বিধায়ক, সাংসদের পর এবার এসআইআরের শুনানিতে ডাক রাজ্যের মন্ত্রী থেকে বিরোধী দলের বিধায়ককেও।
তথ্য যাচাই করতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকদের শুনানিতে ডাক পাঠাচ্ছে কমিশন। এবার সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলেন রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী তাজমুল হোসেন(Tajmul Hossian) এবং ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী।
আগামী ২৯ জানুয়ারি শুনানিতে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দুই জনপ্রতিনিধিকে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে, কারণ শুধু এই দুজনই নন এর আগেই সাংসদ দেব থেকে শুরু করে বায়রণ বিশ্বাস- একাধিক সাংসদ দেরও একই ধরনের নোটিশ ধরিয়েছে কমিশন।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের বিধায়ক তথা মন্ত্রী তাজমুল হোসেনের(Tajmul Hossian) নিজের বা তাঁর বাবার নামের বানানে আগের তালিকার সঙ্গে অমিল পাওয়া গেছে। সোমবার তাঁকে নোটিশ দিয়ে জানানো হয়েছে, ২৯ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় তাঁকে স্থানীয় খিজিরিয়া বাংরুয়া প্রাইমারি স্কুলে তাঁকে প্রয়োজনীয় নথিসহ উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।

এই খবর পেয়ে বেশ অবাক হয়ে মন্ত্রী তাজমুল বলেন, “যে কমিশনের অধীনে ভোট লড়ে আমি তিনবার বিধায়ক হলাম, আজ তারাই আমার ভোটার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলছে?”

একইভাবে নোটিশ পেয়েছেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীও। যদিও নওশাদ হুগলির জাঙ্গিপাড়ার ভোটার, কিন্তু তাঁকেও শুনানির তালিকায় রাখা হয়েছে। কিন্তু তালিকায় নাম আসায় তিনি মোটেও দমে যাননি। নওশাদের সাফ কথা, “সংবিধানের ৩২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমার ভোটদানের অধিকার নিশ্চিত। আমার ভোট দেওয়ার অধিকার কারুর আশীর্বাদ বা অভিশাপের ওপর নির্ভর করে না।”

ভোটার তালিকা যাচাইয়ের জন্য এসআইআর নিয়ে সাম্প্রতিককালে বেশ কড়াকড়ি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। শুধুমাত্র তাজমুল বা নওশাদই নন, এই তালিকায় নাম জড়িয়েছে আরও অনেকের – ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ ও অভিনেতা
দেব (দীপক অধিকারী), মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার ও রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম , জঙ্গিপুরের বিধায়ক জাকির হোসেন ও তৃণমূলের বায়রণ বিশ্বাস। এমনকি কংগ্রেস নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়কেও তলব করা হয়েছে।

তাজমুল হোসেন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বামফ্রন্ট থেকে শুরু করে বর্তমানে তৃণমূলের হয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। অন্যদিকে, ২০২১ সালে সংযুক্ত মোর্চার একমাত্র জয়ী প্রতিনিধি হিসেবে নওশাদ সিদ্দিকী নজর কেড়েছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে মন্ত্রী থেকে শুরু করে সাংসদদের নাম আসায় প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কমিশন কি কেবল তথ্যগত ভুল সংশোধন করছে নাকি এর পেছনে অন্য কোনো বড় প্রক্রিয়া চলছে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

–

–

–

–
–


