ক্যালেন্ডারের পাতায় ফেব্রুয়ারি শেষ হয়ে মার্চের হাতছানি। আর সেই সঙ্গেই পাহাড়ের আনাচে-কানাচে এখন উৎসবের মেজাজ। কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করেই ভোরের আলো ফোটার আগে জেগে উঠছে দার্জিলিংয়ের বৌদ্ধ মঠ বা ঝুম্বাগুলো। উপলক্ষ তিব্বতি নববর্ষ বা ‘লোসার’। গত এক সপ্তাহ ধরে চলা বিশেষ প্রার্থনার সমাপন আর নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর হুল্লোড়ে মেতেছে গোটা পাহাড়।

তিব্বতিদের কাছে লোসার মানেই নতুন জীবনের সূচনা। শুক্রবার ভোর চারটে থেকেই ঝুম্বাগুলোতে ভিড় জমিয়েছিলেন ভুটিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। পরনে তাঁদের ঐতিহ্যবাহী রঙিন পোশাক ‘বাখু’। শুধু নিজের জন্য মঙ্গলকামনা নয়, এই উৎসবের মূল সুরই হলো বিশ্বশান্তি। গত এক বছরের ভুলত্রুটির জন্য অনুশোচনা আর নতুন বছরে ভগবান বুদ্ধের আশীর্বাদ নেওয়া— এই বিশ্বাসেই সমবেত হয়েছিলেন আবালবৃদ্ধবনিতা। গত সাত দিন ধরে চলা বিশেষ উপাসনা পর্বের সমাপ্তি ঘটল এদিন। ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের সুরে এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি হয়েছিল মঠ চত্বরে।

উৎসবের আমেজ মানেই জিভে জল আনা হরেক পদ। ঠিক যেমন ঈদে সেওয়াই বা বড়দিনে কেক ছাড়া চলে না, তেমনই লোসারের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হলো ‘খাপচো’। এটি এক বিশেষ ধরণের খাবার যা ছাড়া এই উৎসব অসম্পূর্ণ। সকালে উপাসনার পর প্রথমে ইষ্টদেবতাকে এই খাপচো নিবেদন করা হয়। এরপর শুরু হয় ঘরে ঘরে আনন্দোৎসব। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে আত্মীয়-স্বজন ও পড়শিদের নিমন্ত্রণ জানান ভুটিয়া পরিবারের সদস্যরা। পাহাড়ের আতিথেয়তায় এদিন মিশে গিয়েছিল খাপচোর স্বাদ।

তবে কেবল খাওয়াদাওয়া নয়, লোসারের অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো ঐতিহ্যবাহী ‘শিঙ্গা নাচ’। সাধারণত বিয়েবাড়ি বা প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে এই নাচ দেখা গেলেও, লোসারের দিন এর আবেদন থাকে একেবারেই অন্যরকম। রঙিন মুখোশ আর বর্ণময় পোশাকে সজ্জিত হয়ে শিল্পীরা যখন নাচের ছন্দে মেতে ওঠেন, তখন পর্যটকদের ভিড় উপচে পড়ে। সব মিলিয়ে, কেবল ধর্মীয় আচার নয়, লোসার এখন দার্জিলিংয়ের পাহাড়ী সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য এবং বর্ণিল অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন – ঢিল মারতেই এল পাটকেল! সায়ক-কাণ্ড টেনে অনন্যাকে বিঁধলেন রাহুল

_

_

_

_

_
_


