অদূর ভবিষ্যতে পৃথিবীর উপগ্রহ কি চাঁদ থাকবে? এই প্রশ্ন তো উঠছে। কেন? সেটা জানার জন্যেই আজকের এই প্রতিবেদন।
চাঁদ প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৩.৮ সেন্টিমিটার করে পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্য অনুযায়ী, নভোচারীরা চাঁদের মাটিতে স্থাপন করা আয়না থেকে প্রতিফলিত লেজার রশ্মি ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা এ দূরত্ব নির্ভুলভাবে পরিমাপ করছেন।
গড়ে পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব প্রায় ৩ লক্ষ ৮৫ হাজার কিলোমিটার (২ লক্ষ ৩৯ হাজার মাইল)। চাঁদের কক্ষপথ নিখুঁত বৃত্ত নয়। মাসে এই দূরত্ব প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার ওঠানামা করে। ফলেই পূর্ণিমার চাঁদ তুলনামূলক বড় দেখায়, যাকে সুপারমুন বলে।
চাঁদ দূরে সরে যাওয়ার কারণ
জোয়ার-ভাটা। চাঁদের মহাকর্ষ পৃথিবীর এক পাশকে অন্য পাশের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ বেশি আকর্ষণ করে। ফলে পৃথিবীর দুই পাশে দুটি জোয়ার স্ফীতি তৈরি হয়—একটি চাঁদের দিকে মুখ করে, অপরটি বিপরীত দিকে।
পৃথিবী প্রতি ২৪ ঘণ্টায় নিজের অক্ষের চারপাশে ঘোরে। এই ঘূর্ণনের কারণে জোয়ার স্ফীতি চাঁদের সরাসরি আকর্ষণের তুলনায় সামান্য এগিয়ে থাকে। এই সামান্য অগ্রগতি পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে শক্তি সঞ্চার করে, যা চাঁদকে সামনের দিকে এগিয়ে দেয়। ফলে চাঁদের গতি বাড়ে এবং কক্ষপথ লম্বা হয়।চাঁদের দূরত্ব বাড়ার এই প্রক্রিয়ার কারণে পৃথিবীর ঘূর্ণনও ধীর হয়ে যাচ্ছে। প্রতি শতাব্দীতে দিন দৈর্ঘ্য প্রায় ২.৩ মিলিসেকেন্ড বেড়ে যায়।
চাঁদ-পৃথিবীর অতীত সম্পর্ক
চাঁদ প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন বছর আগে তৈরি হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রাথমিকভাবে একটি বৃহৎ গ্রহাকৃতি বস্তু পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রচুর উপাদান মহাকাশে ছিটকে যায়। সেই উপাদানগুলো মিলিত হয়ে চাঁদ গঠন করে।
প্রাথমিক সময়ে চাঁদ ছিল পৃথিবীর অনেক কাছে। তখন চাঁদের প্রভাবে পৃথিবীর ঘূর্ণন দ্রুত হতো। প্রাচীন জীবাশ্ম এবং প্রাকৃতিক স্তরের তথ্য থেকে জানা যায়, প্রায় ৭ কোটি বছর আগে এক দিনের দৈর্ঘ্য ছিল মাত্র ২৩ ঘণ্টা ৫০ মিনিট। সেই সময় আকাশে চাঁদ অনেক বড় দেখাত।চাঁদের ধীরে ধীরে দূরে সরে যাওয়ার প্রক্রিয়া চলতে থাকলেও, এটি মানুষের জীবনের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো বিপদ সৃষ্টি করবে না।
ভবিষ্যতে কী হবে
১০০ কোটি বছরের মধ্যে সূর্যের তাপে সমুদ্র শুকিয়ে যাবে। এর ফলে জোয়ার-ভাটার টান কমে যাবে। চাঁদের দূরে যাওয়ার গতি থেমে যাবে। কয়েক বিলিয়ন বছর পর সূর্য রেড জায়ান্টে পরিণত হবে এবং তখন পৃথিবী ও চাঁদ দুটোই ধ্বংস হয়ে যাবে।
–
–
–