‘সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার’-এর টানেই আধ্যাত্মিকতা, বিশ্বাস ও বিপুল জনসমাগমের এক অনন্য মহামিলনে পরিণত হল গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬। মকর সংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে গঙ্গা ও বঙ্গোপসাগরের সঙ্গমস্থলে দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর ঢল নামে। কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশাকে উপেক্ষা করেই পুণ্যস্নানে অংশ নেন ভক্তরা।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ১৯ মিনিটে মকর সংক্রান্তির মাহেন্দ্রক্ষণ অতিক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয় এবারের মেলা। মেলার শেষ দিনে সাগরদ্বীপের মেলা প্রাঙ্গণে এক উচ্চপর্যায়ের সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, পরিবহন ও পঞ্চায়েত দফতরের মন্ত্রীরা এবং জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা।

সাংবাদিক বৈঠকে মন্ত্রী জানান, এ বছর গঙ্গাসাগর মেলায় রেকর্ড ১ কোটি ৩০ লক্ষ পুণ্যার্থী পুণ্যস্নান করেছেন। মেলার স্মৃতি ধরে রাখতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বসানো ১৫টি ‘বন্ধন বুথ’ থেকে প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ ই-পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছেন।
নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেলায় হারিয়ে যাওয়া ৬৬৩২ জন পুণ্যার্থীর মধ্যে ৬৬২৭ জনকে তাঁদের পরিজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ছিনতাই ও পকেটমারির ৪৫৬টি অভিযোগের মধ্যে ৪৩৮টি ক্ষেত্রে খোয়া যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ৮৮৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চিকিৎসা পরিষেবাতেও বিশেষ তৎপরতা ছিল প্রশাসনের। মেলা চলাকালীন গুরুতর অসুস্থ পাঁচ জন পুণ্যার্থীকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়। যদিও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দু’জন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন অসমের মিঠু মণ্ডল এবং বিহারের মৃত্যুঞ্জয় সিং।

মেলা শেষে অধিকাংশ পুণ্যার্থীই এখন ঘরমুখো। সামগ্রিকভাবে এবারের গঙ্গাসাগর মেলা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব দফতরকে ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী।

আরও পড়ুন – SIR-এর চাপে ব্যাহত ক্লাস! লেখাপড়ার ঘাটতি মেটাতে ‘বাংলার শিক্ষা’ পোর্টালে এবার ডিজিটাল লার্নিং

_

_

_
_

