দামামা প্রায় বেজে গিয়েছে। ভোট যুদ্ধের প্রতিশ্রুতি শাসক-বিরোধী সব শিবিরে। এই পরিস্থিতিতে লড়াইয়ে রূপরেখা জানালেন তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাঁর কথায়, ভারতীয় সেনাবাহিনীর (Indian Army) ধাঁচে তিন বাহিনী লড়াই করবে ছাব্বিশের ভোট যুদ্ধে। আগামী ১০০ দিনের কাজের ‘ব্লু-প্রিন্ট’ও তৈরির নির্দেশ দেন অভিষেক।

ভারতীয় সেনাবাহিনীতে রয়েছে স্থল বাহিনী (Army), বায়ুসেনা (Navy) ও নৌসেনা (Air Force)। সেই রকম তিন বাহিনী রয়েছে তৃণমূলেও (TMC)। আসন্ন বিধানসভা ভোটে তাঁরা লড়াইয়েরা ময়দানে থাকবেন। সোমবার, মিলনমেলায় ‘আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা’ কনক্লেভে তৃণমূলের সেনাপতি অভিষেক বলেন, “আগে যুদ্ধ হত হাতি-ঘোড়ায়। আজ কীভাবে যুদ্ধ হয়? নেভি-আর্মি-এয়ারফোর্স।” তৃণমূল কংগ্রেসকে তিনটে ভাগে ভাগ করেন। তাঁর মতে, বুথে যাঁরা বসছে তাঁরা দলের সম্পদ, যাঁরা পতাকা লাগাচ্ছেন, মিছিলে হাঁটছেন, ফেস্টুন বাঁধছেন তাঁরা দলের আর্মি। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করছেন তাঁরা দলের এয়ারফোর্স। লোকসভার দলনেতার কথায়, “আমরা সুপ্রিম কোর্টে মামলা লড়ি, সংসদে মানুষের কথা তুলি। মানুষের পাশে থাকি। আমরা নেভি। যাঁরা মিছিলে হাঁটেন, পতাকা বহন করেন, ব্যানার-ফেস্টুন লাগান, তাঁরা আর্মি। আর আপনারা ডিজিটাল (Digital) যোদ্ধারা যাঁরা সমাজমাধ্যমে লড়াই করেন, তাঁরা এয়ারফোর্স।”

এই তিন বাহিনীর ভূমিকা কী হবে, তাও স্পষ্ট করে দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বলেন, “এটা মাথায় রাখবেন। আর আমরা যাঁরা সংসদে লড়ছি, মানুষের সঙ্গে থাকছি তাঁরা নেভি। তৃণমূলের বুথ কর্মীরা যদি ইন্ডিয়ান আর্মি হয়, আমরা নেভি, আর সোশ্যাল মিডিয়ারা এয়ারফোর্স। তিনজনের মধ্যে পার্থক্য নেই।” অভিষেকের দাবি, এরা সকলে এক গতিতে কাজ করলে বিরোধীদের চূর্ণ বিচূর্ণ করতে সময় লাগবে না। আগামী ১০০ দিন ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বলে জানান অভিষেক। কোনও আত্মতুষ্টিতে ভোগা নয়। লড়াই করতে হবে। ১৫ তারিখ থেকে শুরু করে প্রথম পাঁচ দিনের জন্য কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় লড়াই হবে, তার পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরি রাখতে হবে। তারপর পরের পাঁচ দিন- এভাবে ডিজিটাল (Digital) যোদ্ধাদের ১০০ দিনের ব্লু-প্রিন্ট তৈরির নির্দেশ দেন অভিষেক।
আরও খবর: Raid করতে নয়, তথ্য চুরি করতে এসেছিল ইডি! ‘ডিজিটাল যোদ্ধা’ কনক্লেভে বিস্ফোরক অভিষেক
অভিষেকের নির্দেশ, ফেসবুক, এক্স (আগের টুইটার) ও ইনস্টাগ্রামে তৃণমূলের উপস্থিতি আরও জোরালো করতে হবে। এ বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ”মিথ্যেকে সত্য আর সত্যকে মিথ্যা বানিয়ে রাজনীতি করা আমাদের আদর্শ নয়। বিজেপির কোনও দাবি এলেই আগে তার সত্যতা যাচাই করতে হবে, তারপর প্রকৃত তথ্য মানুষের সামনে আনতে হবে।” অভিষেক সাফ জানান, ”আমরা মিথ্যেবাদী পার্টি নই।”

–

–

–

–

–

–


