উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে জাতিগত বৈষম্য যাতে মাথা চাড়া দিতে না পারে তা নিশ্চিত করতে ১৫ জানুয়ারি হঠকারী পদক্ষেপ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC)। নয়া প্রস্তাবিত গাইডলাইন অনুযায়ী প্রতিটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ইক্যুয়াল অপরচুনিটি সেন্টার’ (EOC) তৈরি বাধ্যতামূলক। ইক্যুয়াল অপরচুনিটি সেন্টার নিয়েই তুঙ্গে বিতর্ক। ইউজিসির এই নয়া গাইডলাইন (Guide Line) প্রত্যাহার চেয়ে দিকে দিকে জ্বলছে বিক্ষোভের আগুন।

UGC-র নয়া নির্দেশিকায় কী বলা হয়েছে?
* প্রতিটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ইক্যুয়াল অপরচুনিটি সেন্টার’ (ইওসি) তৈরি বাধ্যতামূলক
* এই সেন্টারের অধীনে গঠিত হবে ‘ইক্যুইটি কমিটি’
* এই ‘ইক্যুইটি কমিটি’র মাথায় থাকবেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান
* কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব করবেন ওবিসি, এসসি, এসটি, মহিলা এবং বিশেষ ভাবে সক্ষম ব্যক্তিরাও
* এই কমিটি জাতিগত সংক্রান্ত অভিযোগের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে, দরকার হলে ব্যবস্থা নেবে
* যদি কোনও প্রতিষ্ঠান এই নিয়মগুলি না মানে তবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন তাদের স্বীকৃতি বাতিল করতে পারে, বন্ধ করতে পারে ফান্ড দেওয়া

এই গাইডলাইন নিয়ে এখন রাজনীতি, সমাজ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কের ঝড়। নতুন নিয়ম ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তর ভারত-সহ দেশের বিভিন্ন অংশে শোরগোল পড়েছে। বিজেপির ভিতরেই এখন প্রতিবাদের সুর উঠেছে। বিশেষ করে উচ্চবর্ণের সঙ্গে যুক্ত সংগঠন এবং প্রভাবশালী ধর্মীয় ও সামাজিক নেতারা এই বিধি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনের আগে এই বিষয়টি এখন রাজনৈতিক রূপ ধারণ করতে শুরু করেছে।

উচ্চবর্ণের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলি কেন প্রতিবাদ করছে?
এই বিধি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশের অনেক জায়গায় উচ্চবর্ণের সংগঠনগুলির মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, যে আইনটির অপব্যবহার করা হতে পারে এবং উচ্চবর্ণের ছাত্র ও শিক্ষকদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। জয়পুরে করণি সেনা, ব্রাহ্মণ মহাসভা, কায়স্থ মহাসভা এবং বৈশ্য সংগঠনগুলি এই আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করার জন্য সবর্ণ সমাজ সমন্বয় কমিটি (S-4) গঠন করেছে। গাজিয়াবাদের দাসনা পীঠের প্রধান যতি নরসিংহানন্দ গিরি প্রকাশ্যে ইউজিসি নিয়মের বিরোধিতা করেছেন। তিনি যন্তর মন্তরে অনশন করার জন্য দিল্লি যাচ্ছিলেন, কিন্তু গাজিয়াবাদে পুলিশ তাঁকে আটক করে। পরবর্তীতে তিনি যোগী সরকারকে উচ্চবর্ণের কণ্ঠস্বর দমন করার অভিযোগ করেন, যার ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক ইউটিউবার, প্রভাবশালী এবং উচ্চবর্ণের অনেকে এটিকে উচ্চবর্ণ বিরোধী আইন বলে অভিহিত করছেন।

সংসদ এবং সুপ্রিম কোর্টে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক উপস্থাপিত তথ্য অনুসারে, গত পাঁচ বছরে বর্ণ বৈষম্যের অভিযোগ ১১৮.৪% বেড়েছে। ২০১৯-২০ সালে ১৭৩টি অভিযোগ থেকে ২০২৩-২৪ সালে এই সংখ্যা বেড়ে ৩৭৮টিতে দাঁড়িয়েছে। ৭০৪টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১হাজার ৫৫৩টি কলেজ থেকে মোট ১হাজার ১৬০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। ইউজিসি-র নতুন নিয়মের পক্ষে এই তথ্যগুলিকে তার সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তি হিসেবে উল্লেখ করছে।

–

–

–

–

–


