সময় লাগলেও অবশেষে বিশেষভাবে সক্ষম তরুণীর (Physically Challenged Women) বয়ানের ওপরেই ভরসা রাখলেন বিচারক। মহারাষ্ট্রের(Mahashatra) ফৌজদারি আদালত সেই বয়ানের উপরে ভিত্তি করেই ৭ বছর আগের ধর্ষণের ঘটনায় সাজা শোনাল। যদিও এই রায়ের পিছনে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ।

সুপ্রিম কোর্ট এই ঘটনা প্রসঙ্গে জানিয়েছিল, কোনও ব্যক্তি বিশেষভাবে সক্ষম বলেই যে তাঁর বয়ান গ্রহণযোগ্য নয় সেটা একেবারেই নয়। এবার সেই পর্যবেক্ষণের উপর ওপরেই ফৌজদারি আদালত বিশেষভাবে সক্ষম তরুণীকে ধর্ষণের দায়ে ৩৫ বছরের এক ব্যক্তিকে ১০ বছরের কারাবাসের নির্দেশ দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৯ এপ্রিল মহারাষ্ট্রে লোকসভা ভোট চলাকালীন বাড়ি ফিরে পরিবারের লোকজনের নজরে আসে তাঁদের বিশেষভাবে সক্ষম মেয়ে ((Physically Challenged Women)বাড়িতে নেই তবে এর কিছুক্ষণ পরে তরুণী কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফেরেন। পরিবারের লোকজনকে তিনি জানান, বাড়ির পাশের একটি নির্জন রাস্তায় তিনি খেলছিলেন আর সেই সময়ে এক ব্যক্তি তাঁকে জোর করে টেনে নিয়ে যায় নিজের বাড়িতে। তাঁকে মেঝেতে ফেলে ছুরি দিয়ে খুন করার ভয় দেখিয়ে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করে।
তরুণী আরও জানিয়েছিলেন প্রমাণ লোপাটের জন্য সাবান দিয়ে তাঁকে স্নানও করিয়ে দেন অভিযুক্ত। এরপরেই পরিবারের তরফে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এক সেলুনের কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। মামলা চলাকালীন মোট ১৪ জনের সাক্ষ্যও গ্রহণ করা হয়। মামলা চলাকালীন তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষায় উঠে এসেছে তাঁর মধ্যম মাত্রার অক্ষমতা রয়েছে। জানা গিয়েছে, ধর্ষণের সময়ে তরুণীর বয়স ২৫ বছর হলেও তাঁর মানসিক বয়স ছিল ৬ বছর এবং IQ বা বুদ্ধিমত্তার মাত্রা ছিল ৩৬।

মঙ্গলবার ফৌজদারি আদালতের বিচারক সুরেখা এ সিনহা অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের সশ্রম কারাবাসের নির্দেশ দেন। ধর্ষণ, বিশেষভাবে সক্ষমদের প্রতি অপরাধ-সহ একাধিক ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে অভিযুক্তকে।

–

–

–

–



