প্রায় তিন মাস পর খুলে গেল শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং ও কার্শিয়াংগামী রোহিণী রোড। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পরে এই গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি রাস্তা চালু হওয়ায় স্বস্তি ফিরল পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহণ সংস্থা এবং হোটেল ব্যবসায়ীদের মধ্যে। আপাতত ছোট গাড়ি চলাচলের অনুমতি মিলেছে। ফলে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং ও কার্শিয়াং পৌঁছতে সময় ও দূরত্ব—দুটোই কমল প্রায় ১০ কিলোমিটার।

প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের কাছে রোহিণী রোড বরাবরই আকর্ষণের কেন্দ্র। পাহাড়, ঝরনা আর ঘন সবুজে ঘেরা এই পথ বহু বছর ধরেই দার্জিলিং ও কার্শিয়াং যাওয়ার ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত। তবে গত ৪ অক্টোবর রাতে প্রবল বৃষ্টির জেরে ভূমিধস নামে। প্রায় ৫০ মিটার রাস্তা ধসে যাওয়ায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় রোহিণী রোড। তার পর থেকেই শিলিগুড়ি থেকে কার্শিয়াং বা দার্জিলিং যেতে হলে ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বা হিলকার্ট রোড ঘুরে যেতে হচ্ছিল। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে যাচ্ছিল। রাস্তাটি বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়েছিলেন পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষজন এবং পরিবহণ সংস্থার চালকেরা। ট্যাক্সিচালকদের সংগঠন তরাই চালক সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, রোহিণী রোড খুলে যাওয়ায় পর্যটন এবং পরিবহণ—দু’দিকেই বড় সুবিধা হবে। যাতায়াতের সময় কমবে, খরচও বাঁচবে।

গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের চিফ এগজিকিউটিভ অনীত থাপা বলেন, দার্জিলিং ও কার্শিয়াং যাওয়ার ক্ষেত্রে রোহিণী রোড বহু বছর ধরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত অক্টোবরে ভয়াবহ ক্ষতির পর দ্রুত সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়েছিল। তার ফলেই আবার যান চলাচল শুরু করা সম্ভব হল।
এই খবরে সবচেয়ে খুশি হোটেল ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, প্রায় তিন মাস ধরে পর্যটক না থাকায় বহু হোটেল বন্ধ ছিল। কর্মচারীরাও কাজ হারিয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন। রাস্তা খোলার খবর পেয়েই আবার ধীরে ধীরে সব স্বাভাবিক হচ্ছে। পর্যটক আসার আশায় কর্মচারীরাও ফিরছেন কাজে।

জিটিএ-র পূর্ত বিভাগের ভারপ্রাপ্ত এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সোনম লেপচার জানান, আপাতত ছোট গাড়ি চলাচলের জন্যই রোহিণী রোড খোলা হয়েছে। বড় গাড়ি চলাচলের জন্য রাস্তা পুরোপুরি প্রস্তুত করতে আরও ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগতে পারে। পর্যটন মরশুমে রোহিণী রোড খুলে যাওয়ায় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দা—সবার মধ্যেই স্বস্তি ও খুশির আবহ পাহাড়জুড়ে।

আরও পড়ুন – জোড়াফুল থেকে হাতে ফিরলেন মৌসম! যোগদানের পরেও তৃণমূল সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য নয়

_

_

_

_
_


