“A picture says a thousand words”- এক ছবিতে ধরা পড়ে মুহূর্ত। নিজের দীর্ঘ চিত্র সাংবাদিকতা জীবনের বিরল ফ্রেম দুমলাটে বন্দি করে প্রকাশ করলেন বিশিষ্ট চিত্র সাংবাদিক অশোক মজুমদার। মঙ্গলবার, কলকাতা প্রেস ক্লাবে (Kolkata Press Club) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হল তাঁর প্রথম বই -ছবিওয়ালার গল্প। মান্দাস প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত বইটিতে (Book Released) গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তোলা ১০১টি বাছাই করা ছবি এবং তার নেপথ্যের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন অশোক মজুমদার (Ashok Majumder)। এদিনের অনুষ্ঠানে ছিলেন নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী, রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়ন্ত ঘোষাল, দেবশঙ্কর হালদার, পুষণ গুপ্ত, রঞ্জন সেন, কিংশুক প্রামাণিক, সুমন ভট্টাচার্য এবং সুমন দে-সহ অন্যান্যরা।
ইন্দিরা গান্ধী থেকে বারাক ওবামা, অমর্ত্য সেন থেকে স্টিভেন স্পিলবার্গ, কিংবা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লড়াই- চিত্র সাংবাদিকের লেন্সে ধরা পড়া সেই সব মুহূর্তগুলিই এখন রয়েছে পাতায় পাতায়। বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্টজনদের বক্তব্যে উঠে আসে অশোক মজুমদারের বহুমুখী প্রতিভার কথা। সংবাদ জগতের পাশাপাশি নাটকের মঞ্চেও তিনি সমানভাবে সাবলীল। বইয়ের ট্যাগলাইন- “দেখতে হয় নইলে চোখ বন্ধ করে থাকতে হয়”— এটাই যেন তাঁর দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের মূল বক্তব্য।
পরিচালক গৌতম ঘোষ এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, “স্টিল ফটোগ্রাফি এমন এক মাধ্যম যা একটা মুহূর্তকে সারা জীবনের জন্য ধরে রাখে। ক্যামেরায় ধরে রাখা সেই মুহূর্তগুলো স্মৃতি মালা তৈরি করে । অশোক সত্তর বা আশির দশক থেকে সেই কাজটাই নিপুণভাবে করে আসছে।” তাঁর মতে, এই বইয়ের মাধ্যমে বোঝা যায় একজন ফটোগ্রাফার সমাজকে ঠিক কোন দৃষ্টিতে দেখেন। আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্টের আত্মসমর্পণের নির্দেশের পরেই অপসারিত রাজগঞ্জের ‘বিতর্কিত’ বিডিও

প্রাক্তন সাংসদ তথা সাংবাদিক কুণাল ঘোষ এই বইটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘দলিল’ হিসেবে অভিহিত করে জানান, “রিপোর্টারদের চেয়েও চিত্র সাংবাদিকদের কাছে অনেক বেশি না-বলা গল্প বা ‘আনটোল্ড স্টোরি’ থাকে। তাঁদের ছাড়া সাংবাদিকতা অসম্পূর্ণ।”

অন্যদিকে, চিত্র সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ও আশা দুই-ই প্রকাশ করেন সাংবাদিক বিশ্ব মজুমদার। তিনি বলেন, “বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার দাপটে খবরের কাগজ পড়ার চল কমলেও ছবির গুরুত্ব কমেনি। কারণ চিত্র সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে একটি ছবি হাজারটা শব্দের চেয়েও বেশি শক্তিশালী।”

জয়ন্ত ঘোষাল জানান, ‘ছবিওয়ালা’ শব্দটির মধ্যে এক গভীর কাব্যিক ব্যঞ্জনা আছে এবং অশোক মজুমদার নিজে একজন দক্ষ লেখক। সুমন ভট্টাচার্য ও রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় শিল্পীর কাজের প্রতি প্যাশন বা ‘পাগলামি’র প্রশংসা করেন। নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী, অশোকের ক্রমাগত উন্নতির প্রশংসা করেন এবং কলকাতার চিত্র সাংবাদিকদের ভারতের শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করেন পুষণ গুপ্ত।

নিজের বই প্রসঙ্গে অশোক মজুমদার লিখেছেন, জীবনের পথ চিনতে না পারলেও তাঁর ‘ছবিওয়ালা’ সত্তাই তাঁকে নিজের আসল রূপ চিনিয়েছে। সেই চেনার গল্পই এখন পাঠকদের ড্রয়িং রুমের সঙ্গী। অনুষ্ঠান শেষে লেখক-চিত্রগ্রাহক বলেন, কোনওরকম ঝামেলা বা কোন সমস্যা সৃষ্টি হলে- সেই ঘটনার চিত্র মানুষের সামনে তুলে ধরতে ঘটনাস্থলে লড়াই করে চিত্র সাংবাদিকরাও। তবে তিনি জানান, আর কয়েকদিনের মধ্যেই চিত্র সাংবাদিকতা ছেড়ে এবার থেকে শুধু নাটকেই মনোযোগ দেবেন।

–

–

–

–



