কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগকে সামনে রেখে আশাকর্মীদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল রাজ্য। নূন্যতম ১৫ হাজার টাকা বেতন-সহ একাধিক দাবিতে বুধবার স্বাস্থ্যভবন অভিযানের ডাক দিয়েছে ‘পশ্চিমবঙ্গ আশাকর্মী ইউনিয়ন’। তার ২৪ ঘণ্টা আগে মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে আশাকর্মীদের ধৈর্য ধরার আর্জি জানালেন রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। একই সঙ্গে সাফ জানিয়ে দিলেন, আশাকর্মীদের নিয়ে রাজনীতি করে কিছু পক্ষ নিজেদের আখের গোছাতে চাইছে।
এদিন স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগমকে পাশে বসিয়ে চন্দ্রিমা পরিসংখ্যান দিয়ে জানান, ২০০৮ সালে যখন রাজ্যে এই প্রকল্প শুরু হয়, তখন আশাকর্মীরা মাত্র ৮০০ টাকা ভাতা পেতেন। বর্তমানে সেই সাম্মানিক ধাপে ধাপে বেড়ে হয়েছে ৫২৫০ টাকা। মন্ত্রীর দাবি, এই অর্থ পুরোটাই রাজ্য সরকার বহন করে। এর বাইরে প্রাপ্য ভাতার ৪০ শতাংশ রাজ্যের অংশ তো রয়েছেই। সব মিলিয়ে একজন আশাকর্মী মাসে হাতে প্রায় ১০ হাজার টাকা পান, যার ৭২.৫ শতাংশই দেয় রাজ্য সরকার।
বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির তুলনা টেনে চন্দ্রিমা বলেন, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশে আশাকর্মীদের সাম্মানিক যথাক্রমে ৪০০০ ও ১৫০০ টাকা। অথচ পশ্চিমবঙ্গে বিপুল কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাম্মানিক বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছেন। মন্ত্রীর অভিযোগ, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন প্রকল্পে রাজ্যের ৮৫৮২ কোটি টাকা বকেয়া রেখেছে কেন্দ্র। সামগ্রিকভাবে রাজ্যের পাওনা প্রায় ১ কোটি ৯৭ লক্ষ কোটি টাকা। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েও রাজ্য সরকার ১০০ কোটি টাকা খরচ করে আশাকর্মীদের স্মার্টফোন দিচ্ছে এবং ৫ লক্ষ টাকার অবসরকালীন ভাতার ব্যবস্থা করেছে।
মন্ত্রীর প্রশ্ন, কেন্দ্রের প্রকল্প হওয়া সত্ত্বেও এবং কেন্দ্র টাকা না দিলেও কেন আন্দোলন শুধু রাজ্যের বিরুদ্ধে? কেন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কোনও কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে না? তাঁর আবেদন, মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের ক্ষমতায়নে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা কন্যাশ্রীর মতো প্রকল্প নিয়েছেন। তাই কোনও রাজনৈতিক দলের ফাঁদে পা না দিয়ে বা ব্যবহৃত না হয়ে আশাকর্মীদের কাজে ফেরা উচিত। ২২ ডিসেম্বর থেকে চলা কর্মবিরতির ফলে পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
আরও পড়ুন – অশোক মজুমদারের ‘ছবিওয়ালার গল্প’-এ বঙ্গজীবনের চালচিত্র
_
_

_

_

_

_



