বারবার রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপির তরফ থেকে ভোটার তালিকা সংশোধনীর মধ্যে দিয়ে রাজ্যে এনআরসি চালু করার হুমকি দিয়ে চলেছে। ইতিমধ্যেই এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার মধ্যে বহু মানুষ তালিকায় নাম না থাকা বা ভুল থাকা সংক্রান্ত আতঙ্কে মারা গিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) তৈরি করা সেই ধোঁয়াশার এসআইআর প্রক্রিয়া কেড়ে নিল আরও একটি প্রাণ। ইনিউমারেশন ফর্ম (enumeration form) ফিলাপ করলে সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় আত্মঘাতী (suicide) পূর্ব বর্ধমানের (East Burdwan) এক মহিলা। পরিবারের দাবি, আতঙ্কেই এত বড় পদক্ষেপ নেন তিনি।
পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের (Bhatar) ভূমশোড় গ্রামের বাসিন্দা মস্তুরা খাতুন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় (voter) তাঁর এবং তাঁর পরিবারের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেই পরিস্থিতিতে বাড়িতে ইনিউমারেশন ফর্মও (enumeration) এসে পৌঁছায়। কিন্তু তিনি এতদিন আতঙ্কে সেই ফর্ম ভরেননি। তাঁর আশঙ্কা ছিল ফর্ম ফিলাপ করলে তাঁর সরকারী সুযোগ-সুবিধাও চলে যেতে পারে, নাম বাদ চলে যেতে পারে ভোটার তালিকা থেকে। শেষ পর্যন্ত পরিবারের লোকেরা জোর করে শুক্রবার তাঁকে দিয়ে ফর্ম ফিলাপ করান। এরপরই রাতে তিনি গায়ে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী হন বলে অভিযোগ।
পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের দাবি, এসআইআর আতঙ্কেই গায়ে আগুন দিয়েছেন মস্তুরা খাতুন। তিনি ভোটার তালিকায় দীর্ঘদিন ধরেই ছিলেন। কিন্তু যেভাবে বহু মানুষের নাম স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ছিল, তাতে তিনি ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ও সরকারি সুযোগ সুবিধা (government allowance) থেকে বঞ্চিত হওয়ার আতঙ্কে ভুগছিলেন। অবিবাহিত হওয়ায় সেই আতঙ্ক তাঁর অনেক বেশি ছিল। শুক্রবার মধ্যরাতে তিনি গায়ে আগুন দেওয়ার পর তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন : মৃত ভোটার ছাড়ালো ১৫ লক্ষ, ডুপ্লিকেট ৫৮ হাজার! প্রকাশ্যে কমিশনের ত্রুটি
এই ঘটনার পরে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান ভাতারের বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী (Mangobinda Adhikari)। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। ভাতার থানার পুলিশ (Bhatar Police station) দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার খবর পেয়ে তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিবার সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। সাংসদ সায়নী ঘোষকে সন্ধ্য়ায় পরিবারের সঙ্গে দেখা করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
–
–
–
–
–