কার্যত দু’নৌকায় পা দিয়ে চলতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন (Trump Adminstration)। নিজের সুবিধা বুঝে কখনও ভারত (India Pakistan Conflict) কখনও পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছে আমেরিকা। ভারতের সঙ্গে আমেরিকান বাণিজ্যচুক্তির পরেই পাক অধিকৃত কাশ্মীর আকসাই চিনকে ভারতের অংশ হিসেবে দেখিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া মানচিত্র পোস্ট করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। সেই দেখে গোঁসা হয় পাকিস্তানের। তারপরই ইসলামাবাদের ‘মানভঞ্জন’ করতে সেই ম্যাপ ডিলিট করল মার্কিন প্রশাসন।

পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রক জানায়, বিষয়টি নিয়ে তারা সরাসরি ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্রতাহির আন্দ্রাবি বলেন, মানচিত্রে “ভুল” ছিল এবং তা জাতিসংঘ-স্বীকৃত সীমারেখার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাঁর দাবি, জম্মু ও কাশ্মীরের যে আন্তর্জাতিক মানচিত্রে পাকিস্তান ও ভারতের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল আলাদা করে দেখানো রয়েছে, সেটিই আইনি স্বীকৃতি প্রাপ্ত এবং তা আমেরিকার ওয়েবসাইটেও উপলব্ধ। আরও পড়ুন: গঙ্গায় ঝাঁপ যুবকের, সাময়িক বন্ধ আহিরীটোলা ফেরি পরিষেবা

পাকিস্তান আরও জানায়, মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাদের আপত্তির পর বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন করেছে। ইসলামাবাদের বক্তব্য, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব অনুযায়ী জম্মু ও কাশ্মীর একটি বিতর্কিত অঞ্চল, যার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে গণভোটের মাধ্যমে হওয়া উচিত।

তবে ঘটনার প্রেক্ষাপট তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি ভারত ও আমেরিকা এক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সেই চুক্তির ঠিক পরেই মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দফতর ভারতের একটি মানচিত্র শেয়ার করে, যেখানে গোটা জম্মু ও কাশ্মীর—পাকিস্তান অধিকৃত অংশকে ভারতের ম্যাপে চিহ্নিত করেছিল। একই সঙ্গে আকসাই চিনকেও ভারতের ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়, যদিও ওই অঞ্চলকে চিন নিজেদের বলে দাবি করে। দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন কাশ্মীর প্রশ্নে সংবেদনশীল অবস্থান বজায় রেখেছে। সেই প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাকে অনেকেই আমেরিকার অবস্থানের সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছিলেন। তবে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠার মধ্যেই সংশ্লিষ্ট পোস্টটি মুছে দেওয়ায় জল্পনা আপাতত কমেছে।

–

–

–

–

–

–


