রাজনীতির ময়দানে পেরে না উঠে বাংলা ও বাংলার সংস্কৃতিকে কালি লাগাতে উঠে পড়ে লেগেছে বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া সেল। এবার বিজেপির সেই সোশ্যাল মিডিয়া সেলের সেই পর্দা ফাঁস হয়ে গেল। যে ধর্ষকদের মদত দিয়ে আইটি সেল চালাচ্ছে সেই সেলের অন্যতম সদস্য শমীক অধিকারীকে পুলিশ বান্ধবীকে যৌন নিগ্রহের অভিযোগে গ্রেফতার করল বৃহস্পতিবার রাতে। আর তারপরেই তাঁর সমর্থনে ময়দানে নামলেন খোদ বিজেপি আইটি সেল প্রধান অমিত মালব্য। যা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।

ভোটের আগে বাংলাকে বদনাম করতে বিজেপি সোশ্যাল মিডিয়ার ইনফ্লুয়েন্সারদের নিয়ে যত ষড়যন্ত্র সাজিয়েছে, সব ফাঁস হচ্ছে একে একে। দিনকতক আগেই মাটন-বিফের তর্কাতর্কিতে সমাজে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন সমাজমাধ্যমের এক পরিচিত মুখ। কিন্তু বাংলার মানুষ সেই ফাঁদে পা দেয়নি। এবার সরকারকে বদনাম করে ফুটেজ খাওয়া আর এক ইনফ্লুয়েন্সারেরও আসল চেহারাটা বেরিয়ে পড়ল। পুলিশ সূত্রে খবর, বান্ধবীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগে বেহালা থানায় শমীক অধিকারীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৭(২), ১১৫(২), ৭, ৪ এবং ৩৫১(২) নং ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দিনভর লুকোচুরির পর অবশেষে সন্ধ্যায় দমদম থেকে ওই ইনফ্লুয়েন্সারকে গ্রেফতার করেছে বেহালা থানার পুলিশ। ইতিমধ্যেই এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালে ধৃত ইনফ্লুয়েন্সারের শারীরিক পরীক্ষা হয়েছে। সেখানেই আবার অমিত মালব্য (Amit Malviya) দাবি করেছেন, বান্ধবী মিথ্যা বলছেন। এরকম ঘটনা ঘটলে তিনি আগে কেন অভিযোগ দায়ের করলেন না।

সরাসরি শমীকের মতো ইনফ্লুয়েন্সারদের (social media influencer) দিয়ে যে বাংলা বিরোধী কাজ করাতেন বিজেপির মালব্য, তা প্রমাণ করে দিলেন তিনি নিজেই। দাবি করেছেন, কেউ জানতে পারল না এমন ঘটনা কখন ঘটে গেল। কেউ জানতে পারল যে অভিযোগকারিনী আগে এমন কোনও অভিযোগ করেছেন বলে। প্রকাশ্যে এই নিয়ে কোনও তথ্য আনতে পারেননি তিনি। অর্থাৎ অভিযোগকারিনীকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন মালব্য। অথচ অভিযোগকারিনীর ডাক্তারি পরীক্ষায় স্পষ্ট, তাঁর উপর শারীরিক নিগ্রহ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : অন্তর্বর্তী বাজেট: ডুমুরজলায় স্পোর্টস সিটি, বারুইপুরে কালচারাল সিটি! উন্নয়নে বড়সড় ঘোষণা রাজ্যের

বিজেপির মালব্যর মুখোশ খুলে পড়তেই কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, ধর্ষকদের আড়াল করা অমিত মালব্য (Amit Malviya) কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে (content creator) আড়াল করছেন। তিনি প্রশ্ন তুলছেন, অভিযোগকারিনী মিথ্যাবাদী বলে এবং কেন তিনি আগে অভিযোগ করেননি। সেখানেই তথ্য তুলে কুণাল সামনে আনেন, ঘটনা ঘটেছে ২ ফেব্রুয়ারি যখন তিনি ১২ ঘণ্টার জন্য বন্দি ছিলেন। এরপর তিনি অভিযোগ দায়ের করেন এবং এফআইআর লাগু হয় ৪ ফেব্রুয়ারি।

–

–

–

–


