এসআইআর করে যেভাবে রাজ্যের মতুয়া সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশের ভোটারদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন তাতে যে দিল্লির বিজেপির সম্মতি রয়েছে, তা এবার স্পষ্ট করে দিলেন বিজেপির তপশিলি মোর্চার (BJP SC Morcha) সর্বভারতীয় সভাপতি লাল সিং আর্য (Lal Singh Arya)। এই রাজ্যে বসেই শান্তনু ঠাকুরের সুরে এক সুরে কথা বললেন তিনি। তাতে আরও স্পষ্ট হয়ে গেল বিজেপির দিল্লি নেতাদের মতুয়া (Matua) ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র।

বিরোধী দলনেতা এসআইআর (SIR) শুরু হওয়ার পর থেকে বারবার জোর গলায় দাবি করেছেন বাংলাদেশি (Bangladeshi) ও রোহিঙ্গাদের রাজ্য থেকে তাড়াবেন তিনি। যদিও নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকার (voter list) খসড়া তৈরির সময় কোনও রোহিঙ্গা খুঁজে পায়নি। বরং বিপদে পড়েছেন রাজ্যের একটা বড় অংশের মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে তাঁদের নাম।

নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকেই স্বাগত জানালেন বিজেপি তপশিলি মোর্চার সর্বভারতীয় সভাপতি লাল সিং আর্য। তিনি দাবি করলেন, বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে যাঁরা এসেছেন তাঁদের সকলের নামে বাদ যাওয়া উচিত। সেখানে কোনও ধর্মের ভেদ থাকা উচিত নয়। স্পষ্টতই তিনি মতুয়া সম্প্রদায়ের কথা বলতে চাইলেন।
নাগরিকত্ব আইন ২০১৯ সালের লাগু হওয়ার পরেও বাংলার মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষকে নাগরিকত্ব দেওয়ার কোনও প্রচেষ্টাই করেনি অমিত শাহর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। যার ফলে ২০২৬ নির্বাচনের আগে নাগরিকত্ব হারানোর আতঙ্কে মতুয়ারা। সেই আতঙ্ককে বাড়িয়ে লাল সিং-এর (All Singh Arya) দাবি, যে ব্যক্তির নাগরিকত্ব (citizenship) নেই তাঁদের ভোটার তালিকাতেও (voter list) থাকা উচিত নয়।

আরও পড়ুন : সম্প্রীতির লিট্টি-চোখা উৎসব: বিভেদের রাজনীতিকে কটাক্ষ তৃণমূলের

তবে সর্বভারতীয় নেতার বিবৃতি নিয়ে কার্যত বিপাকে বঙ্গ বিজেপি। এমনিতেই এসআইআর-এর ফলে মতুয়া ভোট ব্যাঙ্ক বিজেপির হাতছাড়া। তার উপর সর্বভারতীয় নেতা এমন কথা বলায় তারা যে আরও বিপাকে, স্পষ্ট রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্যের (Samik Bhattacharya) বক্তব্যে। তিনি দাবি করলেন, কেন্দ্রীয় নেতার বিবৃতিতে সম্মতি নেই বিজেপির। এখানেই প্রশ্ন উঠেছে, তবে বিজেপি আদতে কোন নীতির উপর বাংলায় ভোটে জেতার পরিকল্পনা চালাচ্ছে?

–

–

–

–


