র ডাক্তাররা তাঁদের অসুস্থতায় মদত দিচ্ছে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা হোক, রেজিস্ট্রেশন বাতিল হোক।”

মঙ্গলবার বিকালে শহরের দুই মেডিক্যাল কলেজ থেকে মিছিল বের করেন চিকিৎসকরা। কলকাতা পুলিশের নিষেধাজ্ঞা মেনে মেডিক্যাল কলেজ (Medical College and Hospital) থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল হয়। অন্যদিকে আরেকটি মিছিল হয় এসএসকেএম হাসপাতাল (SSKM Hospital) থেকে ধর্মতলার অনশন মঞ্চ পর্যন্ত। তবে মিছিলে স্পষ্ট হয়ে যায়, বিভিন্ন জনবিরোধী পদক্ষেপে কীভাবে জনসমর্থন হারিয়েছেন আন্দোলনরত চিকিৎসকরা।

spot_img

Related articles

বাজেটের আগেই বড়সড় পতন শেয়ার বাজারে, সামান্য কমল সোনার দাম

দালাল স্ট্রিটে রক্তক্ষরণ অব্যাহত। বাজেটের আগেই বড়সড় পতনের মুখে পড়ল ভারতীয় শেয়ার বাজার(Share Market)। শুক্রবার, বিশ্ববাজারের নেতিবাচক সংকেত...

সঞ্জুর নিরাপত্তরক্ষী সূর্য! পদ্মনাভস্বামী মন্দিরে পুজো দিলেন রিঙ্কুরা

ভারত বনাম নিউজিল্যান্ডের পঞ্চম টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি শনিবার তিরুঅনন্তপুরমের গ্রিনফিল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে হবে। তার আগে কেরলের শ্রী পদ্মনাভস্বামী মন্দিরে(Padmanabhaswamy...

অজিত পাওয়ারের জায়গায় কি স্ত্রী সুনেত্রা? মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে জোর জল্পনা

মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের (Ajit Pawar)। তবে,  রাজনীতিতে কোনও স্থানই শূন্য থাকে না। সূত্রের...

জবাবদিহি নাপসন্দ! গোপনীয়তার দোহাই দিয়ে কোপ RTI আইনে

RTI আইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা ও নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। কিন্তু মোদি সরকারের জবাবদিহি নাপসন্দ। মেহুল...