নির্বাচন কমিশনের কাজের চাপে প্রাণ গিয়েছে পরিবারের রোজগেরে মানুষের। তার উত্তর কমিশনকেই দিতে হবে। আর সেই উত্তরের দাবিতে শনিবার নির্বাচন কমিশন দফতরের (EC office) বাইরে অবস্থান বিক্ষোভে মুর্শিদাবাদের মৃত বিএলও-র (BLO) পরিবার। তাঁদের দাবি, বন্ধ করতে হবে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া। শনিবার সেই বিক্ষোভের জেরে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন সিইও মনোজ আগরওয়াল (Manoj Agarwal, CEO)।
শুধুমাত্র বাংলা নয়, গোটা দেশে প্রায় প্রতিদিন নির্বাচন কমিশনের চাপিয়ে দেওয়া এসআইআর-এর চাপে মারা যাচ্ছেন বুথ লেভেল অফিসাররা। ইনিউমারেশন ফর্ম (Enumeration form) বিলি থেকে সংগ্রহ পর্যন্ত নানা সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা। কিন্তু ডিজিটাইজেশন (digitisation) প্রক্রিয়ায় গিয়ে গভীর সমস্যায় বিএলও-রা। কমিশনের অর্ধপরিকল্পিত অ্যাপ (App) ও সার্ভারের (server) কারণে বিপদের মুখে বিএলও-রা। তার কারণে কাজের চাপেই একের পর এক বিএলও-রা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন। সেই রকমই মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) খড়গ্রামের (Khargram) জাকির হোসেন। তাঁর পরিবার শনিবার কমিশন দফতরের বাইরে ধর্নায় বসে।
রাজ্যের বিএলও-দের সংগঠন বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটি মৃত জাকির হোসেনের পরিবারকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন দফতরে পৌঁছন শনিবার। কিন্তু সেই সময় সিইও নিজের দফতরে না থাকায় তাঁরা বাইরে রাস্তাতেই বসে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। সেই সময় সিইও বিপরীত দিকে বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্সের দফতরে বৈঠকে ছিলেন। সেখান থেকে বেরিয়ে কমিশন দফতরে (EC office) ঢুকতেও বাধা পান তিনি বিক্ষোভের জেরে। এরপর সিইও নিজের দফতরে গেলে সেখানে স্মারকলিপি (deputation) জমা দিতে যান বিক্ষোভকারীরা।
আরও পড়ুন : SIR আতঙ্ক: ফর্ম ফিলাপ নিয়ে আশঙ্কায় আত্মঘাতী পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দা
শনিবার বিএলও-রা দাবি করেন, যে প্রক্রিয়ায় এসআইআর-এর কাজ চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন তাতে বিএলও-দের জীবন আরও বিপন্ন। অবিলম্বে এই কাজ বন্ধ হওয়া দরকার। সেই সঙ্গে এসআইআর চলাকালীন এই প্রক্রিয়ার চাপের কারণে যে বিএলও-রা মারা গিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে। পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও পরিবারের একজনের চাকরি নিশ্চিত করার দায়িত্বও নিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে, দাবি বিএলও-দের সংগঠনের। বিক্ষোভের চাপে পড়ে মৃত জাকির হোসেনের পরিবারের তিন সদস্য ও বিএলও সংগঠনের চারজনকে বৈঠকের জন্য ভিতরে ডাকে কমিশন কর্তৃপক্ষ।
–
–
–
–
–