Tuesday, January 27, 2026

নির্বিঘ্নে সমাপ্ত বিশ্ব ইজতেমা, তিন দশক পর ঐতিহাসিক সমাবেশের সাক্ষী হুগলি

Date:

Share post:

চার দিন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে চলার পর রবিবার শেষ হল হুগলি জেলার ধনেখালি বিধানসভার অন্তর্গত পুইনান গ্রামে আয়োজিত বিশ্ব ইজতেমা। তবলিঘি জামাতের উদ্যোগে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে এই বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। প্রায় ৩২ বছর পর বাংলার মাটিতে অনুষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক ধর্মীয় সমাবেশ ঘিরে বিপুল আবেগ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা যায় মুসলিম সমাজের মধ্যে।

তীব্র শীত উপেক্ষা করেও এই কয়েক দিনে লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মানুষ ইজতেমায় অংশ নেন। দেশ-বিদেশের ইসলামিক পণ্ডিত, প্রতিনিধি এবং বাংলাসহ বিভিন্ন রাজ্যের মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। ইসলামের সৌভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও বিশ্বশান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এই ইজতেমার আয়োজন বলে জানান আয়োজকেরা।

বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ছিল কড়া নিরাপত্তা ও বিস্তৃত প্রস্তুতি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই প্রশাসনিক বৈঠক করে স্পষ্ট নির্দেশ দেন, এত বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাতে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী মন্ত্রী ও জেলা প্রশাসনের কর্তারা একাধিকবার এলাকা পরিদর্শন করেন এবং গোটা অনুষ্ঠান জুড়ে প্রশাসনিক নজরদারি বজায় রাখা হয়।

ইজতেমা ময়দানে খোলা হয় কন্ট্রোল রুম। বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, পরিবহন, পূর্ত, জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পুলিশ, সংখ্যালঘু বিষয়ক দফতর-সহ একাধিক বিভাগের আধিকারিকেরা সমন্বিত ভাবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজ্য সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের তরফে পাঁচ জন আধিকারিককে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

মূল রাস্তা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে প্রায় পাঁচশো বিঘা জমিতে গড়ে ওঠে বিশাল প্যান্ডেল। জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য তৈরি করা হয় ছটি অস্থায়ী হাসপাতাল ও মেডিক্যাল ক্যাম্প। গোটা এলাকা সিসি ক্যামেরার নজরদারিতে রাখা হয়।

ইজতেমায় অংশ নেওয়া বহু পুণ্যার্থী জানান, এত বছর পর বাংলার মাটিতে বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিতে পারা তাঁদের কাছে ভাগ্যের বিষয়। তাঁরা বলেন, এই প্রার্থনা শুধুমাত্র মুসলিম সমাজের জন্য নয়, গোটা দেশের শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য। একই সঙ্গে তাঁরা স্পষ্ট করেন, এই ধর্মীয় সমাবেশের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক যোগ নেই।

স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তাঁদের কথায়, এত বড় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান কোনওরকম অশান্তি ছাড়াই সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া সত্যিই প্রশংসনীয়। শেষ দিনেও ময়দানে উপস্থিত থেকে সার্বিক তদারকি করেন রাজ্যের মন্ত্রী বেচারাম মান্না। দীর্ঘ ৩২ বছর পর বাংলায় অনুষ্ঠিত এই বিশ্ব ইজতেমা ধর্মীয় সম্প্রীতি, শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।

আরও পড়ুন- সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করেই সরকারি ভাবে পদত্যাগ অনিকেত মাহাতের

_

 

_

 

_

 

_

 

spot_img

Related articles

রাজ্যে SIR-র বৈধতার প্রশ্ন: হাই কোর্টে নতুন মামলা দায়ের

সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক মামলা চলছে। আগামী সপ্তাহে তার শুনানি রয়েছে। এরই মধ্যে কলকাতা হাই...

ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের জমি হস্তান্তরের নির্দেশ হাই কোর্টের

জমি অধিগ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে যে জায়গাগুলির টাকা দিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার এবং অধিগ্রহণ পর্বও মিটে গিয়েছে, কিন্তু জমি...

নবান্নের সামনে ধরনা: শুভেন্দুদের মামলার রায় স্থগিত রাখল ডিভিশন বেঞ্চ

নবান্নের একেবারে দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন কি বিজেপি বিধায়করা? বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর করা এই...

সংশোধনাগারে অতিরিক্ত বন্দি নিয়ে প্রশ্ন হাই কোর্টের! রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব

পর্যাপ্ত জায়গার তুলনায় অধিক সংখ্যক বন্দি এবং রাজ্যের বিভিন্ন সংশোধনাগার থেকে বন্দী মুক্তি নিয়ে কারা বিভাগের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট...