ব্যক্তির থেকে বড় দল, ছোটখাটো-মাঝারি নেতা তাঁদের নামে জয়ধ্বনি না দিয়ে দলটাকে ভালবেসে দলের নামে জয়ধ্বনি দেবেন। সোমবার মিলন মেলায় সোশ্যাল মিডিয়া ডিজিটাল কনক্লেভের মঞ্চ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সেইসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ডিজিটাল যোদ্ধাদের জন্য তাঁর বার্তা, আমাদের সরকারের ইতিবাচক প্রকল্প এবং কাজগুলো যাতে সঠিকভাবে মানুষের কাছে তুলে ধরা হয় তার দায়িত্ব আপনাদেরই নিতে হবে।

অভিষেক বলেন, আগে যেভাবে রাজনীতি হত বা নির্বাচন হত সেভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার কোনও গুরুত্ব ছিল না।
কিন্তু এখন সময় বদলেছে। তাই সোশ্যাল মিডিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। বিজেপি একটা পোস্ট করলে সেটা ক্রস চেক করে তার কাউন্টার পোস্ট করতে হবে। নির্দেশ দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের।

উপচেপড়া ডিজিটাল কনক্লেভে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক ডিজিটাল যোদ্ধাদের সেনাবাহিনীর মতো তিনটি ভাগে ভাগ করেন। তাঁর কথায়, ভারতীয় সেনার মতো এখানেও তিনটি ভাগ আছে। যারা সংগঠনের কাজ করছেন-দেয়াল লিখছেন-মিছিলে হাঁটছেন-পতাকা বাঁধছেন, তাঁরা দলের আর্মি। যাঁরা দলের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করছেন, লিখছেন, কাউন্টার করছেন তাঁরা দলের এয়ার ফোর্স। আর আমরা যারা পার্লামেন্টে লড়ছি, হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্টে লড়ছি-মানুষের সঙ্গে থাকছি, তাদের ধরে নিন নেভি। এই তিনের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। এই তিনটি এক গতিতে একসঙ্গে ছুটতে শুরু করলে বিরোধীদের চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে সমস্যা হবে না।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ২৫০ আসনের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়ে বলেন, বাংলায় বিজেপিকে ৫০-এর নিচে নামাব। এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে আইপ্যাকের দফতরে ইডির রেড প্রসঙ্গ তুলে বিজেপির এজেন্সি পলিটিক্সের বিরুদ্ধে তোপ দেগে অভিষেক বলেন, আইপ্যাকের তিন জন ডিরেক্টর। একজনের বাড়িতে রেড কেন? দিল্লি, হায়দরাবাদ আর চেন্নাইয়েও অফিস রয়েছে আইপ্যাকের। তবে শুধু কলকাতার দফতরে রেড কেন? আসলে ওরা রেড করতে আসেনি তথ্য চুরি করতে এসেছিল। এগুলো মানুষকে বোঝান। ফেসবুক লাইভ করুন। যাদের টিভিতে টাকা নিতে দেখা যায় তারা সাধু-পুরুষ। গতবার আমার ফোনে পেগাসাস ঢুকিয়েছিল। তাও হেরেছে। এবারও হারবে। আমার ছোট ছোট ছেলেমেয়েদেরও ছাড়েনি। ওরা কী ভেবেছে!

অভিষেক বলেন, বিজেপি নাকি বিভিন্ন বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের চার্জশিট রিলিজ করবে। তাদের ব্যর্থতা তুলে ধরবে! ডিজিটাল যোদ্ধাদের প্রতি অভিষেকে নির্দেশ, মানুষের কাছে বাংলার প্রতি বিজেপি বঞ্চনার কথা তুলে ধরুন। বলুন মোট ২ লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া। হিসেব করে তিনি বলেন, প্রতি বিধানসভায় ৬৮০ কোটি এবং প্রতি বুথে ২.৫ কোটি টাকা বকেয়া। বিজেপি যতবার ক্ষমতায় এসেছে মানুষ তত সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে, মানুষ বিপদে পড়েছে। ডিজিটাল যোদ্ধাদের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ, বাংলার প্রতিটি ওয়ার্ডে-প্রতিটি অঞ্চলের যারা দলের প্রতিনিধি তারা বিজেপির কাউন্টার করবে। সরকারের উন্নয়নের কাজ মানুষের কাছে উপস্থাপিত করবে। সস্তার আলোচক্রের মন্তব্য শুধুমাত্র লাইক বা ভিউ বা শেয়ার করার জন্য করবেন না। যুক্তি এবং তথ্য দিয়ে পরিসংখ্যান দিয়ে কাজ করবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের প্রচার করবেন।

আরও পড়ুন- সেনাবাহিনীর ধাঁচে তিন বাহিনী নিয়ে ভোটযুদ্ধে নামবে তৃণমূল: লড়াইয়ের রূপরেখা জানালেন সেনাপতি অভিষেক

_

_

_

_
_


