সোমবারই ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাম মাদুরোকে মার্কিন আদালতে পেশ করবে ট্রাম্প প্রশাসন। আর তার সঙ্গেই শেষ হওয়ার পথে লাতিন আমেরিকার আরও একটি দেশের সার্বভৌমত্ব। প্রাথমিকভাবে হুমকির সুরে কথা বললেও নিজেদের পিঠ বাঁচাতে আমেরিকার সঙ্গে কোনও সংঘাতে যেতে চাইছে না নবগঠিত ভেনেজুয়েলা প্রশাসন। মার্কিন আগ্রাসনের কাছেই মাথা নোয়াচ্ছে রডরিগুয়েজ গোমেজ (Delcy Rodriguez Gomez)।

নিকোলাস মাদুরোকে নিউ ইয়র্কে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দ্রুত তাঁর মুক্তির দাবি জানিয়েছিল ভেনেজুয়েলা (Venezuela) সেনাবাহিনী। তাঁদেরই সমর্থনে বর্তমানে রাষ্ট্রপতির আসনে উপরাষ্ট্রপতি রডরিগুয়েজ গোমেজ। কিন্তু এরপর ট্রাম্পের এক হুমকিতে সুর বদল সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রপতির। বাড়াবাড়ি করলে ভেনেজুয়েলায় আরও মার্কিন সেনা নামবে- ট্রাম্পের এই হুমকির পরে শান্তির বার্তা গোমেজের।

শুক্রবার মধ্যরাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মার্কিন সেনাবাহিনীর হামলায় ধ্বংস হয়েছে সাধারণ মানুষের বাড়ি। প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৮০ জন, দাবি ভেনেজুয়েলা (Venezuela) প্রশাসনের। মাদুরোর (Nicolas Maduro) নিরাপত্তা কর্মীদের পাশাপাশি লা গুইরা, কারাকাস, মিরান্ডা এলাকায় সাধারণ নাগরিকদের প্রাণ গিয়েছে। তা সত্ত্বেও মাদুরোর গ্রেফতারিতে রাস্তায় নেমে জয়ের উল্লাস করেছেন মাদুরোর বিরোধী নেত্রী মারিয়া মাচাদো। ফলে পতনের সমূহ সম্ভাবনা দেখতে শুরু করেছেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি গোমেজ। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার কাছে মাথা নত করাই শ্রেয় মনে করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন : রাষ্ট্রসঙ্ঘের পরে পোপ লিও: স্বাধীনতা কী থাকবে ভেনেজুয়েলার, উদ্বেগ প্রকাশ

এর ফলে আমেরিকার আদালতে মাদুরোর লড়াই আরও কঠিন হতে চলেছে। প্রায় ৩৫ বছর আগে পানামার (Panama) রাষ্ট্রপ্রধান ম্যানুয়েল নোরেইগাকেও একইভাবে বন্দি করেছিল আমেরিকা। মার্কিন আদালতের বিচারে তাঁর কারাবাস হয়। মিয়ামি দ্বীপে তাঁকে কারারুদ্ধ (jailed) করা হয়। মার্কিন আইনজীবীদের মতে সেই দশাই হতে চলেছে মাদুরোর। তাঁর সপক্ষে আইনজীবীরা লড়বেন ঠিকই। কিন্তু মার্কিন ডেমোক্রাট ও রিপাবলিকান উভয় দলই মাদুরো প্রশাসনের বিরোধী। ফলে আদালত মাদুরোর বিপক্ষেই রায় দেবে, এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলেরও।

–

–

–

–

–


