Saturday, February 21, 2026

সব ফাইল নেওয়ার অধিকার কে দিল: বিজেপির ‘ভগবান’ ইডি-কে প্রশ্ন সিবলের

Date:

Share post:

যেভাবে বাংলায় নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডিকে বাংলায় এগিয়ে দিয়ে বাংলার রাজনীতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার, তা রুখে দিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কিন্তু এটাই যে বিজেপির আমলে ট্রেন্ড হয়েছে তা বিরোধী রাজনৈতিক দল পরিচালিত রাজ্যগুলির সত্যি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর তার জন্যই গোটা দেশে বিজেপির আমলেই বিখ্যাত হয়ে গিয়েছে ইডি (ED)। সেখানেই কংগ্রেস সাংসদ তথা বাংলার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী কপিল সিবলের (Kapil Sibal) কটাক্ষ, বিজেপির কাছে ইডি হল ভগবান। ভগবান সর্বত্র উপস্থিত। যখন যেখানে চায় ইডি, সিবিআই-এর মতো সংস্থাকে সব জায়গায় উপস্থিত করে। কংগ্রেসের পাশাপাশি এনসিপিও (NCP) বাংলায় বৃহস্পতিবারের ইডি তল্লাশিতে সরব বিজেপির প্রতিহিংসার রাজনীতির বিরোধিতায়।

বাংলায় আড়াই বছরের পুরোনো কয়লা মামলায় আচমকাই যেভাবে বৃহস্পতিবার আইপ্যাক দফতর (IPAC office) ও আইপ্য়াক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশিতে আসে ইডি, তার সমালোচনা করে কংগ্রেস আমলে তুলনা টেনে আনেন কপিল সিবল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিজেপির সময়ে ইডি সংবাদের শিরোনামে কীভাবে আসে। ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইউপিএ আমল মনে পড়ে যাচ্ছে। কারণ সেই সময়ে আমরা ইডি-কে (ED) এভাবে খোলা মাঠে ছেড়ে দিইনি। আমরা মিথ্যে তথ্যের ভিত্তিতে কোনও রাজনৈতিক দল বা দলের নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ কখনও দিইনি।

এপ্রসঙ্গেই ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সিবলের দাবি, নির্বাচনের আগে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকে হেনস্থা করার জন্যই বিজেপি ইডি, সিবিআই-কে ব্যবহার করে। কেরালা, ঝাড়খণ্ড, বিহার সব ক্ষেত্রেই একই জিনিস আমরা দেখেছি। এবার বাংলায় নির্বাচন আসছে। এখানে ওরা কখনই জিততে পারবে না। তাই সেখানে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলকে বিরক্ত করার চেষ্টা।

আইনজীবী হিসাবে কপিল সিবল এদিন ইডি-কে প্রশ্ন করেন, মানছি কোনও একটি তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে তোমাদের। কিন্তু তার জন্য সব ফাইল কী তুলে নিয়ে যেতে পারো তোমরা। সেই সঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, কয়লা মামলা নিয়ে তদন্ত হলে সেই সংক্রান্ত তথ্য তাঁদের প্রয়োজন থাকলে তাঁরা কম্পিউটারে হাত দেওয়ার আগে আপনারা অনুমতি নেবেন না? সেখানে আদৌ কোনও তথ্য রয়েছে কিনা তা দেখার জন্য কম্পিউটার পরীক্ষা করার অনুমতি প্রয়োজন নয় কী?

আরও পড়ুন : কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন: মানবিক হওয়ার আবেদন জানিয়ে জ্ঞানেশকে চিঠি মমতার

কপিল সিবলের পাশাপাশি কংগ্রেস মুখপাত্র সামা মহম্মদও (Sama Mohammed) এদিন ইডি-র পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, ইডি বিজেপির রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে গিয়েছে। কোনও তদন্তে আইপ্য়াকের দফতরে যাওয়ার প্রয়োজন হলে অন্য শহরেও তারা যেতে পারত। গোটা দেশে তাদের দফতর রয়েছে। কেন কলকাতা দফতরেই। কারণ সেখানে নির্বাচন আসন্ন।

কংগ্রেসের পাশাপাশি এনসিপি (NCP) সাংসদ সুপ্রিয়া সুলেও (Supriya Sule) বিজেপির ইডি-পরিচালনা নিয়ে সরব হন। তিনি দাবি করেন, কলকাতায় যে ঘটনা ঘটেছে তা দুঃখজনক। আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি চালানো ও সেখান থেকে তৃণমূলের নথি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এটা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক।

spot_img

Related articles

ভাষার উপর আক্রমণ বরদাস্ত নয়, অমর একুশের পোস্টে সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর 

একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের (International mother language day) বিশ্বের সব ভাষার প্রতি সম্মান জানালেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা...

সুপ্রিম নির্দেশে আজ রাজ্য ও কমিশনের সঙ্গে বৈঠক হাইকোর্টের

শীর্ষ আদালতে এসআইআর (SIR) মামলায় কলকাতা হাইকোর্টকে বড় নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) । লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে...

রাজবংশী ও কুড়মালি ভাষার জন্য রাজ্যের লড়াই: অষ্টম তফসিলের দাবি কেন্দ্রকে

বারবার নিজেদের আদিবাসী ও মূলবাসী বন্ধু হিসাবে প্রমাণ করার চেষ্টা করা নরেন্দ্র মোদি সরকার যে আদতে মিথ্যাচার করে...

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে প্রশ্ন: বন্দেমাতরম-নির্দেশিকা নিয়ে হাই কোর্টে মামলা

একসময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশ্ন তুলে বন্দেমাতরমের একাধিক স্তবক নিয়ে দ্বিমত হয়েছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্বরা। সেই বন্দেমাতরম-এর (Vande Mataram)...