সোমবার গঙ্গাসাগরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিবছরের মতো এ বারও গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে তাঁর এই সফর। তবে এ বার রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। এ বছর কুম্ভমেলা না থাকায় গঙ্গাসাগর মেলায় পুণ্যার্থীর ভিড় অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা। সেই লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর নির্বিঘ্ন যাতায়াত ও পরিষেবার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বহু আগেই প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজ্য সরকার। দফায় দফায় নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠক করে আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একাধিক মন্ত্রীকে আলাদা আলাদা দায়িত্বও বণ্টন করা হয়েছে। সবকিছু সরেজমিনে খতিয়ে দেখতেই এ বার নিজে সাগরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।

সোমবার গঙ্গাসাগরে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে যাবেন কপিলমুনির আশ্রমে। সেখান থেকে তাঁর সফরসূচিতে রয়েছে ভারত সেবাশ্রম সংঘ পরিদর্শন। তবে এই সফরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল, মুড়িগঙ্গার ওপর গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস। বহু বছর ধরে এই সেতুর দাবি উঠলেও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি। শেষ পর্যন্ত রাজ্য সরকারই এই প্রকল্পের দায়িত্ব নিয়েছে।

চার লেনের এই সেতু তৈরি হলে গঙ্গাসাগরে যাতায়াতে আমূল পরিবর্তন আসবে। আর ভেসেল বা লঞ্চে করে মুড়িগঙ্গা পেরোতে হবে না। জোয়ার-ভাটার জন্য অপেক্ষার ঝক্কিও থাকছে না। সরাসরি গাড়িতে করেই অল্প সময়ের মধ্যে পৌঁছে যাওয়া যাবে গঙ্গাসাগরে। মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছেন, এই সেতু নির্মাণে প্রায় ১৭০০ কোটি টাকা খরচ হবে। সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং বিশেষ পদ্ধতিতে মুড়িগঙ্গার ওপর এই সেতু নির্মাণ করা হবে।
সফরের অংশ হিসেবে একাধিক প্রশাসনিক কর্মসূচিও রয়েছে। জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। হেলিপ্যাড সংলগ্ন এলাকায় পুণ্যার্থীদের জন্য তৈরি ১০০ শয্যার হস্টেলের উদ্বোধন করবেন তিনি। পাশাপাশি সাগরে নির্মিত ‘বাংলার মন্দির’-এরও উদ্বোধন রয়েছে তাঁর কর্মসূচিতে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই গঙ্গাসাগর সফর ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। বিশেষ করে বহুদিনের স্বপ্নের গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস হতে চলেছে—এই খবরে খুশির হাওয়া এলাকায়।

আরও পড়ুন – নাগরিকত্ব না থাকলে ভোটার তালিকাতেও নয়! মতুয়াদের কোপ বিজেপির সর্বভারতীয় নেতার

_

_

_

_
_


