Sunday, March 1, 2026

সোনাগাছি যৌনপল্লীতে SIR ক্যাম্প: দুদিনে সবার ফর্ম ফিলাপের লক্ষ্য কমিশনের!

Date:

Share post:

রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ার শেষ মুহূর্তে এসে হঠাৎ নির্বাচন কমিশনের মনে হল যৌনপল্লীর বাসিন্দাদের ফর্ম পূরণের উদ্যোগ আলাদাভাবে নেওয়া দরকার। যদিও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার প্রথম থেকেই সোনাগাছি (Sonagachhi) এলাকায় পৌঁছে সকলকে এই প্রক্রিয়ার আওতায় আনার চেষ্টা হয়েছে। এবার নির্বাচন কমিশন মঙ্গলবার বিশেষ ক্যাম্পের (special camp) আয়োজন করে সকলের ইনিউমারেশন ফর্ম (enumeration form) ফিলাপের তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার সোনাগাছিতে বিশেষ শিবিরের আয়োজন করে কমিশন যৌনপল্লীর কর্মীদের (sex workers) জন্য। সকাল থেকে শিবিরে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিএলএ-রাও (BLO)। শাসকদলের পক্ষ থেকে সহায়তার জন্য শিবিরে যান রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা (Shashi Panja)। তিনি জানান, আমরাও পুরো মাসব্যাপী এই কাজ করার সময় কখনও তাঁদের পেয়েছি। কখনও পাইনি। এনারা একটু গোপণীয়তা চান। বর্তমানে তাঁদের হাতে সব কাগজ পৌঁছে গিয়েছে। কিন্তু কোনওভাবেই যাতে প্রকৃত নাগরিক, মহিলা বাদ না যায় সেই চেষ্টা। তাঁদের লড়াইতে তাঁরা সর্বক্ষণের সাথী হিসাবে আমাদের পাবেন, এটাই আমরা তাঁদের বলতে চাই। এই এলাকায় রাজ্য সরকার করোনা পরিস্থিতিতেও কাজ করেছে। ফলে তাঁদের নাম যাতে বাদ না যায়, তাঁরা এই ওয়ার্ডের এই বিধানসভা ক্ষেত্রের বাসিন্দা। সরকারের পক্ষ আশ্বাস থাকছে যাতে কোনওভাবে তাঁদের নাম বাদ না যায়।

কমিশনও দায় সারতে মঙ্গলবার উপস্থিত হয় সোনাগাছিতে মঙ্গলবার। রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল দাবি করেন, কোনও যৌনকর্মী, পিছিয়ে পড়া শ্রেণি যাতে এই এসআইআর প্রক্রিয়া থেকে বাদ না যায় তার প্রচেষ্টা কমিশন করছে। এখানের বাসিন্দাদের কাগজপত্র সংক্রান্ত সমস্য়ার জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুুন : সিইও দফতরে অসুস্থ বিএলও-কে নিয়ে আন্দোলন: কমিশনকে সুপ্রিম নির্দেশ মনে করালো তৃণমূল

তবে যেখানে ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে ইনিউমারেশন ফর্মের ডিজিটাইজেশনের কাজ শেষ করতে হবে, সেখানে ৯ ডিসেম্বর কেন যৌনপল্লীতে ক্যাম্প করার কথা মনে হল কমিশনের, সেই প্রশ্নের উত্তর নেই সিইও-র কাছে। ইতিমধ্যেই সোনাগাছির বহু বাসিন্দা নাগরিকত্ব হারানোর ভয়ে ফর্ম তুললেও জমা দেননি। তাঁরা ভোটার তালিকার বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন। তা সত্ত্বেও এত দেরিতে ক্যাম্প করার নিয়ে সিইও (CEO) জানান, এখানে ফর্ম ফিলাপের (form fillup) ক্ষেত্রে ১২টি নথির মধ্যে যে কোনও নথি (document) দিয়েই কাজ হবে। ১৬ তারিখে খসড়া তালিকা (draft voter list) হবে। তার আগে পর্যন্ত তাঁরা নথি জমার কাজ করতে পারেন। তাতেও সব সম্পূর্ণ না হলে ফর্ম টেন দিয়ে তাঁদের ভোটার তালিকায় নাম তোলার কাজ করা যাবে। একাধিক বিকল্পের কথা বললেও আদতে যে হয়রানির শিকার হবেন সমাজের এই অংশের মহিলারা, তা স্পষ্ট সিইও মনোজ আগরওয়ালের বক্তব্যেই।

spot_img

Related articles

নাম বাদের প্রতিবাদ: শুক্রবার মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় মমতা

রাজ্যের মানুষের ন্যায্য ভোটাধিকার রক্ষার লড়াইতে তিনি দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত নিজে গিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুপ্রিম...

স্কুলে কেন্দ্রীয় বাহিনী, কীভাবে সিলেবাস শেষ: সমস্যায় রাজ্যের সরকারি স্কুল

এখনও ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়নি, কিন্তু আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election) ঘিরে প্রস্তুতি তুঙ্গে। মার্চের শুরুতেই রাজ্যের...

পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতে কত বাড়ছে তেলের দাম

পশ্চিম এশিয়া সংঘাতের (Middle East Conflict) মধ্যে ফের ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম (Oil Price Surge)। শনিবার রাতে আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ...

জাতীয় দলে জার্সিতে দেখা যাবে আকিবকে? সংবর্ধনার আগে মুখ খুললেন বোর্ড সভাপতি

জম্মু ও কাশ্মীর (Jammu and Kashmir) ঐতিহাসিক রঞ্জি ট্রফি জয়ের নেপথ্যে বড় ভূমিকা রেখেছেন পেসার আকিব নবি (Akib...