গত বছরের শুরু থেকে মার্কিন শুল্কনীতির খাঁড়া ভারতের উপর চেপে বসায় শেয়ার বাজার সেই যে নিম্নগামী হয়েছিল, ক্ষুদ্র থেকে মাঝারি শিল্প, আমদানি-রফতানি শিল্পের বাজারে যে ধস নেমেছিল, তার পরে আজও ভারতের পক্ষে মাথা তুলে দাঁড়ানো সম্ভব হয়নি। সেই ডুবন্ত নৌকার পালে হাওয়া লাগাতে ইউরোপের হাত শেষ পর্যন্ত ধরেই ফেললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। খুলে গেল ইউরোপের (Europe) ২৭ দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্যের (free trade) পথ। ফলাফল স্বরূপ, মঙ্গলবার শেষলগ্নে ভারতের সেনসেক্স, নিফটিতে মন্দের ভালো প্রতিফলন।

আদতে কীভাবে ভারতকে সাহায্য করবে ভারত ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ‘মাদার অফ অল ডিলস’:

- এই চুক্তিতে বিশ্বের ২৫ শতাংশ জিডিপি-কে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ইউরোপের ২৭ দেশ ও ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যার অর্থনীতি এই চুক্তির আওতাধীন হতে চলেছে।
- একদিকে ইউরোপের দেশগুলি ভারতের ১৪০ কোটি জনগণের সামনে তাঁদের বাণিজ্য সামগ্রী তুলে ধরতে পারবে। অন্যদিকে ভারতের উৎপাদিত সম্পদ ইউরোপের ২৭ টি দেশে মুক্ত বাণিজ্য করতে পারবে।
- মুক্তি বাণিজ্যের ফলে উভয় পক্ষই বিনা শুল্কে বাণিজ্যের সুবিধা পাবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেখানে ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে, সেখানে ইউরোপে ভারতের বাণিজ্য হবে শুল্কমুক্ত বা নামমাত্র শুল্কের বিনিময়ে।
- ভারতের বিভিন্ন সামগ্রী যা আগে ইউরোপের বাজার ধরতে অক্ষম ছিল, এবার তার জন্য দরজা খুলে গেল। ভারতের বস্ত্রশিল্প (textile), চামড়াজাত দ্রব্য, সামুদ্রিক সম্পদ, চা-কফি, মশলা, প্যাকেটজাত খাবার ইত্যাদি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের বাজার খুলে যাচ্ছে ইউরোপে (Europe)।
- আবার মুক্ত বাণিজ্যের জন্য বিপুল শুল্ক চাপানো ইউরোপের সামগ্রী এখন ভারতের বাজারে সস্তায় পাওয়া যাবে। গাড়ি থেকে মহাকাশ গবেষণা, যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক সামগ্রী থেকে ওষুধের দাম ভারতের বাজারে কমে যাবে।
আরও পড়ুন : দেশজুড়ে ফের ঊর্ধ্বমুখী সোনার দাম!

একদিকে ভারত ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এই চুক্তির মধ্যে দিয়ে নিজেদের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার বার্তা দেয় মঙ্গলবার। অন্যদিকে দিল্লিতে বসে মার্কিন মুলুকে এই বার্তা পৌঁছে যায় – ট্রাম্প যেভাবে দাবি করেছিলেন, তাঁর দেশে উৎপাদিত সামগ্রী বিক্রি করা একটি মহাপ্রাপ্তি সব দেশের কাছে – তাঁর সেই ধারণাও কতটা ভ্রান্ত। বিশ্বের এই দুই শক্তি একজোট হতে পারে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এমনটা আশঙ্কা করেই কী গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ন্যাটো-র (NATO) অন্তর্ভুক্ত দেশগুলির উপর শুল্কের (US tariff) ঘোষণা করেও পিছিয়ে এসেছিলেন ট্রাম্প, উঠছে সেই প্রশ্নও।

–

–

–

–

–

–


