রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কেরিয়ার সংক্রান্ত পরামর্শমূলক শিক্ষাদানকে আরও সংগঠিত ও কার্যকর করতে জেলা ভিত্তিক পরিকল্পনা ও মান্য কার্যবিধি চালু করল পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় স্কুল স্তরে এই কর্মসূচির বাস্তবায়নে একাধিক অসামঞ্জস্য ধরা পড়ার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, প্রতিটি স্কুলে একজন করে নোডাল শিক্ষক মনোনীত করতে হবে। ওই শিক্ষকই দক্ষতাবৃদ্ধি ও কেরিয়ার সংক্রান্ত কর্মসূচির পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং নথিভুক্তিকরণের দায়িত্বে থাকবেন। জেলা স্তরে এই কর্মসূচির তদারকির দায়িত্ব থাকবে জেলা স্কুল পরিদর্শকদের উপর। সার্কেল স্তরের স্কুল পরিদর্শকরা তাঁদের সহায়তা করবেন।

পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশনের রাজ্য প্রকল্প অধিকর্তা সম্প্রতি সমস্ত জেলা শিক্ষা আধিকারিকদের কাছে পাঠানো নির্দেশিকায় জানিয়েছেন, ইউনিসেফের সহযোগিতায় তৈরি এই মান্য কার্যবিধি বা এসওপি অবিলম্বে জেলা ও স্কুল স্তরে পৌঁছে দিতে হবে। পাশাপাশি দক্ষতা বৃদ্ধি ও কেরিয়ার পরামর্শমূলক শিক্ষাদানের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং নজরদারির সুস্পষ্ট ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি জেলা থেকে ভালো কাজের উদাহরণ নথিভুক্ত করে ছয় মাস অন্তর রাজ্য দপ্তরে পাঠাতে হবে। খুব শীঘ্রই জেলা স্তরের আধিকারিকদের জন্য অনলাইন ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচিও আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে সমগ্র শিক্ষা মিশন।

সমগ্র শিক্ষা মিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, দশ হাজারেরও বেশি স্কুল থেকে সংগৃহীত তদারকি সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গিয়েছে, রাজ্য স্তরে প্রশিক্ষণ ও নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষক ও স্কুল স্তরে একাধিক ঘাটতি রয়ে গিয়েছে। কোথাও শিক্ষক ওরিয়েন্টেশনের অভাব, কোথাও নিয়মিত জীবনদক্ষতা ও কেরিয়ার সংক্রান্ত ক্লাস না হওয়া, আবার কোথাও কেরিয়ার সপ্তাহ পালনে গাফিলতির ছবি উঠে এসেছে। শেখার উপকরণ প্রাপ্যতার ক্ষেত্রেও বেশ কিছু জেলায় সমস্যা ধরা পড়েছে। এই সমস্ত ঘাটতি দূর করতেই নতুন অ্যাকশন প্ল্যান আনা হয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি। কর্তৃপক্ষের মতে, এই উদ্যোগ কার্যকর হলে পড়ুয়াদের শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ কেরিয়ার পরিকল্পনায় নতুন দিশা মিলবে।

আরও পড়ুন – T20 WC: মোটা অঙ্কের ক্ষতির সম্ভাবনা ভারতের, নির্বাসিত হবে বাংলাদেশ?

_

_

_

_
_


