“I come… from which India? I come… from two Indias.
Those are the Indias I bring on stage with me right now.”
কৌতুকশিল্পী বীর দাসের কবিতা ‘Two India’ তত্ত্ব তুলে ধরে লোকসভায় বাজেট অধিবেশনের ভাষণে ঝড় তুললেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সেই কবিতাকেই হাতিয়ার করে মোদি সরকারকে তীক্ষ্ণ আক্রমণ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। একের পরে এক তথ্য তুলে কর ব্যবস্থা থেকে বাংলার বঞ্চনা নিয়ে কেন্দ্রীয় বাজেটকে নিশান করেন তিনি। মুগ্ধ হয়ে শুনল বিজেপি বিরোধীদলগুলি। বাক্যহারা বিজেপিও। অভিষেকের ভাষণের মধ্যে টু শব্দ করতে পারল গেরুয়া শিবির।

অভিষেক বলেন, “আমি এমন ভারতের নাগরিক, যেখানে একদিকে ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ’ ভারতের প্রচার হয়, আর অন্য দিকে মাতৃভাষা কাউকে সন্দেহের পাত্র করে তোলে। বাংলায় কথা বললে কেউ বাংলাদেশি হয়ে যান, মাছ খেলে মুঘল বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়।” 

অভিষেকের (Abhishek Banerjee) কথায়, “আমি সেই ভারতের নাগরিক, যে ভারত বিপ্লবীদের জন্ম দিয়েছে, রক্তে সাহসের সঞ্চার করেছে। আবার সেই ভারতেই ‘জয় বাংলা’ বলা, ‘আমার সোনার বাংলা’ গাওয়া অনুপ্রবেশকারী বলে দাগিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। আমি সেই ভারতের নাগরিক, যেখানে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ বলে বুক চাপড়ানো হয়, আবার সেই ভারতেই পশ্চিমবঙ্গের প্রাপ্য বকেয়া , ১.৯৬ লক্ষ কোটি টাকা আটকে রাখা হয়। শুধু টাকা আটকে রাখা হয়নি, উৎকর্ষতা আটকে দেওয়া হয়েছে, প্রত্যেক ভারতীয় এবং প্রত্যেক রাজ্যের সমানাধিকারের যে বিধান রয়েছে সংবিধানে, তা আটকানো হয়েছে। এটা শাসনকাজ নয়, যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নয়, এটা একটা বার্তা যে, লাইনে না এলে মূল্য চোকাতে হবে। আমাদের দুর্ভাগ্য যে, এই মুহূর্তে ভারতের দু’টি চেহারা, একটি ভারতকে অন্য ভারতের সামনে মাথানত করতে বলা হচ্ছে। এটাই সত্য।”

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণকে নিশানা করে অভিষেক বলেন, “আমি এমন ভারতের নাগরিক, যেখানে অর্থমন্ত্রী গর্ব সহকারে ঘোষণা করেন যে, ভারত সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি। আবার এই ভারতেই সাত বছরে ৬.৫ লক্ষ কোটি টাকা করের জোগান দিয়ে, সেখান থেকে নিজের অধিকারের ভাগ পায় না বাংলা। বার বার অনুরোধ, আর্জি জানিয়েও, ১০০ দিনের কাজ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে আমাদের, আবাস যোজনা, গ্রাম সড়ক প্রকল্প, এমনকি ‘জল জীবন মিশনের’ আওতায় পানীয় জলের অধিকারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমন ভারতের নাগরিক আমি, যেখানে সুশাসনের প্রচার করা হয়। কিন্তু এই ভারতেই পরিত্যাগ করা হয়, দরিদ্র মানুষকে রোটি-কপড়া-মকানের জন্য লড়াই করতে হয়। আমি এমন ভারতের বাসিন্দা, যেখানে রাজধানীতে পেরেক পুঁতে, কংক্রিটের বেড়া তুলে কৃষকদের আন্দোলন আটকে দেওয়া হয়। আবার এই ভারতেই জঙ্গিরা রাজধানীতে ঢুকে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ১৫ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করতে পারে। আমি সেই ভারতের নাগরিক, যেখানে সর্বোচ্চ দফতর থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় যে, দেশের সীমান্ত নিরাপদ, লঙ্ঘন করা যাবে না। আবার সেই ভারতেই প্রতিশ্রুতি ধুলোয় গড়াগড়ি খায়। সন্ত্রাসবাদীরা সীমান্ত টপকে ঢুকে পড়ে, নিরাপত্তার বেড়াজাল এড়িয়ে পহেলগাঁওয়ে ঢুকে পড়ে এবং ২৬ জন নিরীহ নাগরিককে প্রকাশ্য দিনের আলোয় হত্যা করে।”
আরও খবর: জনগণের উপর তিনগুণ কর: কর্পোরেট-বন্ধু, কৃষক-বিরোধী বাজেট নিয়ে সংসদে সরব অভিষেক

একের পর এক উদাহরণ তুলে যখন কেন্দ্রের মোদি সরকারকে ধুয়ে দিচ্ছেন অভিষেক, তখন মুহূর্মূহ টেবিল চাপড়ে তাঁকে সমর্থন জানিয়েছেন তৃণমূল-সহ অন্যান্য বিরোধীদলের সাংসদরা। আর যে বিজেপি সাংসদরা বিরোধীরা বলতে উঠলেই আলটপকা মন্তব্য করে বিরক্ত করেন, টিপ্পনি করেন- তাঁরাও এদিন বাক্যহারা। কথা জোগায়নি গেরুয়া শিবিরের মুখেও।

–

–

–

–

–

