Sunday, April 12, 2026

প্রশাসনিক অব্যবস্থা! ভিড়ের ঠেলায় পুরীতে রথের দিন মাসিরবাড়ি পৌঁছতেই পারল না বলরাম-সুভদ্রা-জগন্নাথের রথ

Date:

Share post:

অব্যবস্থা। প্রশাসন ভিড় সামলাতে না পারায় পুরীতে (Puri) রথের দিন মাসিরবাড়ি পৌঁছতেই পারল না বলরাম-সুভদ্রা-জগন্নাথের রথ (Rath)। শুক্রবার, ব্যারিকেডের মধ্যে ভক্তদের ঢুকে পড়ায় শ্লথ হয়ে যায় গতি। ফলে প্রথম দিনে মাসির বাড়ি গুণ্ডিচা মন্দিরে পৌঁছয়নি রথ। শনিবার দ্বিতীয় দিনে ফের শুরু হয়েছে যাত্রা। পৌঁছেছে বলরামের রথ। সবার শেষে পৌঁছবে জগন্নাথের রথ নন্দীঘোষ।

রীতি মেনে শুক্রবার পুরীতে রথযাত্রার সূচনা হয়। জগন্নাথ মন্দির থেকে মাসির বাড়ি গুণ্ডিচা মন্দিরের দূরত্ব প্রায় আড়াই কিলোমিটারের কাছাকাছি। সবার প্রথমে ছিল বলরামের রথ তালধ্বজ। মাঝে সুভদ্রার রথ দর্পদলন। সবার শেষে ছিল জগন্নাথের নন্দীঘোষ। ব্যাপক ভিড় ও অব্যবস্থার কারণে মাসির বাড়িতে পৌঁছতেই পারেনি একটিও রথ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বলরামের রথ টেনে নিয়ে যাওয়ার সময় অসংখ্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। ভিড়ের চাপে রাস্তায় পড়ে যান অন্তত পাঁচশোর বেশি ভক্ত। রীতিমতো পদপিষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে, তার মধ্যে ৮-৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

কারণ রীতি অনুসারে, সূর্য ডুবে যাওয়ার পরে আর রথ (Rath) টানা যায় না। সেই মতো সন্ধে নামতে যাত্রা বন্ধ করতে হয়। শনিবার ফের রথটানা শুরু হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মাসির বাড়িতে পৌঁছেয়ে বলরাম ও সুভদ্রা রথ। এখন রাস্তায় জগন্নাথদেব। রথের রশিতে টানের সময় চরম বিশৃঙ্খলা।

এর কারণ প্রশাসনিক গাফিলতি বলেই অভিযোগ। কারণ, মাঝপথে বলরামের রথ আটকে যেতেই ব্যারিকেডের মধ্যে ঢুকে পড়েন ভক্তরা। তাতে আরও গোলমাল পাকিয়ে যায়। আটকে পড়েন তিন ভাই-বোন। সূর্য ডোবায় বন্ধ হয় যাত্রা। সারারাত রথেই থাকেন তাঁরা। সকালে শুরু হয়েছে যাত্রা। এই কাণ্ডের জন্য পুরীর প্রশাসনকেই দুষছেন সেবায়েতরা। ঠিকমতো ব্যবস্থা করা হয়নি বলেই এই কাণ্ড বলে অভিযোগ তাঁদের।
আরও খবর: শিয়ালদহ- দমদমের মাঝে ব্রিজের গার্ডার বদল, রেলের কাজের জেরে বাতিল ২৭ ট্রেন!

চলতি বছর প্রথমবার দিঘায় রথযাত্রার আয়োজন করা হয়। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৎপরতায় মূল মন্দির থেকে সুশৃঙ্খলভাবে মাসির বাড়ি গেল তিন দেবতার রথ। কয়েক লক্ষ মানুষের ভিড়েও কোথাও এতটুকু বিশৃঙ্খলা দেখা গেল না। উপরন্ত নির্বিঘ্নে সকলে রথের রশিও স্পর্শ করতে পেরেছেন। সেখানে এত যুগ ধরে পুরীতে ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা পরিচালনা করেও ভক্তদের উন্মাদনা ও ভিড় সামলাতে ব্যর্থ শ্রীক্ষেত্রের সরকার ও প্রশাসন।

 

Related articles

‘মহাকাব্যিক স্ট্রিট ফুড’, উৎপল সিনহার কলম

" নিন, টপ করে খেয়ে নিন..." টপ করে মুখের মধ্যে চলে তো গেল ছোট্ট গোলাকার বলটি। কিন্তু তারপর...

বাংলার জন্য ফের মমতাই প্রয়োজন! তৃণমূল নেত্রীর হয়ে সওয়াল কংগ্রেস নেত্রী রেণুকার

রাজ্যে ভোটের আবহ যত বাড়ছে, ততই বিরোধী শিবিরের সমীকরণ ঘিরে তৈরি হচ্ছে নতুন জল্পনা। এবার খোদ কংগ্রেসের শীর্ষ...

‘গণতন্ত্রের শত্রু’ বিজেপি! গেরুয়া শিবিরের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে গর্জে উঠল গণমঞ্চ

বিজেপির সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ এবং বাংলা ভাগের চক্রান্তের বিরুদ্ধে সরব হলো ‘দেশবাঁচাও গণমঞ্চ’। শনিবার সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার বাগবাজারে আয়োজিত...

বকেয়া ডিএ মেটাতে তৎপর নবান্ন, ১৩ এপ্রিলের মধ্যে এসওপি জমার নির্দেশ অর্থ দফতরের

শিক্ষক ও সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করতে কড়া পদক্ষেপ করল...