Tuesday, February 24, 2026

আরজি করে তিন ঘণ্টা বিনা চিকিৎসায় রোগী, নিশানায় জুনিয়র ডক্টর ফ্রন্টের সদস্য

Date:

Share post:

টানা তিন ঘণ্টা চিকিৎসা পেলেন না রোগী। আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে(RG Kar Medical Hospital) বেডেতেই যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকল রোগী।মুখ ফিরিয়েও দেখলেন না কোনও চিকিৎসক। ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে যাদের দিকে তারা জুনিয়র ডক্টর ফ্রন্টের সদস্য।ফ্রন্টের সদস্যরা যে চূড়ান্ত কর্মবিমুখ, ফের তার প্রমাণ পাওয়া গেল বুধবার।

জানা গিয়েছে, সুজিত ঘোষ নামে বছর চল্লিশের এক ব্যক্তি বাড়িতে প্রচণ্ড অশান্তির জেরে বিষ খেয়েছিলেন। তড়িঘড়ি তার দিদি গীতা ঘোষ হাড়োয়া থানা থেকে চিকিৎসার জন্য বুধবার বিকেল চারটে নাগাদ আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাকে নিয়ে আসেন। রোগীকে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের জরুরি বিভাগে এনে প্রথমে কার্ড করেন গীতাদেবী। এদিকে বিকেল চারটেয় কার্ড করার পর সন্ধে সাড়ে সাতটা পর্যন্ত রোগী বিনা চিকিৎসায় যন্ত্রণায় ছটফট করছিল। চিকিৎসা করতে এগিয়ে আসেনি কোনও চিকিৎসক। এদিকে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই সময় ডিউটিতে থাকাকালীন মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন ফার্স্ট ইয়ার পিজিটি ডা. সিতীশ।

এই ঘটনায় রোগীর পরিবারের তরফে গীতা ঘোষ জানিয়েছেন যে, অনেকক্ষণ বলার পরেও কোনও চিকিৎসক রাজি হচ্ছিলেন না তার ভাইয়ের চিকিৎসা করাতে। টানা তিন ঘণ্টা চিকিৎসা না পেয়ে রীতিমতো বেডে ছটফট করছিলেন সুজিত ঘোষ। শেষমেশ সাড়ে সাতটা নাগাদ চিকিৎসা শুরু হয়েছে। এদিকে ফার্স্ট ইয়ার পিজিটি ডা. সিতীশ ডিউটিতে ফোনে ব্যস্ত থাকায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এমনকি গত বছর আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিনা চিকিৎসায় তরুণের মৃত্যুর ঘটনাতেও নাম উঠেছিল এই ফার্স্ট ইয়ার পিজিটি ডা. সিতীশের। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই, ধামাচাপা দিতে রীতিমতো কোমর বেধে মাঠে নেমেছে  জুনিয়র ডক্টর ফ্রন্টের সদস্যরা।

অভিযোগ, ঘটনা ধামাচাপা দিতে জুনিয়র ডক্টর ফ্রন্টের(JUNIOR DOCTOR FRONT) সদস্যরা রোগীর পরিবারকে সাদা কাগজে মুচলেকা দেওয়ার জন্য জোর করতে থাকে। তাদের বলা হয়, সাদা কাগজে লিখে দিন যে, সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু হয়েছে। পাল্টা গীতা ঘোষ জানান, আমি পড়াশোনা জানি না। কিন্তু তারপরেও কয়েকজন বলে, তারা বয়ান লিখে দিচ্ছে, তাতে যেন রোগীর পরিবার সই বা টিপছাপ দিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, নতুন করে আউটডোর টিকিট ছাপানোর ব্যবস্থা করেন জুনিয়র ডক্টর ফ্রন্টের সদস্যরা যাতে সময় নষ্টের কোনও প্রমাণ না থাকে। এদিকে গোটা ঘটনায় মুখবন্ধ রাখতে মেডিক্যাল অফিসার তাপস প্রামাণিকের ঘরে হুমকি দেন জেডিএফ সদস্য ডা. সীতিশ এবং ডা. রুবেল। যার ফলে ফের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

প্রসঙ্গত, গত বছর আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে মহিলা চিকিৎসকের ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনার পর থেকেই উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা রাজ্য। বিচারের দাবিতে হাসপাতালের জুনিয়র ডাক্তারেরা প্রথম দিন থেকে অবস্থান চালাচ্ছিলেন। সেই সময় চিকিৎসকদের ধর্না অবস্থানের কারণে চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হয়েছিল।কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিল জুনিয়র ডক্টর ফ্রন্ট। যার মধ্যে শামিল ছিলেন এই সীতিশও।

 

spot_img

Related articles

ফেডারালিজমকে ক্ষতবিক্ষত করছে কেন্দ্র! সুকান্তকে প্রশ্ন বাণে বিদ্ধ করে কটাক্ষ ব্রাত্যর

সমগ্র শিক্ষা মিশনের কোটি কোটি টাকা আটকে রেখেছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। সেই এবার সেই ইস্যুতে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী...

সারদা-নারদা থেকে সাম্প্রদায়িক উস্কানি! শুভেন্দুর কুকীর্তি নিয়ে ‘চার্জশিট’ প্রকাশ তৃণমূলের

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে এবার সরাসরি ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করল তৃণমূল কংগ্রেস। সারদা-নারদা মামলা থেকে...

জুতো দেখিয়ে ‘চোর’ স্লোগান! BLO-দের বিক্ষোভের মুখে দলবদলু বিরোধী দলনেতা

নির্বাচন কমিশনের(Election commission) অপরিকল্পিত এসআইআর প্রক্রিয়ায় (sir protest ) রাজ্যে প্রাণ হারিয়েছেন অনেকে। ভোটার থেকে বিএলও- তালিকায় আছেন...

মে মাসেই রাজ্য জয়েন্ট! দায়িত্ব নিয়েই জানালেন গৌতম পাল

রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা হবে মে মাসের শুরুতেই। ভোট মিটলেই নেওয়া হবে পরীক্ষা।  রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের চেয়ারম্যান...