Saturday, November 29, 2025

সাড়ম্বরে যোগদান মেলা নয়, ‘বেনোজল’ আটকাতে টিকিটের বিনিময়ে দলে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত বিজেপির

Date:

টিকিটের আশায় ভোটের আগে পদ্মমুখী রাজনৈতিক দলবদলুরা। কারও ভাগ্যে শিকে ছেঁড়ে। কেউ কল্কে পান না। তাঁদের মধ্যে আবার পুরনো দলের দরজায় কড়া নাড়েন। আর কেউ পড়ে থাকেন বৃত্তের বাইরে। তবে, রাজনৈতিক লাভের আশায় যাঁরা ভোটের আগে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান, তাঁদের অনেকেই নির্বাচনের দলের অবস্থা দেখে পিছু হাঁটেন। সেই অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সতর্ক রাজ্য বিজেপি (BJP)। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে অন্য দলের নেতাদের নেওয়ার আগে যাচাই করে নিতে চাইছেন পদ্মনেতারা। যোগাদানের আগে আদর্শগতভাবে তাঁরা বিজেপির মতাদর্শ মেনে চলবেন কি না সেটা দেখে নিতে হবে। টিকিটের বিনিময়ে যোগদান আটকাতে চাইছে পদ্মশিবির।

একুশের ভোটের আগে বাংলায় ক্ষমতায় আসার জন্য ঝাঁপিয়ে ছিল বিজেপি। যোগদান করানোর জন্য রীতিমতো জেলায় জেলায় মেলা করেছিলেন তৎকালীন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষরা। কলকাতা থেকে চাটার্ড প্লেন ভাড়া করে দিল্লি (Delhi) গিয়ে যোগদান করেন অনেকেই। কিন্তু ভোটের পরেই অনেকেই ফিরেছেন পুরনো দলে। সেসময় কৈলাস বিজয়বর্গীয় (Kailash Vijaybargiya) ছিলেন বঙ্গ বিজেপির পর্যবেক্ষক। এখন দলের পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল। এবার দলবদলের ক্ষেত্রে সংযম চাইছে বঙ্গ বিজেপি। এবারে যোগদানে কোনও আড়ম্বর হবে না। যে মাপের নেতা, সেই আকারেই অনাড়ম্বর যোগদান অনুষ্ঠান করা হবে।

সম্প্রতি দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বকে নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন বনসল। সেখানে রাজ্য বিজেপির সংগঠন সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, অগ্নিমিত্রা পালেরাও ছিলেন। বিজেপির অন্দরের খবর, সুনীল বনশল স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দলবদলে আর কোনও আড়ম্বর নয়। বড় নাম নয়, যাঁরা সত্যিই বিজেপির মতাদর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন, সেই নেতাদের দলে নিতে হবে। ২০২১-এর মতো বড় করে ‘যোগদান মেলা’ করা হবে না। যে সব নেতা মণ্ডলস্তরের তাঁদের যোগদান সারা হবে মণ্ডল স্তরেই। কারও কারও ক্ষেত্রে যোগদান জেলাস্তরে হতে পারে। খুব বড় মাপের নামে ছাড়া যোগদান রাজ্য সদর কার্যালয়ে হবে না। আর সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত হল, টিকিটের শর্তে কাউকে যোগদান করানো হবে না। যোগদান করার পরে আগে দলের কাজ করতে হবে। দল যদি যোগ্য মনে করে তবেই টিকিট দেওয়া হবে।

বঙ্গ বিজেপিতে এখন আদি-নব্যর দ্বন্দ্ব তুঙ্গে। দলবদলুদের বাড়বাড়ন্তে কোণঠাসা দিলীপ ঘোষের মতো আদি বিজেপি নেতারা। কয়েকদিন আগেই ডায়মন্ড হারবার যাওয়ার পথে দলীয় কর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়ছিল দলবদলু শুভেন্দু অধিকরীর (Shubhanedu Adhikari) গোষ্ঠীর নেতা প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে (Sukanta Majumder)। ওঠে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) জিন্দাবাদ স্নোগানও। ভোট ম্যানেজাররা মনে করছেন, দলবদলুরা গেরুয়া ভাবধারার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছেন না। সেই সেকারণেই দলের অন্দরে ক্ষোভ বাড়ছে। এবার অন্য দল থেকে বিজেপিতে (BJP) যোগদানের আগে নেতাদের যাচাই করে নেওয়া হবে। অর্থাৎ ‘বেনোজল’ আটকাতে চাইছে বিজেপি।

Related articles

রাজ্যকে না জানিয়েই আজ থেকে বদলে গেল রাজভবনের নাম!

দীর্ঘদিন ধরেই রাজভবন থেকে সমান্তরাল শাসন চালানোর অভিযোগ উঠছে বাংলার রাজ্যপালদের বিরুদ্ধে। রাজ্যের শাসকদল প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়...

স্কুলের গোলকিপার মাহির হাতে কিপিংগ্লাভস তুলে দেওয়া কেশব আজও খোঁজেন একরোখা দুই চোখ

হাতে আর সময় নেই, শনির রাত পেরোলেই রাঁচি জুড়ে চরম উন্মাদনা। গোটা শহর হামলে পড়েছে একটা টিকিটের জন্য।...

SIR আতঙ্ক: ফর্ম ফিলাপ নিয়ে আশঙ্কায় আত্মঘাতী পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দা

বারবার রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপির তরফ থেকে ভোটার তালিকা সংশোধনীর মধ্যে দিয়ে রাজ্যে এনআরসি চালু করার হুমকি দিয়ে...

রো-কো পারফরম্যান্সের দিকে নজর বোর্ডের, বিশ্বকাপ কি ক্রমশ অনিশ্চিত হচ্ছে হিটম্যানদের!

রবিবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম একদিনের সিরিজ খেলছে নামছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। নেতৃত্ব দেবেন কে এল রাহুল (KL...
Exit mobile version