কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলার বঞ্চনা। লোকসভায় (Lok Sabha) বাজেট অধিবেশনে (Budget Session) বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদি সরকারকে তুলোধনা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। মঙ্গলবার ভাষণে একের পর এক তথ্য তুলে কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলাকে বঞ্চনার সমালোচনা করেন অভিষেক।

কেন্দ্রীয় বাজেটকে (Centre Budget) ‘অন্তঃসারশূন্য’ বলে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, “অর্থমন্ত্রী ৮৫ মিনিট ধরে বাজেট ভাষণ দিয়েছেন, কিন্তু একবারের জন্যও ‘বাংলা’ শব্দটি উচ্চারণ করেননি। সংবিধান রাজ্যগুলির মধ্যে সমতার কথা বলে, কিন্তু এই সরকার বেছে বেছে নিজেদের জোটসঙ্গীদের সাহায্য করছে আর বিরোধীদের ভাতে মারছে। এটা ‘কো-অপারেটিভ ফেডারেলিজম’ নয়, বরং এটা একটা ‘সাবস্ক্রিপশন বেসড ফেডারেলিজম’।”

তীব্র কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, “কিছুদিন আগে আমেরিকায় তরুণ কমেডিয়ান দুই ভারতের কথা বলেছিলেন। তাতে বহু মানুষ হেসেছিল। কিন্তু তিনি শুধু হাস্যরস সৃষ্টি করেননি। আয়না দেখিয়েছেন। আমি সেই দুই ভারতের প্রতিনিধি।” অভিষেক বলেন, “আমি এমন এক ভারত থেকে আসি যেখানে বলা হয়, এক ভারত-শ্রেষ্ঠ ভারত। আবার সেখানেই স্রেফ মাতৃভাষাকে সন্দেহের কারণ হিসাবে দেখা হয়। বাংলা বললেই বাংলাদেশি, মাছ খেলেই মোগল। এখানে জয় বাংলা বললেই, আমার সোনার বাংলা গাইলেই অনুপ্রবেশকারী হিসাবে দেগে দেওয়া হয়।”

ফ্রেট করিডোরের উল্লেখ করে অভিষেক বলেন, বাজেটে যে ডানকুনি ফ্রেট করিডোরের কথা বলা হয়েছে, তা আদতে ২০০৯ সালে তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত।
আরও খবর: ১৫ অগাস্ট নয়, এপ্রিল থেকেই যুবসাথী! বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

বাংলা বকেয়া টাকা আটকে রাখা নিয়েও ভাষণে সুর চড়ান অভিষেক (Abhishek Banerjee)। বলেন, “আমি এমন এক ভারতে বাস করি যেখানে বাংলা বললে বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়। জল জীবন মিশনের টাকা আমার রাজ্যকে দেওয়া হয় না। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় পশ্চিমবঙ্গের পাওনা টাকা আটকে রাখা হয়েছে।” তিনি বলেন, “আমরা একদিকে নিজেদের বিশ্বগুরু বলে দাবি করি। অন্যদিকে বাংলার ১০ কোটি মানুষকে নিজেদের প্রাপ্য করের ভাগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আজও বাংলার ১ লক্ষ কোটি টাকার বেশি আটকে আছে। এটা শুধু টাকা নয়, এটা সম্মানের প্রশ্ন।”

–

–

–

–

–
–

