স্বাস্থ্য পরিষেবায় AI ব্যবহারে জোর বাড়াচ্ছে কেন্দ্র সরকার। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ঘাটতি কমানো, দ্রুত রোগনির্ণয়, চিকিৎসা ব্যবস্থার লক্ষ্যে একাধিক AI-সমর্থিত উদ্যোগ ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (Press Information Bureau)।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, AI-ভিত্তিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রাথমিক রোগ শনাক্তকরণ ও স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া শক্তিশালী হয়েছে এবং চিকিৎসা সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা বাড়ছে। টেলিমেডিসিন পরিষেবার বিস্তার ঘটায় প্রান্তিক এলাকার রোগীরাও সহজে চিকিৎসা পরামর্শ পাচ্ছেন। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ২৮.২ কোটিরও বেশি টেলিমেডিসিন পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। AI-সহায়ক নির্ণয় ব্যবস্থার মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন প্রায় ১.২ কোটি রোগী। জাতীয় যক্ষ্মা নির্মূল কর্মসূচিতেও AI ব্যবহারের সুফল মিলেছে বলে দাবি করা হয়েছে। প্রতিকূল যক্ষ্মা ফলাফলের হার ২৭ শতাংশ কমেছে এবং ৪,৫০০টির বেশি প্রাদুর্ভাব সংক্রান্ত সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। আরও পড়ুন: পরিকল্পিত ‘এমার্জেন্সি’ ল্যান্ডিং রানওয়ে অসমে: উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

২০১৮ সালে নীতি আয়োগ AI সংক্রান্ত জাতীয় কৌশল প্রকাশ করে, যেখানে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখা হয়। বর্তমানে স্বাস্থ্য খাতের জন্য পৃথক AI কৌশল প্রণয়নের কাজ চলছে মিনিসট্রি অব হেলথ অ্যাণ্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ারের উদ্যোগে। নিরাপত্তা ও মাননিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে একাধিক উৎকর্ষ কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। এআই গবেষণা ও প্রয়োগে নেতৃত্ব দিচ্ছে AIIMS Delhi, PGIMER Chandigarh এবং AIIMS Rishikesh। পাশাপাশি স্বাস্থ্য তথ্যের সুরক্ষা ও নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে আইসিএমআর ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুসরণ করা হচ্ছে।

ন্যাশনাল হেলথ অথোরিটি ও আইআইটি কানপুরের যৌথ উদ্যোগে ন্যাশনাল ফেডারেটেড লার্নিং প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠছে, যেখানে আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশনের তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করে স্বাস্থ্য মডেলের মান যাচাই করা হবে। ২০২৪ সালের মার্চে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ১০,৩৭১.৯২ কোটি টাকার IndiaAI Mission অনুমোদন করেছে। এই মিশনের আওতায় স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে AI-সমর্থিত উদ্ভাবন, অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট ও গবেষণায় বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া আগামী ১৬–২০ ফেব্রুয়ারি নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়া–এআই ইমপ্যাক্ট সামিট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। যেখানে নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তি সংস্থা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন। কেন্দ্রের মতে, রোগ নির্ণয় থেকে জনস্বাস্থ্য নজরদারি—সব ক্ষেত্রেই AI-এর ব্যবহার ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও সাশ্রয়ী, দ্রুত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে।

–

–

–

–

–

–


