কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত করার ক্ষেত্রে কি রাজ্য পুলিশের হাত পা বাঁধা? এবার সেই ধোঁয়াশা পরিষ্কার করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, রাজ্যের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে কোনও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী দুর্নীতি করলে রাজ্য পুলিশ বা রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখা অনায়াসেই তদন্ত শুরু করতে পারে। এমনকি চার্জশিট পেশ করার জন্যও সিবিআইয়ের (CBI) আগাম অনুমতির কোনও প্রয়োজন নেই।
বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার বেঞ্চ রাজস্থান হাইকোর্টের একটি রায়কে বহাল রেখে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত জানায়। আদতে রাজস্থানের দুর্নীতি দমন শাখা (ACB) এক কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছিল। সেই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে ওই কর্মী দাবি করেছিলেন, যেহেতু তিনি কেন্দ্রের অধীনস্থ কর্মচারী, তাই তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত করার একচেটিয়া অধিকার একমাত্র সিবিআই-এরই রয়েছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়েছে।
শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘প্রিভেনশন অফ করাপশন অ্যাক্ট’ বা দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের আওতায় কোনও অপরাধ ঘটলে রাজ্য পুলিশ তা খতিয়ে দেখার পূর্ণ এক্তিয়ার রাখে। দিল্লি স্পেশাল পুলিশ এস্টাব্লিশমেন্ট অ্যাক্ট, যার মাধ্যমে সিবিআই ক্ষমতা পায়, তা কোনওভাবেই স্থানীয় পুলিশের সাধারণ তদন্ত করার অধিকার কেড়ে নেয় না। আদালতের কথায়, সিবিআই একটি বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন সংস্থা হতে পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে অপরাধ দেখেও রাজ্য পুলিশ হাত গুটিয়ে বসে থাকবে।
এই রায়ের সপক্ষে ১৯৭৩ সালের একটি পুরনো মামলার (এসি শর্মা বনাম দিল্লি প্রশাসন) উদাহরণ টানে শীর্ষ আদালত। সেখানেও বলা হয়েছিল, বিশেষ কোনও সংস্থাকে তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া মানে অন্য সংস্থার স্বাভাবিক আইনি ক্ষমতা খর্ব করা নয়। কেরালা, মধ্যপ্রদেশ এবং অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের একই ধরনের কিছু রায়কেও এদিন মান্যতা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আইনজীবীদের মতে, এই রায়ের ফলে কেন্দ্রীয় সরকারি দফতরগুলিতে দুর্নীতির শিকড় উপড়াতে রাজ্যগুলির আইনি লড়াই আরও সহজ হলো। এখন থেকে কোনও কেন্দ্রীয় কর্মীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে সিবিআইয়ের ছাড়পত্রের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হবে না। রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থাগুলি সরাসরি পদক্ষেপ নিতে পারবে এবং তাদের পেশ করা চার্জশিটকেও কোনওভাবে অবৈধ বলে দাগিয়ে দেওয়া যাবে না।
আরও পড়ুন- দেড় দশক পর বইমেলায় ফিরছে চিন, ২২ জানুয়ারি উদ্বােধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী
_
_

_

_

_

_


