Tuesday, March 17, 2026

গণমাধ্যমই সাঁটিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশী তকমা! জবাব দিতে তৈরি বাংলা

Date:

Share post:

পেশায় শ্রমিক। পেটের দায়ে তারা নানা জায়গায় ছোটেন। কাজের তাগিদে অন্যত্র গেলেই একশ্রেণির মিডিয়া চিৎকার করে ওঠে, ওই তো বাংলাদেশি। এসআইআর (SIR) আতঙ্কে পালিয়েছে বাংলাদেশে (Bangladesh)। শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) যে সুরে কথা বলছেন, তা-ই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে একাংশ গণমাধ্যমে (media)। সংখ্যালঘু মুসলিমদের গায়ে সেঁটে দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশি (Bangladeshi) তকমা। কিন্তু এসআইআরে শুধু মুসলিমরাই টার্গেট নয়, এটি দরিদ্র, দলিত, আদিবাসীদেরও অধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র। বিজেপি নেতাদের পাশাপাশি একশ্রেণির মিডিয়ার এই মিথ্যাচারে ক্ষুব্ধ বাংলার জনতা। তারা জোট বাঁধছে, বিজেপিকে মোক্ষম জবাব দেবে সময় এলেই।

সম্প্রতি সল্টলেকের ঝুপড়িতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এক যুবককে সরু গলির মধ্য দিয়ে দৌড়াতে দেখা যায়, ক্যামেরা হাতে সাংবাদিকদের একটি দল তাঁকে ধাওয়া করে। যিনি দৌড়াচ্ছিলেন তাঁর নাম রফিকুল সর্দার। একজন দিনমজুর। তাঁর বাবা-মা এবং পরিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর-১ ব্লকের দোসা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত শ্যামনগর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। তাঁদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় (voter list) রয়েছে। জনৈক রফিকুলকে মিডিয়ার প্রশ্ন, তুমি বাংলাদেশি, তুমি এখানে কী করছো? দলে দলে মিডিয়ার প্রতিনিধিরা আসতে থাকে। আধার ও ভোটার আইডি দেখানোর পরেও তারা থামেনি। তারপরই তাঁদের হাত থেকে বাঁচার জন্য রফিকুল পালানোর চেষ্টা করেন। এরপরই গণমাধ্যমের (media) একাংশ বিকৃত করে সংবাদ পরিবেশন করে। রফিকুলকে ‘পলাতক বাংলাদেশি’ (Bangladeshi) তকমা দিয়ে দেওয়া হয়। এরপর বাধ্য হয়েই আইনের দ্বারস্থ হন রফিকুল।

আরও পড়ুন: SIR আতঙ্কে মৃত্যু: পরিবারের পাশে তৃণমূল নেতৃত্ব

এভাবেই গণমাধ্যমের একটি অংশ বিজেপির ঘৃণা ও বিভাজনের অ্যাজেন্ডাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এখানেই প্রশ্ন, গণমাধ্যম কর্মীদের কি নাগরিকের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করার অথবা শুধুমাত্র চেহারা বা অর্থনৈতিক অবস্থার ভিত্তিতে কাউকে তাড়া করার অধিকার আছে? বিজেপি রাজ্যজুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে। তাঁদের বিভাজনের রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই ২২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারী সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন, এসআইআর (SIR) কার্যক্রম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘বাংলাদেশি’রা কলকাতার বস্তি থেকে পালিয়ে যাচ্ছে। পরে সেই সংবাদ একটি গণমাধ্যম থেকে ডিলিট করে দেওয়া হয় এবং জানানো হয়, এটি ভুল সংবাদ (fake news)। কিন্তু বিজেপির নেতারা বাংলাদেশি তকমা চাপিয়ে দেওয়ার খেলা চালিয়েই যাচ্ছে। মানুষও জোট বাঁধছে তাদের গণতান্ত্রিক উপায়ে জবাব দিতে।

spot_img

Related articles

ভারতীয় দলের কোচ হবেন ধোনি? আগাম শুভেচ্ছা গম্ভীরের

মহেন্দ্র সিং ধোনির(MS Dhoni) সঙ্গে গৌতম গম্ভীরের(Gautam Gambhir) সম্পর্কের শীতলতার অবসান কি হচ্ছে? টি২০ বিশ্বকাপ জয়ের পরই একে...

বিজেপি শিবিরে বড় ভাঙন: পদ্ম ছেড়ে জোড়াফুলে ফিরলেন শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ নেতা, নন্দীগ্রামে তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র?

বাংলায় নির্বাচন ঘোষণার পর দিনই প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিরোধীরা। মঙ্গলবার, বিকেলে পার্থী ঘোষণা করবনে শাসকদল তৃণমূল। তার আগেই...

মিশন সফল! হরমুজ দিয়ে ভারতে পৌঁছল ‘নন্দা দেবী’

প্রায় ৯০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি এলপিজি নিয়ে ভারতের দিকে এগিয়ে আসছিল শিবালিক এবং নন্দা দেবী। ১৬ মার্চ...

প্রার্থীতালিকা প্রকাশের আগে তৃণমূলে প্রাক্তন ক্রিকেটার, যোগদান দুই ভিন্ন সম্প্রদায়ের শিক্ষাবিদদেরও

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election Date) নির্ঘণ্টও প্রকাশিত হয়েছে। এবার প্রার্থীদের নাম প্রকাশ্যে আসার পালা। মঙ্গলবার...