Friday, June 12, 2026

আগে আইশৃঙ্খলা, পরে অন্য সব: তসলিমা নিয়ে শমীকের বক্তব্যের পাল্টা জবাব তৃণমূলের

Date:

Share post:

আগে আইশৃঙ্খলা। পরে অন্য সব। বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে কলকাতায় ফেরানো নিয়ে বিজেপি (BJP) সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের (Shamik Bhattacharya) মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সাফ জানালের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের (CPM) রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) বলেন, জ্বলন্ত সমস্যা থেকে নজর ঘোরাতেই পরিকল্পিত ভাবে এই সব ইস্যু তুলছে বিজেপি।

১৮ বছর আগে বই নিয়ে বিতর্কের জেরে কলকাতা ছাড়তে হয় তসলিমা নাসরিনকে (Taslima Nasreen)। বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে কলকাতায় আশ্রয় নিয়ে ছিলেন তিনি। ২০০৭ সালে বাংলা ছেড়ে পরে দেশেও ছাড়েন ‘লজ্জা’র লেখিকা। পরে ফিরে আসেন দিল্লিতে। হঠাৎ তাঁকে নিয়ে সরব বিজেপি। সোমবার, কলকাতায় তসলিমাকে ফেরানোর আর্জি জানালেন বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য।

সোমবার তসলিমাকে (Taslima Nasreen) কলকাতায় ফেরানোর জন্য সংসদে সওয়াল করেন শমীক। তসলিমাকে কলকাতা-ছাড়া করার জন্য বামেদের আক্রমণ করেন বিজেপি সাংসদ। একই সঙ্গে নিশানা করেন কংগ্রেসকেও। আর্জি জানান, উপযুক্ত নিরাপত্তা দিয়ে ফেরানো হোক বিতর্কিত লেখিকাকে। হঠাৎ তসলিমার হয়ে আবেগে ভেসে শমীক বলেন, “তসলিমা কলকাতাকে ভালবাসেন। তিনি কলকাতায় থাকতে চান, বাংলায় কথা বলতে চান, বাংলায় কবিতা লিখতে চান।”

এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিজেপি সাংসদকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট করেন তসলিমাও। লেখেন, ”সাংসদ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিআই) গুরুদাস দাশগুপ্ত ২০০৭ সালে আমাকে নিয়ে প্রথম কথা বলেছিলেন ভারতের সংসদে। আমি তখন সবে পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকার দ্বারা পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিতাড়িত। বাংলার টানে, প্রাণের টানে যে শহরে বসবাস শুরু করেছিলাম, সেই শহর থেকে কখনও যে বিতাড়িত হবে হবে, কল্পনাও করিনি। শ্রদ্ধেয় গুরুদাস দাশগুপ্ত এর প্রতিবাদ করেছিলেন। তিনি দাবি জানিয়েছিলেন, আমাকে যেন পশ্চিমবঙ্গে ফিরতে দেওয়া হয়। তারপর দীর্ঘ বছর কোনও রাজনীতিক আমার কলকাতায় ফেরা নিয়ে কোনও কথা বলেননি।”
আরও খবরনয়া  দৃষ্টান্ত  মমতা সরকারের, মহিলাদের স্বনির্ভর গোষ্ঠী দেশ সেরা

এদিন সংসদ থেকে বেরিয়েই তসলিমা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বলেন, ”আগে আইনশৃঙ্খলাকে গুরুত্ব দিতে হবে। তারপর অন্য সব। আর যাঁরা বলছেন, তাঁরা কি হিন্দু নাকি? সব ভেকধারী হিন্দু।” কুণাল ঘোষ বলেন, ভুয়ো ভোটার তালিকা, সাম্প্রদায়িকতা-এই সব বিষয় থেকে নজর ঘোরাতেই এই সব প্রসঙ্গ উত্থাপন করছে বিজেপি। তৃণমূল কংগ্রেস এতে পা দেবে না। তসলিমার টুইট প্রসঙ্গে, কুণালের মন্তব্য, সবার হাতে ফোন। সবার স্যোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করার অধিকার আছে।

Related articles

সাইয়ের প্রকল্প বাস্তবায়নে জোর, ডুরান্ড কমিটির সঙ্গে বৈঠকে ক্রীড়ামন্ত্রী

ক্রীড়া দফতরের দায়িত্ব নিয়েই দ্রুত কাজ শুরু করে দিলেন ইন্দ্রনীল খাঁ(Dr.Indranil Khan)। শুক্রবার দফায় দফায় বৈঠক সারলেন রাজ্যের...

ক্রীড়া চিকিৎসা ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন: অনুষ্ঠিত হল ‘স্পোর্টসমেড ২০২৬’ আন্তর্জাতিক সেমিনার

শুক্রবার কলকাতায় অনুষ্ঠিত হল একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সেমিনার— 'স্পোর্টসমেড: ফ্রম পারফরম্যান্স টু প্রিভেনশন' (SportsMed: from Performance to Prevention:...

মুখ্যমন্ত্রীর নজরে BGBS-এর ৬৩৫ কোটি টাকার বরাত!

BGBS-এ এলাহী খরচ। একটি নির্দিষ্ট ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাকেই বরাত। নতুন সরকারের আতসকাচের চলায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে...

গ্রেফতার হবেন ইন্দ্রনীল ও তাঁর স্ত্রী! কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

গ্রেফতার হতে পারেন- এই আশঙ্কায় প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen) এবং তাঁর স্ত্রী আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছেন...