Thursday, January 15, 2026

আরজি করে তিন ঘণ্টা বিনা চিকিৎসায় রোগী, নিশানায় জুনিয়র ডক্টর ফ্রন্টের সদস্য

Date:

Share post:

টানা তিন ঘণ্টা চিকিৎসা পেলেন না রোগী। আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে(RG Kar Medical Hospital) বেডেতেই যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকল রোগী।মুখ ফিরিয়েও দেখলেন না কোনও চিকিৎসক। ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে যাদের দিকে তারা জুনিয়র ডক্টর ফ্রন্টের সদস্য।ফ্রন্টের সদস্যরা যে চূড়ান্ত কর্মবিমুখ, ফের তার প্রমাণ পাওয়া গেল বুধবার।

জানা গিয়েছে, সুজিত ঘোষ নামে বছর চল্লিশের এক ব্যক্তি বাড়িতে প্রচণ্ড অশান্তির জেরে বিষ খেয়েছিলেন। তড়িঘড়ি তার দিদি গীতা ঘোষ হাড়োয়া থানা থেকে চিকিৎসার জন্য বুধবার বিকেল চারটে নাগাদ আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাকে নিয়ে আসেন। রোগীকে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের জরুরি বিভাগে এনে প্রথমে কার্ড করেন গীতাদেবী। এদিকে বিকেল চারটেয় কার্ড করার পর সন্ধে সাড়ে সাতটা পর্যন্ত রোগী বিনা চিকিৎসায় যন্ত্রণায় ছটফট করছিল। চিকিৎসা করতে এগিয়ে আসেনি কোনও চিকিৎসক। এদিকে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই সময় ডিউটিতে থাকাকালীন মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন ফার্স্ট ইয়ার পিজিটি ডা. সিতীশ।

এই ঘটনায় রোগীর পরিবারের তরফে গীতা ঘোষ জানিয়েছেন যে, অনেকক্ষণ বলার পরেও কোনও চিকিৎসক রাজি হচ্ছিলেন না তার ভাইয়ের চিকিৎসা করাতে। টানা তিন ঘণ্টা চিকিৎসা না পেয়ে রীতিমতো বেডে ছটফট করছিলেন সুজিত ঘোষ। শেষমেশ সাড়ে সাতটা নাগাদ চিকিৎসা শুরু হয়েছে। এদিকে ফার্স্ট ইয়ার পিজিটি ডা. সিতীশ ডিউটিতে ফোনে ব্যস্ত থাকায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এমনকি গত বছর আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিনা চিকিৎসায় তরুণের মৃত্যুর ঘটনাতেও নাম উঠেছিল এই ফার্স্ট ইয়ার পিজিটি ডা. সিতীশের। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই, ধামাচাপা দিতে রীতিমতো কোমর বেধে মাঠে নেমেছে  জুনিয়র ডক্টর ফ্রন্টের সদস্যরা।

অভিযোগ, ঘটনা ধামাচাপা দিতে জুনিয়র ডক্টর ফ্রন্টের(JUNIOR DOCTOR FRONT) সদস্যরা রোগীর পরিবারকে সাদা কাগজে মুচলেকা দেওয়ার জন্য জোর করতে থাকে। তাদের বলা হয়, সাদা কাগজে লিখে দিন যে, সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু হয়েছে। পাল্টা গীতা ঘোষ জানান, আমি পড়াশোনা জানি না। কিন্তু তারপরেও কয়েকজন বলে, তারা বয়ান লিখে দিচ্ছে, তাতে যেন রোগীর পরিবার সই বা টিপছাপ দিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, নতুন করে আউটডোর টিকিট ছাপানোর ব্যবস্থা করেন জুনিয়র ডক্টর ফ্রন্টের সদস্যরা যাতে সময় নষ্টের কোনও প্রমাণ না থাকে। এদিকে গোটা ঘটনায় মুখবন্ধ রাখতে মেডিক্যাল অফিসার তাপস প্রামাণিকের ঘরে হুমকি দেন জেডিএফ সদস্য ডা. সীতিশ এবং ডা. রুবেল। যার ফলে ফের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

প্রসঙ্গত, গত বছর আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে মহিলা চিকিৎসকের ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনার পর থেকেই উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা রাজ্য। বিচারের দাবিতে হাসপাতালের জুনিয়র ডাক্তারেরা প্রথম দিন থেকে অবস্থান চালাচ্ছিলেন। সেই সময় চিকিৎসকদের ধর্না অবস্থানের কারণে চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হয়েছিল।কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিল জুনিয়র ডক্টর ফ্রন্ট। যার মধ্যে শামিল ছিলেন এই সীতিশও।

 

spot_img

Related articles

ধর্মঘটের জেরে টানা ৪ দিন বন্ধ ব্যাংক পরিষেবা

বৈঠক নিষ্ফলা, মাসের প্রতি শনি-রবিবার ছুটির দাবিতে ২৭ জানুয়ারি ব্যাঙ্ক ধর্মঘট (Bank Strike) হচ্ছেই। ফলে বছরের প্রথম মাসের...

ভোটের আগে রিস্ক-ফ্রি কমিটি বিজেপির! জেলা ইনচার্জ পদে পুরোনোতে আস্থা 

২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বঙ্গ বিজেপির স্ট্যাটেজি ঠিক করতে মাথার ঘাম পায়ে ফেলছেন অমিত শাহ, নরেন্দ্র মোদি।...

আইপ্যাক মামলায় আজ সুপ্রিম শুনানি, শীর্ষ আদালতে নজর রাজনৈতিক মহলের

কলকাতায় আইপ্যাক অফিসে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তল্লাশি অভিযানের (ED raid in ipac office) জল গড়িয়েছে দিল্লি পর্যন্ত। বুধবার হাইকোর্টে...

মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে সমস্যা সমাধান, আইএসএল শুরুর আগেই খুশির খবর মহমেডানে

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ফের একবার সংকট কাটছে মহমেডানে (Mohamedan club)।  চলতি মরশুমে আইএসএল খেলার বিষয়ে আগেই সম্মতি...