Thursday, May 14, 2026

বাংলাই রেকর্ড রাজস্ব তুলে দেয় কেন্দ্রের তহবিলে: তথ্য পেশ মুখ্যমন্ত্রীর

Date:

Share post:

বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে ভুরি ভুরি দান খয়রাতির ছবি মোদি জমানার প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডবল ইঞ্জিন রাজ্যের দুর্নীতিকেও সেখানে চোখে দেখতে পায় না কেন্দ্রের পক্ষপাতদুষ্ট মোদি সরকার। অথচ কেন্দ্রের তহবিলে রেকর্ড করের টাকা জমা দিয়েও বঞ্চনার অন্ধকারেই থাকে বাংলা। এবার কেন্দ্রের সরকারই মেনে নিল এই বাংলা থেকেই কেন্দ্রের তহবিলে রেকর্ড অর্থ তুলে দেওয়া হয়, কোনও বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে নয়। আর বাণিজ্য কর আদায়ে বাংলার রেকর্ড তৈরির কথা নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।

রবিবার এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে পশ্চিমবঙ্গ নিজস্ব সম্পদ সংগ্রহের প্রচেষ্টায় ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলেছে। বাংলার এই অগ্রগমন ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষে সংকলিত আর্থিক ফলাফল থেকে সুস্পষ্ট।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে জিএসটিতে (GST) আমরা আগের বছরের তুলনায় ৪৮০৮ কোটি টাকা বেশি আদায় করেছি। এই বৃদ্ধির হার ১১.৪৩ শতাংশ। জাতীয় গড় যেখানে ৯.৪৪ শতাংশ, সেখানে তার তুলনায় বাংলায় ২ শতাংশ বেশি। এই পরিসংখ্যান বাংলার ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ আর্থিক শক্তির প্রমাণ।

তিনি আরও জানান, রেজিস্ট্রি (registration) ও স্ট্যাম্প শুল্কেও (stamp duty) এবার রেকর্ড করেছে বাংলা। নিবন্ধিত দলিলের সংখ্যা ৬০ হাজার বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আমাদের বাজারের গতিশীলতা দেখায়। ২৪-২৫ সালে এই খাতে আদায় হয়েছে আগের বছরের তুলনায় ১৯০৮ কোটি টাকা বেশি। ৩১.০৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে আয়।

বাংলার সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই সমস্ত কিছু দেখায় যে আমরা স্বনির্ভরতা এবং আর্থিক শৃঙ্খলায় বিশ্বাস করি। আমাদের প্রশাসন বাংলার জনগণের কল্যাণে রাজ্যের আর্থিক ব্যবস্থা সুগম করার জন্য নিরন্তর কাজ করে চলেছে। নিজস্ব সম্পদ সংগ্রহে এই সাফল্যের জন্য আমাদের অর্থ বিভাগ এবং আমাদের সাথে সহযোগিতা করার জন্য সকলকে অভিনন্দন। এভাবেই আমরা শক্তি বাড়িয়ে সুপার শক্তিতে রূপান্তরিত হব।

নিজস্ব আয়ের নিরিখে ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বাংলা। এই বাণিজ্যিক কর মূলত নির্ভর করে রাজ্যের জিএসটি আদায়, বিক্রয় কর, বিদ্যুৎ শুল্ক, প্রফেশনাল ট্যাক্স এবং কোল সেস আদায়ের উপর। বাণিজ্যিক কর ছাড়াও ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে জমি বাড়ি রেজিস্ট্রেশন ও স্ট্যাম্প ডিউটি বাবদ আদায় বেড়ে হয়েছে ৮১২৩.১২ কোটি। ২০২৩-’২৪ অর্থবর্ষে ছিল ৬,১৪৬.০৩ কোটি টাকা। ভূমি রাজস্ব আদায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২৫০ কোটি টাকা। গত অর্থবর্ষে তা ছিল এক হাজার কোটি। আবগারি শুল্কও বেড়ে হয়েছে ১৯ হাজার কোটি। এবার বেড়েছে জিএসডিপিও। রাজ্যে উৎপাদিত সমস্ত পণ্য এবং পরিষেবার মোট আর্থিক মূল্য গত অর্থবর্ষে ১৭ লক্ষ ৯৩৯ কোটি টাকার তুলনায় এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ লক্ষ ৭৯ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকায়।

Related articles

জ্বালানি বাঁচাতে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’! সোমবার আমলাদের মেট্রো সফরের নির্দেশ রেখা গুপ্তার 

মধ্য এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কোমর বেঁধে নামল দিল্লি সরকার। বৃহস্পতিবার জ্বালানি...

মনোবল শক্ত রাখুন, লড়াই চলবে: কালীঘাটের বৈঠক থেকে সতীর্থদের বার্তা নেত্রীর 

মনোবল ভাঙলে চলবে না, বরং হারানো জমি পুনরুদ্ধারে দ্বিগুণ শক্তিতে রাস্তায় নামতে হবে— বৃহস্পতিবার কালীঘাটের বাসভবনে দলীয় সাংসদদের...

“১ টাকায় মনোরঞ্জনকে সই করান”, প্রয়াত টুটুকে নিয়ে অজানা কথা শোনালেন দেবাশিস

সদ্য প্রয়াত হয়েছেন মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি টুটু বোস(Tutu Bose)। সাড়ে তিন দশকের বেশি সময় ধরে মোহনবাগান ক্লাবকে...

২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা

ফল প্রকাশের পরেও রাজ্যে একটি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ঘেরাটোপে ২১ মে ফলতা (Falta) বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট।...