উত্তরবঙ্গের নদীগুলির জলধারণ ক্ষমতা বাড়াতে সেচ দফতর নতুন মডেলে রাজ্যের (West Bengal Govt.) কোষাগার থেকে কোনও খরচ না করিয়েই পলি তোলার কাজ শুরু করতে চলেছে। সেচমন্ত্রী মানস ভূঁইয়া জানান, এই ‘নো কস্ট’ মডেলে বনাঞ্চলের বাইরে মোট ১১৪.৭৬ কিলোমিটার নদীপথে বর্ষার আগেই ড্রেজিং করা হবে। বর্ষার পরে আরও ২৪.৩৫ কিলোমিটার নদীপথে পুনরুজ্জীবনের কাজ হবে। পাশাপাশি বন দফতরের তরফে ৭৮.০৩ কিলোমিটার নদীপথে ড্রেজিংয়ের দায়িত্ব নেওয়া হবে। এর সঙ্গে ভাঙনপ্রবণ নদীতীর ধরে মোট ১৩৬ কিলোমিটার এলাকায় গাছ লাগানো হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে বর্ষার পরে আরও ৬৩ কিলোমিটার এলাকায় বৃক্ষরোপণ করা হবে।

গত বছরের ৪ ও ৫ অক্টোবর প্রবল বৃষ্টিতে ভুটান থেকে নেমে আসা আন্তঃসীমান্ত নদীগুলিতে হড়পা বানের জেরে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় বাঁধ ভাঙন ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এই ব্যবস্থায় নদীর তলদেশ থেকে কত পরিমাণ বালি ও পলি তোলা যাবে, তা নির্ধারণ করবে ওয়েস্ট বেঙ্গল মিনারেল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ট্রেডিং কর্পোরেশন। সর্বোচ্চ দরদাতাকে কাজ দেওয়া হবে। নদী থেকে উত্তোলিত বালি ও পলির উপর রাজ্য প্রিমিয়াম বা রয়্যালটি নেবে, আর সেই অর্থেই ড্রেজিং ও পলি অপসারণের কাজ চালানো হবে। আরও পড়ুন: নিয়োগ নিয়ে বিক্ষোভে টেট পরীক্ষার্থীরা! ধুন্ধুমার বিকাশ ভবন চত্বর

পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি, হাওড়া এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ইতিমধ্যেই এই মডেলে ডি-সিল্টিং প্রকল্প চালু হয়েছে। সেখান থেকে রাজ্যের আয় হয়েছে প্রায় ১৫৪ কোটি টাকা। দফতর সূত্রে খবর, রাজ্য জুড়ে প্রায় ১,৩৪৩ কিলোমিটার নদীপথ জুড়ে ১৫৭টি ড্রেজিং প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখান থেকে প্রায় ৩৯১ কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গের প্রকল্পগুলিও অন্তর্ভুক্ত।

–

–

–

–

–

–

–

