আইপ্যাক অভিযান মামলায় ইডি (ED raid in IPAC case hearing) সম্পূর্ণ সত্যি কথা বলছে না, শীর্ষ আদালতের শুনানিতে স্পষ্ট জানালেন রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল (Kapil Sibbal)। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে এগারোটার পর থেকে সবার নজর সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দিকে।বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র ও বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে এদিন শুনানির শুরুতেই জেনারেল অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী, ইডির তদন্তের প্রয়োজনীয় সব তথ্য নিয়ে চলে গেছেন। পাল্টা সিব্বল জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছিলেন তৃণমূলের চেয়ারপার্সেন হিসেবে আর তিনি দলের প্রয়োজনীয় নথি যা বেহাত হয়ে যেতে পারে বলে মনে করেছেন সেগুলোই ওখান থেকে নিয়ে গেছেন। শুধু তাই নয় তিনি আদালতের সামনে ইডির (ED) নিজস্ব পঞ্চনামা তুলে ধরে জানান, সেখানে স্পষ্ট লেখা আছে—আই-প্যাক অফিস বা প্রতীক জৈনের (Pratik Jain) ফ্ল্যাটে কোনও অনিয়ম বা অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেনি। কপিল বলেন পঞ্চনামায় ইডির অফিসারদেরই সই রয়েছে। অথচ পিটিশনে উল্টো কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ পিটিশনের বক্তব্য পঞ্চনামার সম্পূর্ণ বিপরীত।


গত ৮ জানুয়ারি ভোরবেলা আইপ্যাক এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় এজেন্সি। ইডির তরফ থেকে বলা হয় পুরনো কয়লা কেলেঙ্কারি মামলার তদন্তের জন্যই নাকি এই হানা। কিন্তু ভোটের মুখে কেন? যেখানে এটা সর্বজনবিদিত যে আইপ্যাক তৃণমূলের ভোট পরিচালনা করে সেখানে দাঁড়িয়ে নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এভাবে সেখানে অভিযান চালানো হল কেন? এদিন কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল বারবার অভিযোগ করেন যে মুখ্যমন্ত্রী প্রয়োজনীয় সব নথি নিয়ে চলে গেছেন। কিন্তু রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল (Kapil Sibbal) জানান, প্রতীকের বাড়ি থেকে একটি ল্যাপটপ এবং একটি ফোন নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যেটা পঞ্চনামায় উল্লেখ করা আছে। সেখানে দলীয় নথি থাকার কারণে সেগুলোকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় এজেন্সি সম্পূর্ণ সত্যি কথা বলছে না। বরং মূল ঘটনাকে রং ছড়িয়ে আদালতের সামনে উপস্থাপিত করা হচ্ছে বলে পাল্টা অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী। ইডির পক্ষপাতদুষ্ট প্রচেষ্টা আসলে আদালত এবং জনমতে একটা ধারণা তৈরি করার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। এরপর বিচারপতি মিশ্র প্রশ্ন করেন, “পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কি আই-প্যাক করায়, না নির্বাচন কমিশন?” সিব্বল বলেন, “আই-প্যাকের কাছে দলের বিপুল তথ্য থাকে। ইডি জানত সেই তথ্য সেখানে রয়েছে—এই কারণেই নির্বাচনের মধ্যে সেখানে যাওয়ার প্রশ্ন উঠছে।” দুপুর দুটোর পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

–
–

–

–

–

–

–

–


