অন্তর্বর্তী সরকারের জমানায় আদালতের নির্দেশ বদল করার কোনও অভিসন্ধি এখনও বিএনপি-র নেই, সেটাই স্পষ্ট করে দিলেন বাংলাদেশের ভাবী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)। সেক্ষেত্রে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণে নতুন কোনও পরিবর্তনের পথে যাবে না যে বাংলাদেশের নবগঠিত সরকার, তাও স্পষ্ট করে দিলেন তারেক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে ভারত সফরের জন্য আহ্বান করলেও শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) প্রসঙ্গে যে একচুলও অবস্থান থেকে নড়ছে না বিএনপি, স্পষ্ট হয়ে গেল শনিবারই।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন পাতা ওল্টানো অনেকাংশে নির্ভর করছে শেখ হাসিনা সংক্রান্ত জটিলতায়, শুক্রবার বিপুল জয়ের পরই একাধিক বিএনপি নেতা তা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। এবার প্রথম সাংবাদিক সম্মেলন করে তারেক রহমান স্পষ্ট করে দিলেন তাঁর প্রশাসন সবটাই করবে বাংলাদেশের স্বার্থে। সাংবাদিক বৈঠকে তারেককে প্রশ্ন করা হয়, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কোন দিকে এগোবে? তাঁর প্রশাসন কী বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রাইমস ট্রাইবুনালের দেওয়ার রায়ই বজায় রাখবে? তিনি স্পষ্ট উত্তর দেন, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশীদের স্বার্থরক্ষা করেই তৈরি হবে। সেই সঙ্গে বিদেশ নীতি (foreign policy) এমন হবে যাতে বাংলাদেশের (Bangladesh) নিরাপত্তা কোনওভাবে লঙ্ঘিত না হয়।

স্পষ্টতই, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রাইমস ট্রাইবুনাল তাঁদের রায়ে বাংলাদেশ ২০২৪ গণআন্দোলনে গণহত্যায় দোষী সাব্যস্ত করে। তাঁর মৃত্যু দণ্ডের সাজা শোনানো হয়। এরপরই বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া শুরু করে। সেক্ষেত্রে ভারতীয় সাংবাদিকের প্রশ্ন যে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ও তাঁর উপর প্রযোজ্য আইসিটি-র রায় নিয়েই ছিল তা নিশ্চিত। সেক্ষেত্রে এই রায়ের বিরোধিতা কোনওভাবে বিএনপি করবে কি না তা জানতে চাওয়া হয় ঘুরিয়ে। তারেকের উত্তরে স্পষ্ট তিনি দেশের আদালতের বিরোধিতায় যাচ্ছেন না।

শনিবার তারেকের সাংবাদিক বৈঠকের আগে তাঁর মুখ্য উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, ভারতের মানসিকতার পরিবর্তন হওয়ার সময় এসেছে। তাঁদের শেখ হাসিনাকে ছেড়ে দেওয়ার পথে ও বাংলাদেশে আওয়ামি লীগ বলে কোনও রাজনৈতিক দল নেই বলেই ভাবতে শুরু করতে হবে। এর কারণ হিসাবে তিনি ব্যাখ্যা করেন, বাংলাদেশের মানুষ যেভাবে নির্বাচনে বিএনপি-কে সমর্থন জানিয়েছে, তাঁদের নির্দেশও সেই দিকেই নির্দেশ করে। ঠিক এই কথাই সাংবাদিক বৈঠক থেকে অল্প শব্দে ব্যাখ্যা করেন তারেক রহমান।

আরও পড়ুন : এবার কী হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি? তারেকের সঙ্গে ফোনে কথা মোদির

সেই সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের নিরাপত্তা শেখ হাসিনার সঙ্গে জড়িত এমন যে ইঙ্গিত তারেক সাংবাদিক বৈঠকে দিয়েছেন, তাও আগেই ব্য়াখ্যা করেছেন তাঁর উপদেষ্টা হুমায়ুন। তিনি দাবি করেছেন, ভারতের উচিত শেখ হাসিনার মতো সন্ত্রাসবাদীকে রক্ষা না করা, যিনি দেড় হাজার মানুষকে মেরেছেন। বাংলাদেশকে অশান্ত করতে শেখ হাসিনার সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে ভারতকে যুক্ত থাকতে দেখা যায়নি। তা সত্ত্বেও ভারতের সার্বভৌম মাটিতে আওয়ামি লীগের সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি গেঁড়ে বাংলাদেশকে অশান্ত করার প্রক্রিয়াও মেনে নেওয়া হবে না।

–

–

–

–


