ঘড়ির কাঁটা বারোটা পেরিয়ে যাওয়ার পরও দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট পুলিশ স্টেশনেই আটক তৃণমূল সাংসদরা। দু’ঘণ্টার বেশি সময় ধরে মহুয়া মৈত্র, শতাব্দী রায়, প্রতিমা মন্ডল, শর্মিলা সরকার, সাকেত গোখলে, বাপি হালদার, কীর্তি আজাদ, ডেরেক ও ব্রায়েনদের ছাড়লো না পুলিশ। এমনকি তৃণমূল সাংসদরা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁদের বাধা দিতে দেখা গেল অমিত শাহের পুলিশকে।পার্লামেন্ট স্ট্রিট পুলিশ স্টেশনের বাইরে ও তৃণমূল সাংসদরা প্রতিবাদ করতে তাঁদের প্রাথমিকভাবে ছাড়ার প্রক্রিয়া শেষ করতে না করতেই ফের আটক করা হল।

শুক্রবার সকালে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দফতরের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল তৃণমূল। আচমকা সেখানে পৌঁছে, দিল্লি পুলিশ রীতিমতো বল প্রয়োগ করে বাংলার সাংসদের আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলে। পরে জানা যায় তাঁদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখান থেকেই ফেসবুক লাইভ করেন কৃষ্ণনগরের সংসদ মহুয়া মৈত্র। বলেন, ‘‘বাংলার মানুষ দেখেছে কী ভাবে শাহের নির্লজ্জ পুলিশ সাত-আট বছরের পুরনো কয়লা কেলেঙ্কারিকে সামনে রেখে, সেই অজুহাত দিয়ে ইডি-কে প্রতীক জৈন ও আইপ্যাকের অফিসে ঢুকিয়েছে। তৃণমূলের রাজনৈতিক তথ্য, নির্বাচনী তথ্য, সমীক্ষা, প্রার্থী তালিকা চুরি করার জন্য ইডি-কে পাঠানো হয়েছিল। কয়লা কেলেঙ্কারির কিছু থাকলে সাত বছর ধরে কি তারা ঘুমোচ্ছিল? রাজ্যে SIR চলছে, সামনে ভোট, এখন ইডি জেগে উঠল? সাত বছরের তথ্য কি এখন প্রতীকের কম্পিউটার বা ফাইলে পাওয়া যাবে?’’


রাজধানীতে এদিন তৃণমূলের ধর্না চলাকালীন পুলিশের সঙ্গে সাংসদদের ধস্তাধস্তি প্রকাশ্যেই দেখা গিয়েছে। বাপি হালদার থেকে সাকেত গোখলের মতো সাংসদদের কার্যত পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। প্রতিমা মণ্ডল, শতাব্দী রায়, মহুয়া মৈত্রকে।গোটা ঘটনায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তোপ দাগেন তিনি। যেভাবে গণতন্ত্রকে শাস্তি দিয়ে অপরাধীকে পুরস্কৃত করার শাসন চালাচ্ছে বিজেপি, তার বিরুদ্ধে বাংলার মানুষ প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
–

–

–

–

–

–

–

